ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রিজার্ভ চুরির দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইন দুতাবাসে জমা

অনলাইন ডেস্ক : ফিলিপাইনে উদ্ধার হওয়া এক কোটি ৫২ লাখ ডলার ফিলিপাইনে বাংলাদেশের দূতাবাসে জমা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিম এ অর্থ গ্রহণ করে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ​জমা হওয়া অর্থের মধ্যে ডলারের অংশটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে নিউইয়র্ক ফেডের বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে জমা হবে। আর পেসো অংশটি বাংলাদেশ দূতাবাসের হিসাবের মাধ্যমে নিউইয়র্ক ফেডে জমা হবে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের উদ্ধার হওয়া দেড় কোটি ডলার ফেরত আনতে একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যায়। ৮ নভেম্বর প্রতিনিধিদলটি ম্যানিলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে অর্থ ফেরত আসা নিয়ে আলোচনা করে। এই দলে রয়েছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব।

গত সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে এই দেড় কোটি ডলারের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ চুরির উদ্ধার হওয়া এই দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দিতে নির্দেশ দেন ফিলিপাইনের আদালত। এই অর্থ ক্যাসিনো (জুয়া খেলার স্থান) ব্যবসায়ী কিম অংয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এই অর্থ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশটির আদালত এ অর্থের মালিকানা বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দেন।

গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়।

এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। আর একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। রিজল ব্যাংকে যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ পরে ফিলিপাইনের জুয়ার টেবিলে চলে যায়। এর মধ্যে ক্যাসিনো মালিকের ফেরত দেয়া দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে আগস্টে ম্যানিলা গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ