ঢাকা, রোববার 13 November 2016 ২৯ কার্তিক ১৪২৩, ১২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

লালগ্রহ মঙ্গল জয়

মাহমুদ শরীফ : দুই.
৪৭ মিটার লম্বা আর সাড়ে ৭ মিটার চওড়া বিশাল দেহ নিয়ে সিংহাসনে খুশি মনে বসে আছেন আড়াই হাজার বছর বয়সী  যুবক রাজা সিপাং। মঙ্গলের একক অধিপতি হচ্ছেন এই রাজা উগ্রেং যায়াং সিপাং। যেমন দেশ দরদী তেমনি প্রজাদের প্রিয় রাজা তিনি। মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দারা রাজা সিপাংকে জীবন দিয়ে ভালোবাসে। আর ভালোবাসবেই না কেন; প্রজাদের কোন অভাব-অনটন, দুঃখ-বেদনা সব তিনি দূর করে মৌলিক চাহিদা পূরণ করে দিয়েছেন। এজন্যই প্রজারা দেড় হাজার বছর ধরে রাজা সিপাংকেই তাদের গ্রহের অধিপতি করে রেখেছেন। সৌর জগতের মঙ্গলের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় কোন রাজাই রাজত্ব করতে পারেনি। একমাত্র রাজা সিপাংই পারছেন তার কর্ম দক্ষতার কারণে।
তিনি খুশি মনে হাসি মুখে তার খাস কামরা থেকে বেরিয়ে এসে  সকল মন্ত্রীবর্গকে নিজ নিজ আসনে বসতে ইঙ্গিত করে নিজেও ৫৫ হাজার বছর পূর্বে তৈরি রাজ শিংহাসনে বসেছেন। শুরু হলো মঙ্গল গ্রহরের সংসদ অধিবেশন। আজকের কায্যসূচীর শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিগেং তামাং মন্ত্রীবর্গ, ৯ বাহিনীর প্রধান, সচিবসহ সবাইকে সম্বোধন করে একটি খুশি ও সফলতার সংবাদ দিলেন।  সাথে সাথে তিনি যে কারণে আজ মঙ্গল অধিবাসীদের জন্য আনন্দ বইছে, সেই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ননা আর উপস্থাপনার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন। রাজা সিপাং মুচকি হেসে অনুমতি দিতেই  পার্লামেন্ট ভবনের ছাদ মুহূর্তের মধ্যেই গায়েব হয়ে গেল। সাঁ সাঁ শব্দে উপর থেকে নেমে এলো একটি বিশাল কাঁচের মত ধাতব পদার্থের বাকসো। সেনা বাহিনীর চৌকস ১২০ জন সৈনিক এগিয়ে এলেন। চোখের পলকে কাঁচের বাক্সটির কল কব্জা, নাট বল্টু খুলে নিয়ে তারাও গায়েব।
মন্ত্রী পরিষদের সবার সামনে বাকসো থেকে বের করা হলো পৃথিবী গ্রহের মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের বিমান ফ্লাইট-এমএইচ-৩৭০। বিমানের ভিতরে কোন সাড়া শব্দ নেই। যাত্রীরা সবাই নিজ নিজ আসনে যেন ঘুমন্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লাইট-এমএইচ-৩৭০ এর চার পাশে একবার চক্কর দিলেন। এর পর তিনি সকলের উদ্দেশে বললেন:
মহামান্য রাজা মহোদয় ও উপস্থিত মন্ত্রীবর্গ এবং উদ্ধতন সভাসদবৃন্দ, আজ আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দ আর খুশি বিষয় হচ্ছে, আমাদের দীর্ঘ ৫শ’ বছরের গবেষণা আর প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। আমরা আমাদের ‘ওয়ার্ল্ড রিসার্চ সেন্টারের দ্বিতীয় অভিযান সফল করতে পেরেছি। আমাদের সেনা বিভাগের অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা তাদের সফল অভিযানের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে এই ছোট্ট বিমানটি তুলে এনেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চায় না। আমরা পৃথিবীবাসীর সাথে জ্ঞান আর শক্তিতে যে ছোট নই তার প্রমাণ করতে পেরেছি। আর...
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শেষ না হতেই খুশির হাততালি পড়ে গেল সংসদ ভবন জুড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার রাজা সিপাং এর দিকে তাকিয়ে আবার শুরু করলেন: মান্যবর মঙ্গল গ্রহের রাজং, আপনি বলেছিলেন পৃথিবীর মানুষেরা আমাদের গ্রহের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। ১৯৫৭ সালে তারা ‘স্পুটনিক-১‘ ও ‘স্পুটনিক-২‘ নামের দুইটি নভোযান, পরের বছর যুক্তরাষ্ট্র ‘আলফা‘ নভোযান এবং একই বছরে রাশিয়া ৩ নভোচারী পাঠিয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত মানুষেরা আমাদের বাসস্থান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কত বড় শাহস পিচ্চি মনুষ্য বিজ্ঞানীদের! ওরা মহাশুন্যে ‘স্কাইল্যাব‘ নামে স্টেশন নির্মাণ করেছে। এটা মানুষের অনধিকার চর্চা। মানুষেরা আমাদের মঙ্গলে নভোযান পাঠিয়ে কত ছবি আর নমুনা নিয়ে গেছে। ওরা  আমাদের অবকাশ যাপন কেন্দ্র চাঁদের বুকে পতাকা গেড়েছে।  একের পর এক ‘স্যাটার্ন ভি‘, ‘পাথ ফাইন্ডার‘, ‘লুনিক‘, ‘স্পুটনিক‘, ‘এ্যপোলো ১১‘, ‘ঈগল‘, ‘কলম্বিয়া‘, ‘ভস্টক ১‘, ‘ডিসকভারী‘ প্রভৃতি নভোযান প্রেরণ করে আমাদের চিন্তিত করেছে। চর দখলের মত চাঁদ দখল শেষে এবার আমাদের মঙ্গলের দিকে পা বাড়িয়েছে। ওরা যখন নভোযান পাঠিয়ে সফল হয়েছে, এখন বার বার নভোযান পাঠাবে। শেষ পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে এক সময়  মঙ্গলসহ অন্যান্য গ্রহ দখল করতে ছুটে আসবে। বসত গড়বে এখানে। আমাদের করবে উচ্ছেদ। কিন্ত কিছুতেই এটা করতে দেয়া যাবে না। লাল গ্রহ মানুষের রক্তে আরো লাল হবে, তবুও মঙ্গলের অমঙ্গল করতে দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা এবারও শেষ না হতেই এবার তথ্যমন্ত্রী পিয়ং ঘিনু উঠলেন কিছু বলার জন্য। তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন: সবচেয়ে তরতাজা খবর হচ্ছে,  মানুষ আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের এই প্রাণপ্রিয় মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়তে চায়।
এজন্য পৃথিবীর নেদারল্যান্ডের ‘মার্চ ওয়ান‘ নামক একটি সংস্থা কাজ করছে। তারা প্রতি দুই বছর পরপর চারজন করে মানুষ পাঠাবে আমাদের এই লাল গ্রহে। আসতে সময় লাগবে তাদের তৈরি নভোযানে সাত মাস।  প্রথম ট্রিপে ঐ সংস্থাটি ৬০০ কোটি ও দ্বিতীয় ট্রিপে ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই  পৃথিবীর প্রায় ২ লাখ মানুষ মঙ্গলে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কাছে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১ হাজার ৫৮ জনকে পাঠানোর জন্য নির্বাচিতও করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মহিলা লুলু ফেরদাউস নামের এক জন রয়েছেন।
তথ্যটি দিয়েই আবার বসে পড়লেন তথ্যমন্ত্রী পিয়ং ঘিনু।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিগেং তামাং তথ্যমন্ত্রীর কথার রেশ ধরেই আবার শুরু করলেন: সভাসদবৃন্দ, পৃথিবীর মানুষের বিরুদ্ধে কী করা যায় সে জন্যই ‘ওয়ার্ল্ড রিসার্চ সেন্টার‘ প্রতিষ্ঠা করে গবেষণা করা হয়েছে। আজ গবেষণার ফল স্বরূপ আমাদের বিজ্ঞানীরা তাদের তৈরি বিমান খেকো শশার মহাযান ‘হাড়গিল-ব ৯০৯‘ পাঠিয়ে পৃথিবী থেকে সর্ব প্রথম এই ফ্লাইট-এমএইচ-৩৭০ ছিনতাই করে এনেছে। এই বিমানটিকে আমাদের ‘হাড়গিল-ব ৯০৯‘ এক নিঃশ্বাসে মুখে পুরে দেড় শ’ ঘণ্টা সময় নিয়ে কয়েক কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে এসেছে। পৃথিবীবাসী এবিষয়ে কিছুই জানে না।
‘ওয়ার্ল্ড রিসার্চ সেন্টারের গোয়েন্দা সদস্যরা পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এখনও পৃথিবীতে অবস্থান করছে অদৃশ্যভাবে। তারা কিছুক্ষণ পূর্বে শেষ মেসেজে জানিয়েছে- ফ্লাইট-এমএইচ-৩৭০ নিয়ে সারা পৃথিবীতে মহা তোলপাড় লেগে গেছে। অনুসন্ধানে তন্ন তন্ন করে চষে বেড়াচ্ছে তাদের যন্ত্রগুলো। সাগর পাহাড় বন মরুভূমি সব স্থানেই চলছে অনুসন্ধান।  আমরা যে বিমানটি ছিনতাই করেছি মানুষের ধারণাতে এ পর্যন্ত বিষয়টি আসেনি। তবে বাংলাদেশের এক পুঁচকে বিজ্ঞানী ফ্লাইট-এমএইচ-৩৭০ পৃথিবীর বাইরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করলেও শক্তিধর দেশগুলো তার কথা কানে তুলছে না।  (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ