ঢাকা, শুক্রবার 11 November 2016 ২৭ কার্তিক ১৪২৩, ১০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুঁথিপত্র

বিশ্বায়ন : সাম্রাজ্যবাদের নতুন স্ট্রাটেজী
মূল : ইয়াসির নাদীম
অনুবাদ : শহীদুল ইসলাম ফারুকী
প্রকাশক : প্রফেসর’স পাবলিকেশন্স
মগবাজার, ঢাকা

বিশ্বায়ন : সাম্রাজ্যবাদের নতুন স্ট্রাটেজী
আলোচ্য গ্রন্থটিতে ভারতের বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন, উদীয়মান সাংবাদিক ও লেখক জনাব ইয়াসির নাদীম বিশ্বায়ন নিয়ে পাশ্চাত্য সা¤্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করেছেন। মূল বইটি ‘গ্লোবালাইজেশন আওর ইসলাম’ নামে উর্দু ভাষায় লিখিত এবং এটি অনুবাদ করেছেন শহীদুল ইসলাম ফারুকী।
বিশ্বায়ন পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা, সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, জীবনের চালচলন, রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠানের অবকাঠামোর নাম যা গোটা দুনিয়ার ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া হবে এবং লোকদেরকে তার চিত্রিত সীমারেখার মধ্যে জীবন যাপন করতে বাধ্য করা হবে।
গ্রন্থটিতে বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক ভূমিকার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অবশ্য লেখক প্রকান্তরে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোসর হিসেবে কাজ করছে ইউরোপ-আমেরিকায় বিভিন্ন সহযোগী দেশ। কারণ ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম নিজেদের সেক্যুলার নীতি বাস্তবায়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে এদের মধ্যে মূলত: কোন বিরোধ নেই। সমকামিতা, নারী-পুরুষের অবাধ যৌনাচার ও সমলিঙ্গের বিয়ে প্রভৃতি ক্ষেত্রে এসব দেশের কোন মতানৈক্য নেই- এদের মতৈক্য রয়েছে ইসলামী বিশ্বের স্বার্থ রুখতে যৌথ যোগসাজশের ক্ষেত্রে।
লেখক বলেছেন, মহানবীর (সা.) তিরোধানের পর খোলাফায়ে রাশেদা এবং তৎপরবর্তীকালে ইসলাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসলমানরা তদানীন্তন পৃথিবীর দুটি শক্তিশালী সা¤্রাজ্য- পারস্য ও রোম সা¤্রাজ্যকেও পরাভূত করে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন করে। অতঃপর ইসলামকে নির্মূল করার লক্ষ্যে তারা ‘ক্রুসেড’- তথা খৃস্টীয় ধর্মযুদ্ধের সূচনা করেও পরাভূত হয়। লেখক মনে করেন, ইসলামী বিশ্বের প্রখ্যাত গবেষক ড. এডওয়ার্ড সাঈদ ও ড. আনোয়ার আব্দুল মালেকের মতে, ১৯৭৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রাচ্যবিদদের ঊনিশতম বিশ্ব সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ প্রাচ্যবিদ বার্নার্ড লুইস বলেন, এখন আমাদেরকে ওরিয়েন্টালিজম তথা প্রাচ্যতত্ব নিয়ে গবেষণার ভাষা ইতিহাসের গর্ভে বিলীন করে দেয়া উচিত। সুতরাং উক্ত সম্মেলনে এই পরিভাষা বাদ দেয়া হয় এবং নতুন পরিভাষা ব্যবহারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর ওরিয়েন্টালিজম তথা প্রাচ্যতত্ত্ববিদ্যার নতুন রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এই নতুন পরিভাষা গ্লোবালাইজেশন তথা বিশ্বায়নের নামে বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করে। পার্থক্য এতটুকু আগে প্রাচ্যবিদদের টার্গেট ছিল শুধু ইসলাম, আর এখন বিশ্বায়নের টার্গেট হল দুনিয়ার সকল ধর্ম। ইসলামে বিশ্বায়ন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ও শক্তি পূর্ণমাত্রায় থাকলেও অন্যান্য ধর্মের এই শক্তি নেই। পূর্বে প্রাচ্যবিদদের কর্মক্ষেত্র ছিল শুধু ধর্ম ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। আর এবার বিশ্বায়নের কর্মক্ষেত্র হল ধর্ম এবং তৎসংশ্লিষ্ট অর্থনীতি ও রাজনীতি। বিশ্বায়নের এই পরিভাষা ওরিয়েন্টালিজম ও সা¤্রাজ্যবাদ উভয়কে এক করে দিয়েছে। অতীতে উভয়ের লক্ষ্য এক ছিল- পথ ছিল আলাদা। কিন্তু আজকের বিশ্বায়নের লক্ষ্যও এক এবং লক্ষ্যে পৌঁছার পথও এক।
গ্রন্থটিতে বিশ্বায়নের বিভিন্ন প্রভাব বলয়ের রূপরেখা উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থে উল্লেখিত আরবি ভাষার উপর ইংরেজির প্রভাব বিষয়টি বাংলাদেশের সাহিত্যিকে সাংবাদিকদের (অন্ততঃ যারা আরবি জানেন না) অজানা ছিল। বাংলাভাষী সংস্কৃতিসেবীরা এই গ্রন্থপাঠের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারবেন।
এভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বিশ্বায়নের প্রভাব, ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বায়ন প্রভৃতি নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে গ্রন্থটিতে।
মোট কথা, এ গ্রন্থে বাংলা ভাষায় আধুনিক সভ্যতার একটি সর্বপ্লাবী পরিভাষা- বিশ্বায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং পাশ্চাত্যের সা¤্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রকৃতি জানতে হলে এ গ্রন্থ পাঠের কোন বিকল্প নেই। বইটিতে বেশ কিছু ভাষার দুর্বলতা ও প্রুফে ভুল থাকলেও মগবাজারের প্রফেসর’স পাবলিকেশন্স সুন্দরভাবে বইটি প্রকাশ করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।  -শেখ এনামুল হক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ