ঢাকা, বুধবার 09 November 2016 ২৫ কার্তিক ১৪২৩, ৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুদকের জালে কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী

খুলনা অফিস : অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে চলতি বছরের ৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করে দুদক। গত ১৬ মে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত ৭ মাস ধরে তদন্ত কর্মকর্তা তার সময় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল তলব ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে মশিউজ্জামান খানের নিজের, স্ত্রী ও দুই কন্যার নামে তথ্য নিতে বিভিন্ন ব্যাংক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং  কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়গুলো নিয়ে তাদের তদন্ত অব্যাহত আছে।
 কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের একাংশ, নগরীর ভেতরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, টাউন মসজিদের মিনার নির্মাণ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে মেয়রের দপ্তর সংস্কারে অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পগুলো যাচাই বাছাই করে তিনটি বিষয় অনুসন্ধানের জন্য বেছে নেয় দুদক।
সূত্রটি জানায়, চলতি বছরের ৪  মে তিনটি বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১)  শেখ আব্দুস সালামকে। ১৬ মে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি দুটি প্রকল্পের ফাইল ও মশিউজ্জামান খানের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০  মে  কেসিসি’র প্রশাসনিক শাখা চিঠিটি হাতে পায় এবং পূর্ত বিভাগে   প্রেরণ করে। চিঠি হাতে পেয়ে কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ২৩ মে ঢাকায় যান। ২৪ মে তারা দুদক প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তার কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দেন। ওইদিন বিকেলেই তিনি খুলনার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
এদিকে প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য  শোনার সঙ্গে সঙ্গে গত ১৯ জুন বিভিন্ন ব্যাংকের খুলনা শাখায় চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা। চিঠিতে শাখা কর্মকর্তাদেরকে নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার নামে ব্যাংকের শাখায় কোনো হিসাব (সঞ্চয়, এফডিআর, মেয়াদী) পরিচালিত হচ্ছে কি-না, হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে সংশি¬ষ্ট হিসাবের হিসাব  খোলার ফরম, নমুনা স্বাক্ষর কার্ড, কেওয়াইসি ও ব্যাংক হিসাব বিবরণীর সত্যায়িত ছায়ালিপি পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া ১৬ জুন আরেকটি চিঠিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মশিউজ্জামান খান ও পরিবারের নামে দোকান, নির্মিত বাড়ির হোল্ডিংয়ের ট্যাক্স ও পৌরকর পরিশোধ করা হয় কি-না, হয়ে থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যাদি চেয়ে পাঠানো হয়। একইভাবে চিঠি পাঠানো হয় সকল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে।
এ ব্যাপারে দুদকের উপ-পরিচালক শেখ আবদুস সালাম জানান, বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। এজন্য এবিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ