ঢাকা, বুধবার 09 November 2016 ২৫ কার্তিক ১৪২৩, ৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় বসবাসরত উপজাতিদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় বসবাসরত উপজাতিদের উচ্ছেদের নামে প্রায় ৩ হাজার বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বলে উপজাতিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান অগ্নিসংযোগের ঘটনা অস্বীকার করে বলেছেন কেবা কারা অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই।
জানা গেছে, গত ৬ মাস আগে উপজাতিরা রংপুর চিনিকলের দখলে থাকা সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকার প্রায় ৯শ’ একর জমি শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল। এ নিয়ে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও উপজাতিদের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কয়েকবার উপজাতিদের উচ্ছেদের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গতকাল রোববার বেলা আনুমানিক ১১টায় চিনিকলের লোকজন পুলিশ নিয়ে আখ কাটতে গেলে উপজাতিরা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ উপজাতিদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে প্রায় ১০ উপজাতি গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় উপজাতিরাও পাল্টা তীর ছুড়লে প্রায় ৮ পুলিশ তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। আহত পুলিশদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হলেও আহত উপজাতিদের হাসপাতালে দেখা যায়নি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলেও পুলিশ শক্তি বৃদ্ধি করে বিকাল সাড়ে ৪টায় অ্যাকশনে যায়। উপজাতিদের অভিযোগ পুলিশ গুলি ছোড়া সহ তাদের নির্মিত বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তেই তাদের প্রায় ৩ হাজার বাড়ি ঘর আগুনের লেলিহান শিখায় দাউদাউ করে জ্বলে উঠে।
তখন নারী পুরুষের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। উপজাতিরা আরো অভিযোগ করেন তাদের পালিত হাস-মুরগী, গরু-ছাগল, শূকর, কৃষি যন্ত্রপাতি সহ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেইসাথে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান মোবাইলে পুলিশ কর্তৃক অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি অস্বীকার করে জানান কে-বা কারা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান করা হয়েছে। ঘটনার সময় কাউকে কোন ছবি তুলতে দেয়া হয়নি।
এ ঘটনায় মোবাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসির বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলে ওসি মোবাইল রিসিভ করেননি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেেেখছে। এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ