ঢাকা, শনিবার 12 November 2016 ২৮ কার্তিক ১৪২৩, ১১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের হাই জাম্প এবং আশা ও প্রত্যাশা

আশিকুল হামিদ : দৃশ্যটি প্রথম দেখিয়েছে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল। তারপর দেখলাম ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাঠকদের অনেকেও সম্ভবত এর মধ্যে দেখে ফেলেছেন। দৃশ্যটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কুস্তি বা রেসলিং-এর। দেখার পর মনে পড়লো, বেশ কয়েক বছর আগে কোনো এক টিভি চ্যানেলে দেখেছিলাম। এ দৃশ্যে দেখা গেছে, মঞ্চে যখন দুই কুস্তিগীরের যুদ্ধ চলছে তখন মঞ্চের বাইরে এক কুস্তিগীরের কোচ বা ম্যানেজারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেন স্যুট-টাই পরা সুঠাম দেহের একজন। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এই ব্যক্তিও এক সময় জাঁদরেল কুস্তিগীর ছিলেন। তিনি শুধু ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং যথেচ্ছভাবে মারপিট করেই থেমে যাননি, ওই কোচ বা ম্যানেজারকে পেটাতে পেটাতে মঞ্চেও উঠিয়ে ছেড়েছেন। এখানেও শেষ নয়, লোকটি মঞ্চে চেয়ার আনিয়েছেন, ওতে প্রতিপক্ষের কোচ বা ম্যানেজারকে জোর করে বসিয়েছেন এবং তারপর নিজের পক্ষের আরো একজনকে সঙ্গে নিয়ে বেচারার চুল চেছে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নাটকীয়তাও যথেষ্টই করেছেন তিনি। রীতিমতো শেভিং জেল মাখিয়ে তিনি নিজেই রেজার দিয়ে চুল চেছেছেন। মার্কিন দর্শকরাও দৃশ্যটি উপভোগ করেছেন। অন্যায় এবং আইনত অপরাধ হলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্যুট-টাই পরা লোকটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বোঝাই যাচ্ছিল, মার্কিন কুস্তির জগতে অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি তিনি। টিভির ধারা ভাষ্যকারদের বদৌলতে তার নামও জানা গিয়েছিল। ভাষ্যকাররা বারবার ‘ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বলে চিৎকার করছিলেন।
হ্যাঁ, এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাই বলা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে আমার স্ত্রী কিন্তু বারবার বলে এসেছেন, ট্রাম্পকে কেন যেন তার খুব চেনা চেনা লাগে। তখন আমি কোনো গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু নির্বাচনের পরদিনই যখন কুস্তির ওই দৃশ্যটি দেখার সুযোগ পেলাম তখন আর কোনো সন্দেহ রইল না। বুঝলাম, আমার বেগম সাহেবার ট্রাম্পকে কেন চেনা চেনা মনে হয়েছিল। এর অর্থ, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু রিয়েল এস্টেটের একজন সফল ব্যবসায়ী নন, এক সময় নিজে তো কুস্তিগীর ছিলেনই, কুস্তির ব্যবসায়ও তিনি যথেষ্টই দেখিয়ে এসেছেন। কে জানে, ক্যাসিনো ও জুয়ার যে বিশাল ব্যবসার কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রেসলিং বা কুস্তির ব্যবসাও ছিল কি না। সেটা থাকুক আর না-ই থাকুক, উল্লেখিত ওই একটি মাত্র দৃশ্যের মধ্য দিয়েও কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ধারণা করা যায়। অতি উৎসাহী অনেকে আবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পুটিন সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য একবার টিভির এক অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছিল, কুস্তি বা মল্লযুদ্ধে কতটা দক্ষ ও শক্তিশালী তিনি। পুটিন নাকি অতি ভয়ংকরও ছিলেন, যার জন্য তাকে ব্ল্যাক বেল্টের সম্মান দেয়া হয়েছিল। মূলত সে কারণেই মানুষ অবাক হয়নি নির্বাচনী প্রচারণার দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিনের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা শুনিয়েছেন। বলা দরকার, সাধারণ মার্কিনীরা কিন্তু এখনো রাশিয়াকে নিজেদের মিত্র রাষ্ট্র বলে ভাবতে পারেন না। অন্যদিকে সেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিনের প্রতি প্রকাশ্যে সম্মান দেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুটিনও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে, কুস্তি বা মল্লযুদ্ধ দু’জনের সুসম্পর্কের পেছনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে থাকতে পারে। এ পর্যন্ত এসে থেমে গেলে অবশ্য আপত্তির কারণ নেই। ভীতি ও আপত্তির কারণ সৃষ্টি হবে যদি তারা বিশ্বের নিরীহ ও শান্তিকামী মানুষের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ শুরু করেন। অর্থাৎ বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে দেশে দেশে যদি দুই পরাশক্তির আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞ বেড়ে যেতে থাকে। অমন আশংকা কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের অনেকেই ইতিমধ্যে ব্যক্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প তো নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই জানান দিয়ে এসেছেন। যেমন মুসলিম মাত্রকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। যারা বৈধ বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তাদের সকলকেও বহিষ্কার করবে তার সরকার। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। প্রশ্নসাপেক্ষ কারণে সৌদি আরবের ব্যাপারে তাকে অবশ্য অন্য রকম মনে হয়েছে। কারণ, মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় সোচ্চার হলেও একই ট্রাম্প আবার বলেছিলেন, সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক সমরাস্ত্র তুলে দেবেন তিনি। এ ছিল এক বিস্ময়কর ঘোষণা। কারণ, সৌদি আরবকে মুসলিম বিশ্বের নেতা বা প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেজন্য একদিকে মুসলিম বিরোধী প্রচারণা এবং অন্যদিকে সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক সমরাস্ত্র তুলে দেয়ার ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন উঠেছিল। অনেকে ‘ব্যবসায়ী’ ট্রাম্পকে প্রাধান্যে আনলেও সাধারণভাবে বলা হয়েছিল, মূলত টাকার প্রয়োজনে সৌদি আরবকে খুশি করতে চেয়েছেন ট্রাম্প। এই ব্যাখ্যার সুফলও অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষে যায়নি। কারণ, কথায় বলে, গাছের শিকড় কেটে ফেলে ওপরে পানি ঢেলে কোনো লাভ হয় না। একই কারণে মুসলিম বিরোধী ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক সমরাস্ত্র তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে লাভবান হতে পারবেন না ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হতে না হতেই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প অবশ্য নাটকীয় পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে এটা ছিল তার একটি পরামর্শ, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। অর্থাৎ মুসলিমরা আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ও বসবাস করতে পারবেন। কথা শুধু এটুকুুই নয়। নির্বাচনের পরপর প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়েবসাইট থেকে মুসলিম বিরোধী সকল বক্তব্য ও বিবৃতি ‘গায়েব’ হয়ে গেছে! এখন আর সহজে প্রমাণ করা যাবে না, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কোনো কঠোর বক্তব্য রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, বিদেশীদের বহিষ্কার প্রসঙ্গেও কথা পাল্টে ফেলেছেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর দিনগুলোতে তিনি বলেছিলেন, প্রায় দেড় কোটি মেক্সিকানকে তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত সকল বিদেশীকেও ঝেঁটিয়ে তাড়ানো হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর একই ট্রাম্প শুনিয়েছেন নতুন কথা। বলেছেন, অবৈধভাবে বসবাসরত সকলকে নয় বরং শুধু অপরাধীদের তাড়ানো হবে। অবৈধভাবে প্রবেশ করা এবং বসবাস করাটাও যে বড় ধরনের অপরাধ সে কথা বেমালুম পাশ কাটিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট। এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর সকল প্রেসিডেন্টই কথা পাল্টানোর ও নিজের বলা কথা অস্বীকার করার ব্যাপারে সব সময় এগিয়ে থাকেন। কথা বা অঙ্গীকারও তারা সাধারণত রক্ষা করেন না।
এ প্রসঙ্গে উদাহরণের ভিড়ে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার পরিবর্তে দু-একটি মাত্র তথ্যের উল্লেখই যথেষ্ট হতে পারে। কথিত মুসলিম জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের আড়াল নিয়ে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা থেকে শুরু করে সর্বশেষ সিরিয়ায় গণহত্যাসহ যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহের পর্যালোচনায় দেখা যাবে, সব অজুহাত ও উপলক্ষই যুক্তরাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে। দেশটির নেতৃত্বে ইরাকের পর লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো একের পর এক ধ্বংস ও পঙ্গু হয়ে গেছে। এখন চলছে সিরিয়ার পালা। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে জর্জ বুশ এসে চলে গেছেন, এসেছেন মুসলিম নামধারী বারাক হোসেন ওবামা। তাদেরও আগে বিল ক্লিনটনও যথেষ্টই দেখিয়ে গেছেন। ধারণা করা হয়েছিল, বিশেষ করে ওবামার আমলে হয়তো মুসলিমরা কিছুটা হলেও নিস্তার পাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। ঘটনাপ্রবাহে বরং আইএস তথা ইসলামিক স্টেট নামের নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের জন্ম ও বিস্তার ঘটেছে, যার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন ওবামার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বেশ কিছু উপলক্ষেই অভিযোগ করেছেন, হিলারি ক্লিনটনই আইএস-এর প্রকৃত জন্মদাত্রী। ট্রাম্পের অভিযোগটি সারা বিশ্বেই সত্য বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ এই হিলারি ক্লিনটনকে নিয়েই অন্য অনেক রাষ্ট্রের মতো মুসলিম প্রধান বাংলাদেশেও প্রচুর হৈচৈ হয়েছে। তিনি হেরে যাওয়ায় দুঃখে মরি মরি হয়েছেন এদেশের অনেকেই!
তারও আগে নির্বাচনী প্রচারণার দিনগুলোতে বাংলাদেশের মিডিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে দেখুন। নির্বাচনের তারিখ ৮ নভেম্বরও একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রথম কলামের শিরোনাম ছিল, ‘ঐতিহাসিক জয়ের পথে হিলারি ক্লিনটন’। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশিষ্ট বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিখেছিলেন, বিজয় নাকি হিলারির একেবারে ‘হাতের মুঠোয়’ এসে গেছে! শুধু তা-ই নয়, একই দৈনিকের দ্বিতীয় প্রধান খবরে সেদিন বলা হয়েছিল, হিলারি নাকি ৯০ শতাংশ ভোট পেতে চলেছেন! অন্যদিকে বাস্তবে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই বলার দরকার পড়ে না। পপুলার তথা সাধারণ ভোটারদের ভোটেও হিলারি ক্লিনটন মাত্র দশমিক তিন-চার শতাংশে এগিয়ে থাকতে পেরেছেন। আর ইলেক্টোরাল ভোটে তো তার ভরাডুবিই ঘটেছে।
এখানে হিলারি ক্লিনটন এবং তারও আগে বারাক ওবামার উদাহরণ দেয়ার কারণ আসলে একটি কঠিন সত্য জানানো। আর সে সত্যটি হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, এতে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোর তো বটেই, বিশেষ করে মুসলিমদের জন্য লাভবান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং আশাবাদী হয়ে ওঠাও অনুচিত। এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবশ্য ধন্যবাদ দেয়া দরকার। কারণ, অনেক কথা পাল্টে ফেললেও একটি বিষয়ে তিনি ধারণা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থাকবে তার সরকার। আর মার্কিন স্বার্থের অর্থই যে দেশে দেশে যুদ্ধ বাধানো এবং সমরাস্ত্র বিক্রি করা সে কথা এতদিনে শিশু-কিশোররাও বুঝতে পেরেছে। আমাদের ভীতি ও আতংকের কারণও সেটাই। তা সত্ত্বেও আমরা আশা করতে চাই, অতীতের মতো মল্লযুদ্ধে নামার পরিবর্তে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেই নিজেকে বেশি নিয়োজিত রাখবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রচেষ্টায় তিনি যদি ব্ল্যাক বেল্টধারী আরেক মল্লবীর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøদিমির পুটিনকে নিজের পাশে আনতে পারেন তাহলে বিশ্বের নির্যাতিত ও শান্তিকামী মানুষ ডোনাল্ডের নামে জয়ধ্বনি করে উঠবে। আমরা আবশ্য জানি না, এই বারতা নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছাবে কি না এবং কোনোভাবে পৌঁছালেও শান্তির আহ্বানে তিনি সাড়া দেবেন কি না! সাড়া দিন আর না-ই দিন, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফল ‘হাই জাম্প’-এর কথা বিশ্ববাসীর মনে থাকবে বহু বছর পর্যন্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ