ঢাকা, রোববার 13 November 2016 ২৯ কার্তিক ১৪২৩, ১২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নতুন এক অশনি সংকেত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্ক, শিকাগোসহ অন্তত ৭টি বড় শহরে শুরু হওয়া ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ এখন অন্তত আরও ২৫টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনার সামনেও চলছে বিক্ষোভ। ক্যালিফোর্নিয়া শহরে প্রায় ৪০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এদিকে আমেরিকার ওরেগন অঙ্গরাজ্যের সর্ববৃহৎ নগর পোর্টল্যান্ডে বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে। ১০ নভেম্বর রাতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নগরীর কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়। তারা দোকান ও গাড়ি ভাংচুর করে, পটকা ছুঁড়ে মারে এবং আবর্জনার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ওই পরিস্থিতিকে দাঙ্গা বলে ঘোষণা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পেপার স্প্রে এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের পর এবার যে পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা অবাক হওয়ার মতো। ক্যালিফোর্নিয়ার বহু লোক তো ট্রাম্পের আমেরিকার সাথে থাকতেই চাচ্ছে না। তারা আমেরিকা থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন থাকতে চায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ এভাবে বিভক্ত হয়ে পড়লো কেন? ট্রাম্প কী করেছে, কী বলেছে এবং কী বার্তাই বা দিয়েছে? এবার নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প যে উগ্র এবং বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন সেটাই কি বর্তমান সময়ের বিক্ষোভের কারণ? নাকি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ট্রাম্পের মধ্যে আরো ভয়ানক কিছু দেখতে পেয়েছে?
নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনালড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইএস ও আলকায়েদা। ট্রাম্পের জয়কে স্বাগত জানিয়ে আইএস বলেছে, তারা এটাই চাইছিল। ট্রাম্প জিতলেই মার্কিন দমননীতি বাড়বে। জঙ্গি দমনের নামে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে সাধারণ ও নিরপরাধ মুসলমানদের হেনস্থা করবে। বিদ্বেষবশত মুসলমানদের কোণঠাসা করবেন ট্রাম্প। ফলে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে পাল্লা দিয়ে বাড়বে আলকায়েদা ও আইএস’র জনপ্রিয়তা। নিরীহ, ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদার মুসলমানরা আরো বেশি করে ঝুঁকবেন আইএস ও আলকায়েদার দিকে। আইএস ঘনিষ্ঠ আল-মিনবার জেহাদী মিডিয়া নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এখন যত দিন পারে ফুর্তি করুক আমেরিকানরা। তবে ট্রাম্পের হাতেই ওদের ধ্বংস লেখা আছে। কারণ ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যেখানেই মার্কিন সেনারা অভিযান চালাবে সেখানেই তাদের জবাই করবে আইএস বা আলকায়েদা। পাল্টা হামলা হবে আমেরিকার মাটিতেও। ট্রাম্পের বিজয়কে আইএস ও আলকায়েদা যে ভাষায় অভিনন্দন জানিয়েছে তাতে শান্তি ও সমঝোতার কোন বার্তা নেই। বরং রয়েছে অশান্তি ও যুদ্ধের বার্তা। ট্রাম্পের কিছু উগ্র ও অযৌক্তিক বক্তব্য তাদের যেন উস্কে দিয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য শান্তিপ্রিয় মানুষের কাম্য নয়। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনী প্রোপাগাণ্ডায় ট্রাম্প যেসব উগ্র ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন, বিজয়ী হওয়ার পর তিনি হয়তো আর সে ভাষায় কথা বলবেন না। প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসার পর তিনি হয়তো বাস্তবতা উপলব্ধি করবেন এবং হয়তো যৌক্তিক পথেই চলার চেষ্টা করবেন। এটা তো বিশ্লেষণের আশাবাদ। কিন্তু বাস্তবতা কি সবসময় যৌক্তিক বিশ্লেষণকে মেনে চলে? চলে না, এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় তার বড় উদাহরণ। ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি স্থানে মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তরা একে ‘হেইট ক্রাইম’ বলে অভিহিত করেছেন। পুলিশ এসব ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর মানুষ ঘৃণা ও বিদ্বেষের পৃথিবীতে বসবাস করতে চায় না। যারা শাসক হবেন, প্রেসিডেন্ট হবেন তাদের তো ঘৃণার সমাজ সৃষ্টি করার জন্য সাধারণ মানুষ ভোট দেয় না। মানুষ তো শান্তিময় সমৃদ্ধ জীবনের লক্ষ্যেই ভোট দিয়ে থাকে। মানুষের মনের এ কথাটি ট্রাম্প বুঝতে সক্ষম হন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ