ঢাকা, রোববার 13 November 2016 ২৯ কার্তিক ১৪২৩, ১২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

এই যে শহর
রওশন মতিন

এ শহরটা কেমন শহর-
স্বপ্ন মোড়া রঙিন চাদর,
খাঁচার পোষা ময়না পাখি,

বড্ড বাচাল কথার বহর,
চাঁদের হাসি, তারার আদর,
যায়না ছোঁয়া, কেবল ফাঁকি,
সব হারিয়ে স্বপ্ন আঁকি!

ব্যস্ত জীবন চরকি পাকে ঘুরছে যেন যন্ত্র,
হন্যে হয়ে খুঁজি সবাই আলাউদ্দীনের যাদুই চেরাগ মন্ত্র,

ময়লা-কাদার জটলা পাকে,
ঝুলিয়ে রাখি কষ্টটাকে,

শহরত নয় আজগুবি এক চিঠির ঝুলি,
খাঁচায় পোষা ময়না পাখির মিষ্টি বুলি।

পথ-কলিরা পথেই ফোটে পথের পাশে,
কান্না তাদের ছড়িয়ে আছে সবুজ ঘাসে,

ক্ষুধার পরী উড়ায় ঘুড়ি ডাইনি বুড়ির ছল,
চকমকিটা হাতড়ে বেড়াই হন্যে হয়ে চল।
শহর শহর আজব শহর সুখ-দুঃখের রেল,
চলছে ছুটে হরহামেশাই বাজিয়ে ঘণ্টা বেল,
হররোজ তাই হরতালে ভাই মাথায় ভাঙি বেল,
কয়লা-ধোঁয়ার ইঞ্জিনে ফেল মারে যে তেল!


হেমন্ত পাঠিয়েছে
শাহীন খান

দলবেঁধে পাখিরা ওড়ে দূর আকাশে
মৌ মৌ গন্ধ ভেসে আসে বাতাসে
পাকা ধান দেখে চাষী হাসে ভারী নিত্য
গর্বেতে ছেয়ে যায় গোটা প্রাণচিত্ত!

ফসলেতে ভরে তার শূন্য নীড় যে
সুখ সুখ কি যে সুখ করে মনে ভিড় যে!
সাড়া জাগে দেশ গাঁয়ে নবান্নের নামটা
হেমন্ত পাঠিয়েছে হলদে এ খামটা!

খাম খুলে চিঠি পড়ি, ভাবে মজে মন যে
অপূর্ব মায়ামায়া এলো ফিরে ক্ষণ যে।


ছড়াকার হাসনাত
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

হাসনাত আমজাদ,
ছড়া লিখে তাই করে
অন্যায়ের প্রতিবাদ।
দেশ নিয়ে লেখে ছড়া
যেন রসে মিঠে কড়া।

পড়ে পড়ে হয় নাতো শেষ,
ছড়া জুড়ে থাকে যেন
ভালবাসার রেশ।

খোকা আর খুকু নিয়ে
ছড়া লেখে রস দিয়ে
পড়া ভারী মজা,
তক্ষণই মনে হয়
ছড়া লেখা সোজা।

লিখে যাক আরো লেখা
লেখা যাক ছড়িয়ে
ঘুণে ধরা সমাজকে
ঠিক দেবে নড়িয়ে।

ছড়াকার হাসনাত,
ছন্দের তালে তালে
করে দেয় বাজিমাত।


অতীত নিয়ে দাদু
হোসাইন মোস্তফা

গোয়াল ভরা গরু ছিল
পুকুর ভরা মাছ
মাঠে কাউন-কালিজিরা
তিশি-তিলের চাষ।

ফল-ফলারি রকমারি
মধুর মত স্বাদ
গাওয়া ঘিয়ে মাখানো সেই
আউশ ধানের ভাত।

পিঠাপুলি পালা-পার্বণ
জারি সারি আসর
বটতলায়ই বাজতো মেলায়
ঢোলক খমক কাঁসর।

ষাঁড়ের লড়াই নৌকা বাইচে
জাগতো প্রাণে হরষ
পাখ-পাখালির কলরবে
শান্তি সুখের পরশ।

হিংসা বিভেদ দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ
এসব ছিল দূর
সবার সাথে সখ্য সবার
কণ্ঠে মাটির সুর।

এসব কথা রূপকথা আজ
সেদিনগুলো হাওয়া
এখন মানুষ ব্যস্ত ভীষণ
যন্ত্রদানব ধাওয়া।

খাঁটি জিনিস যায়কি পাওয়া
এখন কি আর হাটে?
অতীত নিয়ে দাদু শুধু
স্মৃতির জাবর কাটে॥


মশার মিছিল
মুন্সি আসাদ উল্লাহ

কানের কাছে মশার গান
দেয় আমায় কষ্ট
প্যানর প্যানর ভোঁ ভোঁ আওয়াজ
মেজাজ করে নষ্ট।

তাইতো পাঠে মন বসেনা
কিংবা কোন কাজে,
জোট বেঁধে সব মিছিল করে
সকাল দুপুর সাঁঝে।


রোমাঞ্চকর হেমন্ত
হোসেন মোতালেব

হেমন্তে হয় সকালবেলা
শীতের আমেজ বোধ
শিশির কণায় সূর্যের আলো
মিষ্টি কড়া রোদ।

কড়া রোদে প্রাণ হাঁসফাস
ঠিক দুপুরের বেলায়
ক্লান্ত চাষী মেতে উঠে
ফসল কাটার খেলায়।

শীতের পাখির আনাগোনা
হেমন্তে হয় শুরু
নতুন ধানে ভরে গোলা
হাশেম, কাশেম, নূরু।

ফুল ফসলে ভিন্ন রূপে
হেমন্ত দেয় দোলা
রোমাঞ্চকর হেমন্তকে
যায় কি কভু ভোলা!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ