ঢাকা, বুধবার 09 November 2016 ২৫ কার্তিক ১৪২৩, ৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আদমদীঘিতে শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতাঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নের কৃষক এখন পুরোদমে শীতকালীন সবজি আবাদে ব্যস্ত।
গেল মওসুমে অকাল বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এবার আগের ক্ষতিটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আশায় বুক বেঁধেছেন। তবে বিরূপ আবহাওয়ার ভয় তাদের পিছু ছাড়ছে না ভয় থেকেই যাচ্ছে। কৃষকরা মনে করছেন, কেবল আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মওসুমের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩শ ২৯ হেক্টর জমির সবজি। যার ক্ষতি পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকা। মওসুমের শুরুতেই উপজেলার সব ইউনিয়ন মিলে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৬০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজার হেক্টরে। চলতি মওসুমে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন সবজির উৎপাদন হবে।
উপজেলার কোমারপুর গ্রামের সবজি চাষি খালেক মিয়া জানান, গত বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করেছিলেন। বন্যায় তার প্রায় দুই লাখ টাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এবার তিনি ওই জমিতে আবার ফুল কপির আবাদ করেছেন। জমি তৈরি, সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি শ্রমিক সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে বিঘাপ্রতি ১লাখ টাকা করে লাভ পাওয়া যাবে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে এখন নানা জাতের সবজির আবাদ চলছে। তবে, আগাম জাতের সবজি ইতিমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় চাষিরা আবাদ করেছেন লাউ, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লালশাক, পালংশাক, ধনিয়া, ঢেঁড়শ, বরবটি, টমেটো ও বেগুন। উপজেলার কাশিমালা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, ফলন ভাল হলে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। স্থানীয় চাষিরা সারা বছরই সবজি চাষের সাথে জড়িত। সবজির আবাদ করেই কৃষকরা সংসারের যাবতীয় খরচ চালিয়ে আসছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে সার বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। এবার সবজির বাম্পার ফলন সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে লভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ