ঢাকা, রোববার 13 November 2016 ২৯ কার্তিক ১৪২৩, ১২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ধুনকররা

মোঃ আতিকুর রহমান (ঝালকাঠি): ঝালকাঠিতে শীতের আগমনী বার্তা উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে লেপ-তোষক  তৈরির কারিগর ধুনকররা। প্রতিদিন ১০/১২ টি লেপ-তোষক তৈরি করতে হয় তাদের। এবিষয়ে কথা হয় ধুনকর সাইদুল ইসলামের সাথে। সাইদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩ নবেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ৩ দিনের বৃষ্টির পরে রোববার সকাল থেকে বৃষ্টি কমেছে। কিন্তু রাতে প্রচণ্ড শীত পড়ায় লোকজন শীতবস্ত্রের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তাই আমাদের কাছে আসছে লেপ-তোষক  তৈরি করতে। তুলা কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবছর খরচও বেশি হয়। সাইদুল আরো জানান, শিমুল তুলা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কাপাস তুলা প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। গার্মেন্টস  তৈরি তুলা প্রতি কেজি কালো হুল ৫০/৬০ টাকা, কালো পচা তুলা ২৫/৩০ টাকা, সাদা তুলা ৭০/৮০ টাকা দরে ক্রয় করি।  তৈরি কাপড়ের গজ মান অনুযায়ী ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আকার ভেদে মজুরী ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়। সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালো মানের একটি লেপ  তৈরিতে ১৫০০ (দেড় হাজার) টাকা খরচ হয়। একইভাবে একটি তোষক  তৈরিতে খরচ পড়ে ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। তবে গতবছরের থাকা মালপত্র দিয়ে এবছরের কাজ এখন পর্যন্ত চলছে। নতুন মাল আসলে তার দাম এর চেয়ে অনেক বাড়তি হবে। তখন একটি লেপ  তৈরিতে খরচ পড়বে ২ হাজার টাকা এবং তোষক  তৈরিতে খরচ পড়বে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। অভিযোগ করে সাইদুল বলেন, আমরা খুচরা বিক্রেতা। পাইকারদের থেকে মাল ক্রয় করে এনে  তৈরি করে ক্রেতাকে দেই। দাম বৃদ্ধির বিষয়টা তারা বুঝতে পারেন না। এ জন্য অনেক সময় ক্রেতাদের সাথে কথা কাটাকাটিও হয়। মূলধন স্বল্পতার কথা জানিয়ে সাইদুল বলেন, আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। প্রথমে দোকানের কর্মচারী থেকে কাজ শিখে এখন নিজেই দোকান দিয়েছি। একটি এনজিও থেকে ১৫% সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। সরকার মওসুমভিত্তিক ঋণের ব্যবস্থা করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা হতো বলেও মন্তব্য করেন ধুনকর সাইদুল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ