ঢাকা, শনিবার 12 November 2016 ২৮ কার্তিক ১৪২৩, ১১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জলবায়ু তহবিলের অনুদান ফেরত নিচ্ছে ব্রিটেন

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশকে দেয়া জলবায়ু তহবিলের ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড ফেরত নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। অর্থ সরবরাহের শর্ত নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তির কারণেই এই বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে বলে প্রতিবেদন ছেপেছে ব্রিটেনের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

পত্রিকাটির বৃহস্পতিবারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদানের ঘোষণা দেয় ব্রিটিশ সরকার। অনুমোদন করা অর্থ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বাংলাদেশ গ্রহণ করলেও মূলত অর্থ সরবরাহের মাধ্যম হিসেবে বিশ্বব্যাংকের অন্তর্ভুক্তি মেনে নেয়নি বাংলাদেশ। তাই বরাদ্দের অর্থ খরচ করেনি বাংলাদেশ। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের সুরাহা না হওয়ায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ডিএফআইডি’র ছাড় করা ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড অর্থ ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য।

প্রতিবেদনে দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবকে দায়ী করে ডিএফআইডি জলবায়ু পরিবর্তনে বরাদ্দকৃত তহবিল বাংলাদেশকে সরাসরি না দিয়ে ২০১০ সালে গঠিত ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা তহবিল’ এর বহুমুখী দাতা হিসেবে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান বরাদ্দ দিয়েছিলো। কিন্তু বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী শর্ত আরোপ করায় শুরুতে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারেনি। তবে পরবর্তীতে অনুদান গ্রহণে সম্মত হয়েছিল। 

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয় পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক যখন ৭৬৪ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ ফিরিয়ে নেয় তখন থেকে। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে কোনো অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোর হয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক কমিউনিটির শর্ত আরোপ করা কোনো দান গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। 

এদিকে বিশ্বব্যাংক তাদের বিবৃতিতে বলেছে, অনুদানের শর্ত অনুয়ায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে এই অর্থ খরচ করা প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে দাতা সংস্থা ডিএফআইডি অব্যবহৃত এই অর্থ ফেরত চেয়েছে। কারণ অলস এই অর্থ অন্য খাতে খরচ করতে চায় তারা। দাতাদের অনুরোধে অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শেষ করেছে বিশ্বব্যাংক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ