ঢাকা, শনিবার 12 November 2016 ২৮ কার্তিক ১৪২৩, ১১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছেলেকে দেখতে গিয়ে লাশ হলেন মা

স্টাফ রিপোর্টার : ছোট ছেলেকে দেখতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন মা ও বড় ছেলের মেয়ে। রাজধানীর তুরাগ থানার প্রত্যাশা ব্রিজসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মারা যান রেজিয়া বেগম (৭০) এবং তার নাতনী ইতি মণি (৩)। গতকাল শুক্রবার দুপুর নাগাদ তাদের লাশ বুঝে পায়নি স্বজনরা। 

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রেজিয়া বেগমের ছোট ছেলে ইসমাঈল প্রতাশ্যা ব্রিজের কাছে তালতলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় নূরানী পড়েন। রেজিয়া বেগম প্রতি বৃহস্পতিবার তাকে দেখতে ওই মাদ্রাসায় যেতেন। তবে এবার তাকে দেখার আগেই বাসচাপায় প্রাণ হারাতে হয় রেজিয়া বেগম ও তার নাতনী ইতি মণিকে। পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জেমস উথান রায় জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় টঙ্গী থেকে ঢাকাগামী হাসান সৈকত নামে একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৬৬২৩) রেজিয়া বেগম এবং তার নাতনী ইতি মণিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে বাসটি আটক করা গেলেও এর চালক পালিয়ে যায় বলে জানান জেমস উথান।

এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত রেজিয়া বেগমের বড় ছেলে মো. ইব্রাহীম বলেন, আমার বাপ জামাল উদ্দিন অনেক দিন আগেই মরে গেছেন। আমরা দুই ভাই এক বোন। বাপ মরে যাওয়ার পর এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করে মা আমাদের অনেক কষ্টে বড় করছে। আমি এখন রিসকা (রিক্সা) চালাই। মার বয়স হয়ে গেছে তাই আর তাকে কাজ করতে দেই না। ইব্রাহীম জানান, তার বোন হাসি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছোট ভাই ইসমাঈল প্রতাশ্যা ব্রিজের কাছে তালতলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় নূরানী পড়ত। তিনি বলেন, আমরা মানুষ হতে পারিনি। তাই মায়ের স্বপ্ন ছিল, ছোট ভাইকে মাদ্রসায় ভর্তি করে বড় মানুষ করা। মা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে ছোট ভাইকে দেখতে মাদ্রাসায় যায়। ইব্রাহীম আরও বলেন, প্রতিবারের মতো গতকালও আমার একমাত্র মেয়ে ইতি মণিকে নিয়ে মা মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছালে তিন রাস্তার মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাস আমার মা এবং আমার স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করে দেয়। রেজিয়া বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দেওয়ানীর গ্রামে। বড় ছেলে ইব্রাহীমের সঙ্গে গাজীপুর জেলার টঙ্গী উপজেলার দেওড়া সিংবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ