ঢাকা, বুধবার 09 November 2016 ২৫ কার্তিক ১৪২৩, ৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে জয় শুরু চিটাগাং ভাইকিংসের

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিপিএলের শুরুটা ভালো হলোনা চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লাা ভিক্টোরিয়ান্সের। প্রথম ম্যাচেই হার দিয়ে শুরু করতে হয়েছে দলটিকে। তাও আবার ২৯  রানের বড় ব্যাবধানেই। আর চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লাকে হারিয়ে প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পেল তামিমের চিটাগাংয় ভাইকিংস। গতকাল প্রথম ম্যাচে টস জিতে ভাগ্য পরিক্ষায় এগিয়ে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। তবে আগে ব্যাট করার সুযোগ দিয়েছিলেন তামিমের চিটাগাং ভাইকিংসকে। আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে সুযোগটা ভালোই কাজে লাগান অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সামনে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানে বড় স্কোর গড়েন। ফলে জয়ের জন্য কুমিল্লার সামনে  টার্গেট ছিল ১৬২ রান। জয়ের জন্য ১৬২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান করতে পারে কুমিল্লা। ফলে প্রথম ম্যাচেই ২৯ রানের বড় জয় পায় তামিমে চিটাগাং ভাইকিংস। তবে মাত্র ২৪ রানে চার উইকেট নিয়ে কুমিল্লাকে ১৩২ রানে আটকে ফেলা মোহাম্মদ নবীই হন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।
জয়ের জন্য প্রথম ম্যাচে ১৬২ রানের টার্গেটটা খুব বড় ছিলনা চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার সামনে। তবে জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি চ্যাম্পিয়নরা। আর এর শুরুটা ওনেপার ইমরুল কায়েসকে দিয়েই। কারণ  দলীয় ৯ রানেই দলটি হারায় ওপেনার ইমরুল কায়েসের উইকেট। মাত্র ৬ রান করে ফিরেন এই ওপেনার। এরপর দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার লিটন দাস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস। কিন্তু এই জুটিকেও বেশি দূর যেতে দেননি অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ব্যাটিংয়ে  বিপদজনক হয়ে উঠার আগেই স্যামুয়েলসকে ২৩ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৮ বল মোকাবেলা করে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন স্যামুয়েলস। স্যামুয়েলসের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কুমিল্লা। তবে একপ্রান্ত আগলে ধরে রেখেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তাকে ভালো সার্পোট দেয়ার মতো কোন ব্যাটসম্যানই ছিলনা। আসা যাওয়ার মাঝেই ব্যস্ত ছিল বাকি সবাই। ফলে ম্যাচ থেকে ক্রমেই ছিটকে পড়তে থাকে চ্যাম্পিয়নরা। তবে দলকে পরাজয় থেকে বাচাঁতে না পারলেও চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেই মাঠ ছাড়েন শান্ত। দলের পক্ষে ফিফটি করার পর ৫৪ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি। ৪৪ বল খেলে ৬টি চার  দিয়েই ৫৪ রানর ইনিংস সাজান তিনি। দলের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান আসে আট নম্বরে  নামা আল-আমিনের ব্যাট থেকে। ফলে ৮ উইকেটে ১৩২ রান করতে পারে কুমিল্লা। বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন চিটাগাং-এর আফগানিস্তানের খেলোয়াড় মোহাম্মদ নবী। লিটন দাসকে আউট করার মধ্যে দিয়ে প্রথম উইকেট পান নবী। এর পর জাহেদী, আল-আমিন আর সোহেল তানভরিকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ম্যাচেই বোলিং চমকে দলকে জয় এনে দেন মোহাম্মদ নবী। এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধণী জুটিতে তামিমের সাথে ৩৬ রানের পার্টনাশীপ গড়ে আউট হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন স্মিথ। বিদায়ের আগে ১৫ বলে ৯ রান করেন স্মিথ। স্মিথ আউট হলেও তবে দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। আর বিপিএলের প্রথম ম্যাচেই তুলে নেন আসরের প্রথম ফিফটি। তবে হাফ সেঞ্চুরি করার পর আর বেশি সময় টিকতে পারেননি তামিম্। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৫৪ রান করে রান আউটের ফাঁদে পড়ে ফিরেন তিনি। ফলে দলীয় ৮০ রানে দলটি হারায় প্রথম দুই উইকেট। তামিমের বিদায়ের পর টিকে থাকতে পারেননি  ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা এনামুল হক বিজয়। ব্যক্তিগত ২২ রানে থামেন বিজয়। দলীয় ১০১ রানে বিজয়ের বিদায়ের পর আর উইকেট হারাতে হয়নি দলটিকে। দলের কারণ পাকিস্তানের শোয়েব মালিক ও জহিরুল ইসলাম মিলে দলকে ১৬১ রানেই নিয়ে অপরাজিত থেকেই মাঠ চাড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে এই দু’ব্যাটসম্যান ৪১ বলে ৬০ রানের জুটি গড়েন। মালিক ২টি করে চার ও ছক্কায় ২৮ বলে ৪২ রানে এবং জহিরুল  ৩টি বাউন্ডারিতে ২১ বলে ২৯ রান করেন। কুমিল্লার পক্ষে পাকিস্তানের খেলোয়াড় ইমাদ ওয়াসিম ১টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
চিটাগাং ভাইকিংস : ১৬১/৩, ২০ ওভার (তামিম ৫৪, মালিক ৪২*, জহিরুল ২৯*, ওয়াসিম ১/২২)।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ১৩২/৮, ২০ ওভার (শান্ত ৫৪*, স্যামুয়েলস ২৩, আল-আমিন ১৪, নবী ৪/২৪)।
ফল : চিটাগাং ভাইকিংস ২৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ নবী (চিটাগাং ভাইকিংস)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ