ঢাকা, রোববার 13 November 2016 ২৯ কার্তিক ১৪২৩, ১২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষা নিয়ে বিগত বছরগুলোর নয় ছয়

জিবলু রহমান : [তিন]
কোন শিক্ষার্থী ফেল করলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। আগামীতে উত্তরপত্র না-ও পাওয়া যেতে পারে। কোন পরীক্ষক ১০০ এর মধ্যে ১০০ দিয়ে দিলেও কোন জবাব দিতে হয়না। নম্বর বেশি দিলে কোন জবাব নেই। কম নম্বর পেলে জবাব দিতে হয়। উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। নম্বর দেয়া হচ্ছে কেবল। এতে পাস ও জিপিএ-৫ বাড়ছে। (সূত্রঃ দৈনিক মানব জমিন ১ জুন ২০১৪)
এখন স্বাধীনভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ নেই। কিভাবে জিপিএ বাড়ানো যায় সে ভাবেই শিক্ষকদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়।  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ১৭ মে ২০১৪ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রমাণিত হয়েছে। ফলাফলের বিভিন্ন সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মন্ত্রী বলেন, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিতের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে সবসময় চ্যালেঞ্জিং ছিল।  এজন্য এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। প্রায় আট হাজার স্কুলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ ক্লাস নেয়া হয়েছে। এতে পশ্চাৎপদ স্কুলগুলোতেও ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মন্ত্রী বলেন, ভাল ফলের আরেকটি কারণ হলো-কঠিন বিষয়গুলোতে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে ভাল করেছে শিক্ষার্থীরা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বলেছিলেন, বেশি নম্বর দিতে হবে এমন নির্দেশনা দেয়া হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করতে বলা হয়। যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
২০১৬ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে মাছরাঙা টিভি প্রদর্শিত একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিম্নমান নগ্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এ সাক্ষাৎকারে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করে তাদের মান যাচাই করা হয়। শিক্ষার্থীরা জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের যেসব উত্তর দেন তা থেকে বোঝা যায়, তারা পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে পারেননি। সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুশীলসমাজ হতাশ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সাক্ষাৎকারটিতে ‘জিপিএ’ ও ‘এসএসসি’র অর্থ বলতে পারেনি। ‘আমি জিপিএ-ফাইভ পেয়েছি’-র ইংরেজি করেছে-‘আই অ্যাম জিপিএ-ফাইভ’।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কবে পালিত হয় বলতে পারেনি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায়, তাও বলতে পারেনি। পিথাগোরাসকে ঔপন্যাসিক এবং জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতার নাম বলেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প পড়েন দাবিদার একজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্রনাথের কোনো গল্পের নাম বলতে পারেননি। কম্পিউটার এবং ফেসবুক ব্যবহারকারী এক শিক্ষার্থী হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কী তা জানেন না; বিজ্ঞান পড়া ছাত্র জানেন না নিউটনের সূত্র; আরেক শিক্ষার্থী জানেন না বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির নাম। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর  ১৬ জুন ২০১৬)  
জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীর মান নিঃসন্দেহে এমন না হলেও স্বীকার করতে দোষ নেই যে, শিক্ষার গুণগত মান কমেছে। শিক্ষার্থীদের এ রকম মান হতাশাজনক। কিন্তু এজন্য তাদের দোষ দেয়া যায় না। দা-বঁটিতে ত্রুটির জন্য লোহাকে দোষ না দিয়ে যে কামার এগুলো গড়েছেন তাকে দোষ দেয়া উচিত। একইভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানের প্রশ্নের জবাব না দিতে পারলে তাদের দোষ দেয়া যাবে না। দোষ দিতে হবে সেসব শিক্ষককে যারা এসব শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন। দোষ দিতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে, যার মধ্য দিয়ে এসব শিক্ষার্থী গড়ে ও বেড়ে উঠেছেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে না পারার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষকরা দায়ী।
পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বেশি নম্বর দিয়ে পাসের এবং জিপিএ ফাইভের হার বৃদ্ধির সরকারি প্রচেষ্টা যে একটি ভুল পলিসি তা স্বীকার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষক হলেই যে দাতা হাতেম তাই হতে হবে এমনটা ঠিক নয়। পরীক্ষার্থীর খাতা দেখার সময় শিক্ষক একজন বিচারক। বিচারক নির্দেশিত হয়ে কাজ করবেন কেন? শিক্ষার্থী যদি ৩২ নম্বর পান, তিনি তাকে ৩২ নম্বর দেবেন। যে শিক্ষার্থী ৬০ নম্বর পাবেন, তাকে শিক্ষকের ৫৯ নম্বর দেয়ার সুযোগ নেই। কম নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীদের বেশি নম্বর দিয়ে পাসের ও জিপিএ ফাইভের হার বৃদ্ধি দেখিয়ে সরকারের বাহ্বা নেয়ার নীতি ভুল ও আত্মঘাতী।
শিক্ষাঙ্গনে এখন শিক্ষার্থীদের মানের সঙ্গে শিক্ষকদের মানেও ধস নেমেছে। শিক্ষকদের অনেককে এখন শিক্ষার্থীদের মান বাড়ানোর চেয়ে নিজ বিত্তবৈভব বাড়াতে অধিকতর মনোযোগী মনে হয়। সে কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের চেয়ে কনসালটেন্সি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, রিসার্চ প্রজেক্ট করা এবং সান্ধ্যকালীন কোর্সে পাঠদানে অধিক মনোযোগী মনে হয়। শিক্ষক নিয়োগে ছড়িয়ে পড়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। ভালো ছাত্র তৈরি করার মতো যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ না করে শিক্ষার্থীদের ভালো মান আশা করা বোকামি। এখন প্রশ্ন হল, আমরা কি ভালো শিক্ষক নিয়োগ করতে পারছি? স্কুুল পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া জরিপ করে দেখা যায়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শৃংখলা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
একাদশ শ্রেণীর একটিমাত্র বই থেকেই ২০১৪ সালে অন্তত সাড়ে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ওই শ্রেণীর বাংলা প্রথমপত্র বইটি সরকার ছেপে বিক্রি করে আসছিল। কিন্তু এর দায়িত্ব দেয়া হয় গাইড প্রকাশকদের।
এনসিটিবি তাদের প্রকাশিত বাংলা ও ইংরেজি বই নির্বাচিত এজেন্টদের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। এসব এজেন্টের অসহযোগিতা ও অনীহার কারণে বাজারে সরকারি বই দুটির কৃত্রিম সংকট ছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল, এসব এজেন্টের অনেকেই সারা দেশে বই বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা এনসিটিবির তুলনায় নকল বই থেকে লাভের হার বেশি পেতেন। যে কারণে এনসিটিবির বই তারা বিক্রি করেননি। বিপরীত দিকে সরকার বাজারে পর্যাপ্ত বই সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সৃষ্ট সংকটকে পুঁজি করে সারা দেশেই অনেক পুস্তক ব্যবসায়ী শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ফেলে। গাইড না কিনলে মূল বই বিক্রি করেননি অনেকে। এমনকি নকল বইও অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে।
বই বিক্রিতে এ ধরনের সিন্ডিকেট না হওয়ার ব্যাপারে অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালক ও পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল। তিনি বলেছেন, এটা অমূলক। কেননা একটি বই যখন ১০ জনকে ছেপে বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হবে, তখন সিন্ডিকেট করার পথ থাকে না। বরং তখন প্রতিযোগিতার কারণে কে কার আগে বই বাজারে দেবে, সে ধরনের মানসিকতা কাজ করবে।
আর এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল জানান, কাউকে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান করে দিতে তারা সরকারি বই প্রকাশকদের মাধ্যমে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেননি। এনসিটিবি বহু বছর ধরেই উচ্চ মাধ্যমিকে বাংলা ও ইংরেজি বাদে বাকি বইগুলো বেসরকারি প্রকাশকদের মাধ্যমে লিখিয়ে অনুমোদন দিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করে আসছে। বাংলা-ইংরেজি এজেন্টদের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। কিন্তু গেলো কয়েক বছর ধরে সরকারি বই দুটি বিক্রি করা যাচ্ছিল না। এর ফলে একশ্রেণীর প্রকাশক তা নকল করে বিক্রি করতো। নকল এবং নি¤œমানের বইও শিক্ষার্থীদের বেশি দামে কিনতে হতো। এ কারণে এবার এই বই প্রকাশকদের মাধ্যমে ছাপিয়ে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ২ জুন ২০১৪)
দড়ি বেশি টানলে যেমন ছিঁড়ে যায়, তেমনি একেবারে ঢিলা দিলেও দড়ির যথাযথ ব্যবহারের কোনো মূল্যই থাকে না। আমরা শিশু বা স্কুল-কলেজে পড়ুয়া আমাদের ছেলেমেয়েকে কতটুকু স্বাধীনতা দেব, কতটুকুইবা তাদের চলাফেরা, আচার-আচরণ ও স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করব বা নিয়ন্ত্রণ করব, এ নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, এ শাসন ও প্রশ্রয়ের মধ্যে অবশ্যই সমন্বয় বা ভারসাম্য রাখতে হবে। ঘুড়ি ওড়ানোর যে নাটাই থাকে, তা থাকে যিনি ঘুড়ি ওড়ান তার হাতে। এখন প্রশ্ন হলো, নাটাই কি ঘুড়িকে নিয়ন্ত্রণ করবে, না ঘুড়ি নাটাইকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ঘুড়িকে আমরা কি এতই স্বাধীনতা দেব যে, উড়ন্ত ঘুড়ি নাটাইকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নাটাই ঘুড়ির মালিককে নিয়ন্ত্রণ করবে। তা হতে পারে না। ঘুড়ির মলিক, নাটাই এবং ঘুড়ির গতিশীলতার মধ্যে একটি সমন্বয় থাকতে হবে। কাজেই এ স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বের মধ্যে সমন্বয় সাধনের যে দায়িত্ব তা অভিভাবকদের নিতে হবে। কেননা, শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের ৮০ শতাংশ সময়ই থাকে অভিভাবকদের দায়িত্বে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ দায়িত্ব কোনো দিনই নেননি। এখন তো আরও বেশি করে নিতে পারবেন না এবং নিতেও চান না।
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে নতুন শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে ২০১৫ সালের নভেম্বরেই বেসরকারি মাধ্যমিক-নিম্ন মাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, আংশিক এমপিওভুক্ত ও এমপিও-বহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৮ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ১০ হাজার টাকা নেয়া যাবে। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না ইত্যাদি। ঢাকা মহানগরীসহ সমগ্র দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চলার কথা এই নীতিমালা অনুসারে।
৭ নভেম্বর ২০১৬ সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের মতো ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি স্কুলেও ৪০% আসন সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণের বিধান রেখে নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোন শ্রেণিতে কীভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এবং কোন ক্ষেত্রে ভর্তি ‘ফি’ কত হবে তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয় নীতিমালায়। নীতিমালার ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরী ছাড়াও দেশের সব বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুল সংলগ্ন ‘ক্যাচমেন্ট এলাকার’ শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০% কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে ৪০% এলাকা কোটা প্রযোজ্য হবে না। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই ‘ক্যাচমেন্ট এলাকায়’ থাকলে শিক্ষার্থীরা উভয় প্রতিষ্ঠানেই ভর্তির আবেদন করতে পারবে।
পরিচালনা পর্যদের সহায়তা নিয়ে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ নির্ধারণ করতে হবে। ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণে একাধিক স্কুলের মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে থানা/উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার সমাধান করবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণে কোনো এলাকা যেন বাদ না পড়ে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আদেশই চূড়ান্ত।
 নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে অবশ্যই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ছাড়াও অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনের জন্য লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে জেএসসি-জেডিসির ফলের ভিত্তিতে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিশুর বয়স ছয় বছর (৬+) হতে হবে।
শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে পরিচালনা পর্ষদ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে। তবে একই ক্যাচমেন্ট এলাকার ভর্তি পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন তারিখে নিতে হবে। ঢাকা মহানগরীর বিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি সংশ্লিষ্ট থানা বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্ধারণ করে দেবেন।
ভর্তির জন্য ঢাকা মহানগরসহ এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিও বহির্ভূত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন ফরমের দাম হবে সর্বোচ্চ দুই’শ টাকা। মফস্বল এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সেশন ফিসহ সর্বোচ্চ ভর্তি ফি হবে ৫০০ টাকা, পৌর (উপজেলা) এলাকায় এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না।
আর ঢাকা মহানগরে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকা, আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান আট হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। একই প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এক শ্রেণি থেকে পরের শ্রেণিতে ভর্তিতে সেশনচার্জ নেওয়া যাবে তবে পুনঃভর্তির ফি নেওয়া যাবে না। ভর্তি ফরম এবং ভর্তি ফি বাবদ সরকার নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত আদায় করলে এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে। (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক ৯ নবেম্বর ২০১৬)
কিন্তু বাস্তবতা হল, প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা মানছে না। এমনকি পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষা ফি শিক্ষা বোর্ড নির্ধারণ করে দিলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কোথাও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাস্তি পেয়েছে এমন নজির নেই। আর এ সুযোগটি নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বারবার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। রাজধানীর নামিদামি স্কুল থেকে মফস্বলের স্কুল পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে। সরকারের নীতিমালা, মন্ত্রণালয়ের আদেশ-নির্দেশ কোনো কিছুই তাদের নিবৃত্ত করতে পারছে না। দেশে শিক্ষা যে এখন একটা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে, এসবই তার প্রমাণ। বিভিন্ন নামে নতুন ফি আরোপ করাসহ এককালীন অনুদান বা চাঁদা ও মাসিক বেতন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বই, খাতাসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু কাগজের দামই বেড়েছে ১৫%। ছাত্রছাত্রীদের পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে।
[চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ