ঢাকা, শনিবার 12 November 2016 ২৮ কার্তিক ১৪২৩, ১১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর হামলা চরম অমানবিক

স্টাফ রিপোর্টার : গাইবান্ধায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, সেখানে যে হত্যাকা- ও লুটের ঘটনা ঘটেছে, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এ রকম একটি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করার মতো ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশে ঘটতে পারে, তা প্রত্যক্ষ করলে আমাদের গা শিউরে ওঠে।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ও বাগদা ফার্ম এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল, প্রবীণ লেখক- কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ প্রমুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের পরিচালনায় এ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।

সুলতানা কামাল বলেন, আমরা যদি নিজেদের মানুষ হিসেবে মনে করি, তাহলে আরও যেসব মানুষের অধিকার হরণ হচ্ছে, তাহলে এটার বিরুদ্ধে দাঁড়াব। আমরা জোর গলায় বলতে চাই, এই মানুষেরা ঠিক যে অবস্থায় ছিল, সেই জায়গায় তাদের ফিরিয়ে আনা হোক। তাদের ত্রাণের আওতায় না এনে ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। যাতে তারা যেভাবে জীবন চালাচ্ছিল, অন্তত সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারে। তিনি আরো বলেন, গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে যে হত্যাকা- ও লুটের ঘটনা ঘটেছে, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এ রকম একটি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করার মতো ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশে ঘটতে পারে, তা প্রত্যক্ষ করলে আমাদের গা শিউরে ওঠে।

 সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, যদি কোথাও কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, তবে সেটা মোকাবিলার জন্য তো পুলিশ রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে যেকোনো হামলার একটি নতুন আলামত দেখা যাচ্ছে, যেটা পাকিস্তান আমলে ঘটেছিল। আমরা নাসিরনগরে দেখেছি এবং গাইবান্ধায় দেখলাম, পুলিশ যেখানে যাচ্ছে, সেখানে তাদের সঙ্গে একটি অক্সিলারি (সাহায্যকারী) বাহিনী থাকছে। যেভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সৈন্যের সঙ্গে আলবদর ও রাজাকার বাহিনীরা থাকত। তারা লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ সবকিছু করছে। এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজ।

লিখিত বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, গত ৬ ও ৭ নবেম্বর গাইবান্ধা জেলার সাহেবগঞ্জ ও বাগদা ফার্ম এলাকায় পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনী ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ ও বাঙালী কৃষকদের ওপর আক্রমণ চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতে চিনিকল মালিকের সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। পুলিশের গুলীতে চারজন সাঁওতাল নিহত হন। তারা হলেন শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু এবং একজন সাঁওতাল নারী, যার নাম জানা যায়নি।

সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত; মিল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির তদন্ত ; নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিজ ভূমিতে বসবাসের নিশ্চয়তা; ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ