ঢাকা, শুক্রবার 11 November 2016 ২৭ কার্তিক ১৪২৩, ১০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার অবধারিত সুযোগ

মো. আবুল হাসান/খন রঞ্জন রায় : গ্রাম শব্দটি মূলত সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত। লোকমুখে এই গ্রাম ‘গেরাম’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ‘গেরাম’ ‘গাঁও’, ‘গাঞি’, ‘গাঁ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুশাসন মেনে এ শব্দ ‘গ্রামে’ রূপান্তরিত হয়েছে। গ্রাম সম্পর্কে রাধাকুমুদ মুখার্জীর মতে, পল্লী হচ্ছে আর্যজন বহির্ভূত একটি ক্ষুদ্র বসতি। 

মার্কণ্ডেয়-পুরাণের মতে, “যে ভূখণ্ডে শুদ্রগণ ও সমৃদ্ধশালী কৃষকেরা বাস করে তার নাম গ্রাম।” ইতিহাস পণ্ডিত নীহারঞ্জন রায় এর একটি চমৎকার উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে। “কৃষিজীবী সমাজে নতুন গ্রামের যখন পত্তন হয়, তখন প্রথমেই বৃহৎ বসতি ও ক্ষেত্রভূমি লইয়া গ্রামের পত্তন হয়; তাহার পর গ্রামের লোকবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই কয়েকটি বাড়ি ও ক্ষেত্রভূমিকে কেন্দ্র করিয়া দুয়েরই ক্রমবিস্তার ঘটিতে থাকে।” অক্সফোর্ড ডিকশেনারিতে গ্রামের প্রতিশব্দ হিসাবে ভিলেজ Village বলা হয়েছে। 

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে এবং দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার ফলে পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। আমরা এখন অতি অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর কোথায় কী ঘটছে তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারি। পৃথিবীর দেশগুলোকে যেন গ্রামের পরিবারের সমন্বয় বলে মনে হয়। এমনকি তারা তাদের সুখ-দুঃখ পাশাপাশি প্রতিবেশীর মতো বিনিময় করছে। যদি কোনো দেশ সমস্যায় পড়ে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তার সাহায্যে দ্রুত এগিয়ে আসছে। 

কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক, যোগাযোগ তত্ত্ববিদ হারবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান (Herbert Marshall McLuchan) ১৯৬২ সালে The Gutenberg Galaxy ও ১৯৬৪ সালে Understanding Media নামক দুটি বই যে সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ কথাটি ব্যবহার করেন। এজন্য তাকে বিশ্বগ্রাম-এর জনক বলা হয়। বিশ্বগ্রামের মূলকথা হলো বর্তমান বিশ্বকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে একটি গ্রামে পরিণত করা। আমরা আমাদের অনুভূতিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছি। পৃথিবীব্যাপী স্বল্প সময়ে এই যোগাযোগ সুবিধার ফলেই বিশ্বকে একটি গ্রাম হিসেবে তুলনা করা হচ্ছে। এজন্য বর্তমান বিশ্বকে গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম বলা হয়।  

কৌটিল্য’র মতে, গ্রামের সীমা নির্ধারিত হবার একটি ধারা আছে। গ্রামের সীমারেখা চিহ্নিত হবে নদী, পাহাড়, সেতুবন্ধ (সেতুবন্ধ বলতে উঁচু আইলের বেষ্টনী বোঝায়) অথবা শমি, শালমলী এবং ক্ষীরবৃক্ষের দ্বারা। অর্থাৎ কোনো প্রাকৃতিক অবয়বকে ঘিরে সীমারেখা গড়ে উঠবে। এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ছাড়াও কখনো কখনো রাস্তাঘাট, মাঠ ইত্যাদির আলোকে গ্রামের সীমা নির্ধারিত হতে দেখা যায়। প্রাচীন লিপিতে গ্রামগুলোর আপেক্ষিক আয়তন সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে। রাজা লক্ষণ সেনের তর্পণদীঘি লিপিতে বিক্রমপুর অন্তর্গত বেলহিষ্ঠী গ্রামের আয়তন ১২০ আঢাবাপ ৫ উন্মান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলাবাহুল্য, এসব আয়তনের এককগুলোর ব্যাখ্যা অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় না।

একটি গ্রাম কত বড় হয়ে সীমানার ব্যাপ্তি ঘটাবে এ সম্পর্কে প্রাচীন কিছু বিবরণীর উল্লেখ আছে। কৃষককুল অধ্যুষিত একশর কম নয় এবং পাঁচশর বেশি নয় এমন পরিবার-বিশিষ্ট গ্রামের পত্তন হবে এক থেকে দু’ ক্রোশব্যাপী সীমানা নিয়ে। আপস্তম্ভ ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দু’তিন ঘর থেকে আরম্ভ করে যেকোনো সংখ্যক বাড়ি নিয়ে একখানা গ্রাম গড়ে উঠতে পারে। সাধারণভাবে গ্রামের জনসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। বাংলাদেশে তেঘরিয়া, পাঁচঘরিয়া, সাতঘরিয়া প্রভৃতি গ্রামের নাম এ ধরনের গ্রাম বিন্যাসের সাক্ষ্য বহন করে।

‘মহাভারতে’ গ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায়। একটি গ্রামের প্রশাসনিক দায়িত্ব যার ওপর থাকতো তিনি হলেন ‘গ্রামিণী’। একজন গ্রামিণীর ক্ষমতা একটি গ্রামের চতুর্দিকে প্রায় দু’মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। এভাবে প্রতি দশ গ্রামের ভার থাকতো ‘দশ-গ্রামিণী’র ওপর। মনে করা হয়, এই দশ-গ্রামিণী ছিলো আন্তঃগ্রাম পর্যায়ের প্রথম কাঠামো। এর পরের ধাপে ছিলো ‘বিংশতিতার’; এর আওতায় পড়তো কুড়িটি গ্রাম। একশত গ্রামের ভার ছিলো ‘গ্রাম-শতাদষ’- এর ওপর, এভাবে সর্বশেষে এক হাজার গ্রামের দায়িত্ব ছিলো ‘অধিপতির’র ওপর। 

বর্তমান বাংলাদেশ গ্রামীণ প্রধান এবং এদেশের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক। পলি মাটি গঠিত সমভূমির  দেশ হলেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ সয়ম্ভর নয়। প্রতি বছর দেশের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানি করতে সরকারকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। ব্রিটিশদের আগমনের আগে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম ছিল স্বয়ম্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রায় ২০০ বছর ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, বঞ্চনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। 

কোন সম্প্রদায়ের মানুষ জীবন ধারণের জন্য দু’বেলা পেট ভরে খেতে পায় না, আশ্রয়ের অভাব, বাসস্থানের অভাব, পরিচ্ছদের অভাব, ন্যূনতম মর্যাদার অভাব প্রভৃতি মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে অক্ষম এবং মানবেতর জীবন যাপন করে তাদেরকে দরিদ্র মানুষ বলে। এদেশে গ্রামের প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষ প্রতি দিন ন্যূনতম প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করে, ৬০ শতাংশ পরিবার প্রয়োজনীয় প্রোটিন পায় না, শতকরা ৭০ জন মানুষ রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে। এদেশে ছোট কৃষক, বর্গাচাষী ও কারিগর শ্রেণীর লোক দরিদ্র, তারা একবেলা খেয়ে আর একবেলা না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকমে জীবনযাপন করছে। আর ভূমিহীন মানুষরা চরম দারিদ্র্য ব্যক্তি, এরা খেটে খাওয়া মানুষ, এদের কাজের কোন নিশ্চয়তা নাই, কাজ পেলেও এদের মজুরি খুবই কম এবং কাজ না পেলে এরা পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে না খেয়ে বা আধাপেটে খেয়ে জীবন অতিবাহিত করে। 

১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পর বাংলাদেশের কৃষকরা পাকিস্তানী শাসকদের শোষণে জর্জরিত ও বঞ্চিত হতে থাকে। বাংলাদেশের কৃষকরা শিল্পের কাঁচামাল স্বল্পমূল্যে পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্প মালিকদের কাছে সরবরাহ করতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানী শাসন আমলেও বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য কোন উদ্যোগ বা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় নাই। জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকায় চারিদিকে অভাব, অনটন কৃষকদের দিশেহারা করে ফেলে। উফশী বীজ সংগ্রহ, কীটনাশকদ্রব্য ব্যবহার, সেচ যন্ত্র, কলের লাঙ্গল, প্রভৃতি আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহের জন্য ভর্তুকি না থাকায় কৃষকরা প্রাচীন কাঠের লাঙ্গল ও বলদ ব্যবহার করে চাষাবাদ করতে থাকে, ফলে উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস পায়। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তরুণদের গুলি করে মারা, ফসলের জমি ও ঘর-বাড়ি পুঁড়িয়ে ফেলায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যুদ্ধের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা গ্রামীণ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে।

এরপর থেকে নতুন করে পথ চলা শুরু হয়। বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা নিরূপণে বিজ্ঞান সম্মত কোন গবেষণা কর হয়নি। ১৯৭৬ সালে ৮ এপ্রিল ময়মনসিংহে এক জনসভায় মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষণা করেন ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’, সেই থেকে ৬৮ হাজার গ্রামের সংখ্যা সরকারি/  বেসরকারিভাবে স্বীকৃতি পায়। ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল বাংলাদেশের এক তথ্যবহুল গবেষণায় জানা যায় দেশে বড় মাঝারি মিলে বর্তমানে ৯৬ হাজার ৭১৩টি গ্রাম রয়েছে স্বাধীনতার পর থেকে এদেশে গ্রাম উন্নয়নে অনেক গবেষণা পরিকল্পনা কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয়, বিদেশ থেকে কোটি কোটি ডলার খয়রাতি সাহায্য গ্রহণ রাশভারি ভাষণ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে কিছু লোক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও বাস্তবে এই দেশের গ্রামবাসীর ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গ্রামের কৃষক জেলে, তাঁতি, কামার-কুমারদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর রীতি গ্রহণ করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। নার্সারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত ১২ বছর শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে বসতভিটা, চাষি জমি, হালের বলদ, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। তাদের আশা থাকে সন্তান শিক্ষা সমাপণ করে একটি কাজের সন্ধান পাবে। সংসারের হাল ধরবে। বাস্তবে প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে এই সন্তান বেকার জীবন কাটায়।

বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি ও জাতীয় অভিশাপ। এ বেকারত্ব থেকে জন্ম নেয় হতাশা। আর হতাশা থেকে সৃষ্টি হয় ক্রোধ, ঘৃণা, অবহেলা, কাজে অনীহা, দাম্পত্য জীবনে কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, মাদকাসক্ত, হত্যা, আত্মহত্যা, গুম ও এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক পরিবর্তন ইত্যাদি। এতে মানবিক গুণাবলী বিনষ্ট হয়। মানুষের আচরণ হয় হিংস্র বন্য পশু ও বিষাক্ত সাপের মতো যখন যাকে পায় তাকে দংশন করে। বেকারত্বকে পরিবেশ দূষণ ও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। একজন বেকার মানুষ কখনও স্বাধীনচেতা হয় না, তার থাকে না আত্মসম্মানবোধ। অন্যের শ্রদ্ধা পাওয়া যেমন তার জন্য কঠিন তেমনি তার দেয়া শ্রদ্ধা, ¯েœহ ও ভালবাসা মূল্যায়িত হয় না। পরিবার, সমাজ তথা দেশে তাদের অবস্থান আগাছা কিংবা বোঝার মতো। তবে সুযোগ ও সুবিধা মতো তারা রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

এইভাবে স্বাধীনতার ৪৬ বছরে পিতা-মাতা-নিজ সন্তান ৪৬টি প্রজন্মকে হতাশায় ফেলার খেসারত আমরা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ এই তরুণদের এসএসসি পাশের পর ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দিতে পারলে নিজ পরিবার গ্রাম সমাজ জাতির নৈতিক স্থলন থেকে রক্ষা পেত। কর্মের মাধ্যমে  স্বনির্ভর গ্রাম প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারতো। ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ যেকোনো দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বর্তমান সময়ে শুধু কায়িক শ্রমের মূল্য প্রায় নেই বললেই চলে। ন্যূনতম ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলেই শুধু কারো পক্ষে শ্রমবাজারের বর্তমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব। আমাদের দুর্ভাগ্য, দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্লোমা শিক্ষা উন্নয়নে রাষ্ট্রের সীমাহীন অবহেলাই আমরা দেখে এসেছি। ফলে আমাদের জনশক্তির প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষতা প্রায় শূন্যের কোটায়। আর জনশক্তি সম্পদ না হয়ে ক্রমেই বোঝার পরিণত হয়েছে। 

প্রতিবছর প্রায় ১৪ লাখ ছেলে-মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এই বিপুল সংখ্যক তরুণদের ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থায় কোন সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেনি। তরুণদের ব্যাপকভাবে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, মেডিকেল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

রাবার, মোবাইল ব্যাংকিং, এয়ারহোস্টেজ, পর্যটন, সাংবাদিকতা, বিমান পরিচালনা, সাবমেরিন, মহাকাশযান, নিউক্লিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সসহ সকল পণ্য ও পেশায় কমপক্ষে ৫০০ (পাঁচশত) নতুন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করতে হবে। ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে বিদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। 

ভিলেজ ভিশন ২০৫০ অনুসারে প্রতিটি গ্রামে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী দক্ষজনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে গড়ে নিম্নোক্ত হারে মোট জনশক্তির প্রয়োজন হবে। খাদ্য উৎপাদনে- ৫২, কৃষি ব্যবস্থাপনা- ৩২, প্রকৌশল উন্নয়ন- ৮৮, চিকিৎসা নিরাপত্তা- ১১২, যোগাযোগ ক্ষেত্রে- ৩২, শিক্ষা সম্ভাবনায়- ৭২, বস্ত্র খাতে- ২১, শিল্প খাতে- ১১০, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স- ২০, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায়- ৪০, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে- ৯০, ক্রীড়া সাফল্যে- ৩০০, জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদে- ৫৫, অন্যান্য- ৫০, জননিরাপত্তায়- ৫০। মোট এক হাজার ১২৪ জন ডিপ্লোমা ডিগ্রি ধারীদের মেধা ও শ্রমে প্রতিটি গ্রাম খাদ্য, কৃষি, চিকিৎসা, যোগাযোগ, শিক্ষা, বস্ত্র, শিল্প, দুর্যোগ, বর্জ নিষ্কাশন, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, জননিরাপত্তায় মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে। প্রতিটি গ্রামে এক একটি আধুনিক উপশহরে পরিণত হবে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৫০-৬০ হাজার ডলারে উন্নতি ঘটবে। গড় আয়ু শত বছর অতিক্রম করে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ