ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিক্ষোভ অব্যাহত ॥ ট্রাম্পের সম্পদ রক্ষায় বালুর ট্রাক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পর এবার স্বাধীনতার দাবি উঠেছে ওরেগনে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত উত্থানের প্রেক্ষিতে এ দাবি উঠেছে। ব্রিটেনের ইন্ডিপিন্ডেন্ট জানায়, ওরেগেন স্টেটের দুই বাসিন্দা একটি পিটিশন ফাইল করেছেন। যেখানে ওরেগনের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার ব্যাপারে ভোটের আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। একই সাথে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠন করার প্রস্তাবও রয়েছে এই পিটিশনে।ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতেও স্বাধীনতার দাবি উঠেছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে ওরেগনের ৪১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে। আর ৫২ শতাংশ দিয়েছে হিলারিকে।

ওরেগনের নিয়ম অনুযায়ী ৮৮ হাজার ১৮৪ টি স্বাক্ষর পেলে কোনো পিটিশন ব্যালটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। রয়টার্স, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওরেগনে ১ জন গুলীবিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় রাতের মত বিক্ষোভ চলছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যে এক বিক্ষোভকারী গুলীবিদ্ধ হয়েছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর ওরেগনের সবচেয়ে বড় শহর পোর্টল্যান্ডে একদল বিক্ষোভকারী মরিসন ব্রিজ অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির গুলীতে এক বিক্ষোভকারী আহত হন।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বিক্ষোভকারীরা সেতুটি অতিক্রম করার সময় সেখানে আটকে পড়া গাড়িগুলোর কোনো একটি থেকে এক ব্যক্তি নেমে গুলী চালায়।”

আহত বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর খোঁজ চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করতে শুরু করে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আগের রাতেই পোর্টোল্যান্ডে দাঙ্গা পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিল পুলিশ। এদিন রাতেও বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশ লক্ষ্য করে বিভিন্ন জিনিস ছুঁড় মারে। জবাবে পেপার স্প্রে ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।

পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এদিন অন্তত এক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসেও শত শত বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করে। তারা ‘আমরা নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যান করছি’ এবং ‘কাদের সড়ক? আমাদের সড়ক’ বলে স্লোগান দেয়।

মিয়ামিতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী শহর জুড়ে মিছিল করে। পরে তাদের থেকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী মহাসড়কে গিয়ে উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

নিউইয়র্কে বিক্ষোভকারীরা ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। অনেকে আবার ফিফথ অ্যাভিনিউতে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

তার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভে ‘গণমাধ্যমের ইন্ধন’ দেখছেন বলে বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইটে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।

শুক্রবার রাতে টুইটে তিনি বলেন, “গত রাতে বিক্ষোভকারীদের একটি ছোট্ট দলের মধ্যে আমি আমাদের মহান দেশের জন্য আবেগ দেখেছি, আমি এটা ভালবাসি। আমরা সবাই একসঙ্গে আসবো এবং গর্বিত হব।”

৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বছর ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

ট্রাম্প টাওয়ারের নিরাপত্তায় বালুর ট্রাক

আমেরিকাজুড়ে চলছে ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ। সদ্য নির্বাচিত এই প্রেসিডেন্টকে নিজেদের রাষ্ট্রনেতা বলে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। ক্রমেই এই বিক্ষোভ রূপ নিচ্ছে সহিংসতায়। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভবনগুলোর আশপাশেও বিক্ষোভ করছেন আমেরিকানরা। আর সে কারণেই কিনা ট্রাম্প টাওয়ারের নিরাপত্তায় ভবনটির সামনে বালুর ট্রাক এনে রেখেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ট্রাম্পের সম্পদ যাতে কোনোভাবে আক্রান্ত না হয় সে জন্য এই বালুর ট্রাকগুলোকে ভবনটির সামনে এনে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যাতে সেখানে আক্রমণ না করতে পারে সে জন্য এই ‘বালুর ট্রাকের দেওয়াল’ নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া নিউ ইয়র্কের পেনিনসুলা হোটেল, হিল্টন হোটেল ও জ্যাকব জে জাভিতস কনভেনশন সেন্টারে বালুর ট্রাক রাখা হয়েছে। নির্বাচনী রাতে এই তিনটি স্থান অফিসিয়াল ক্যাম্পেইনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প! 

দায়িত্ব নেয়ার পরই অভিশংসনের মুখে পড়বেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ভবিষ্যৎ বাণী করেছেন, মার্কিন অধ্যাপক অ্যালান লিচম্যান। যিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ বাণী করে এরইমধ্যে আলোচিত হয়েছেন।

সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তার বাজি ছিল ট্রাম্পের পক্ষে। লিচম্যান মনে করেন, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পছন্দ করে না। কেননা, ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই তাদের। তবে রিপাবিলকানদের পছন্দ, ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে।

তাই লিচম্যানের ধারণা, দেশকে নেতৃত্ব দিতে পেন্সকে বেছে নিতে পারেন রিপাবলিকানরা। ১৯৮৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচন নিয়ে যে ৯টি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন অধ্যাপক লিচম্যান, তার সবগুলোই সত্যি হয়েছে। এদিকে মার্কিন সাংবাদিক ডেভিড ব্রুকসহ আরও কয়েকজন ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

হারের জন্য এফবিআই পরিচালককে দুষছেন হিলারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের জন্য ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এফবিআই-এর পরিচালক জেমস কোমিকে দায়ী করলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে হিলারির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালের ইমেইল নিয়ে পুনঃতদন্তের ঘোষণা দেন কোমি। এই কারণেই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেন হিলারি।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে হিলারির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালের ইমেইল নিয়ে পুনঃতদন্ত করার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতে অভিযুক্ত হন এফবিআই প্রধান জেমস কোমি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর হ্যারি রেইড তখনই দাবি করেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচন জেতাতেই কোমি হিলারির ইমেইল পুনঃতদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এবার হিলারি ক্লিনটনও একই অভিযোগ করলেন।

নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগেও জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের থেকে ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রিত্বের সময়কার ইমেইল পুনঃতদন্তের ঘোষণার কারণে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণা থমকে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হিলারির দাবি, এ কারণেই তিনি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরেছেন।

অবশ্য প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের এ কথা বলেননি হিলারি। প্রচারণায় অর্থ সরবরাহকারী দুই ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোন কনফারেন্সে কথা বলছিলেন হিলারি। সেই দুইজন ব্যক্তিই সংবাদমাধ্যমকে হিলারির এই মন্তব্যেরে কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ভিন্নভিন্নভাবে ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে হিলারির মন্তব্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। 

উল্লেখ্য, হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। তবে সরকারি ইমেইল আদান-প্রদানের জন্য ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারি দাবি করেছিলেন, তিনি অন্যায় কিছু করেননি। অবশ্য, সেপ্টেম্বরে হিলারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। এজন্য আমি দুঃখিত। আমি এর দায়িত্ব নিচ্ছি।’ অক্টোবরে উইকিলিকসের ফাঁস করা কিছু ইমেইলে দেখা যায়, দলীয় উৎকণ্ঠা আর হতাশার মুখেই হিলারি তার ভুল স্বীকার করেছিলেন।

গত ২৯ জানুয়ারিতে এফবিআইয়ের অনুরোধে হিলারির ২২টিরও বেশি ইমেইলকে ‘অতি গোপনীয়’ বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আর জুলাই মাসে প্রথম ধাপের তদন্ত শেষ করে এফবিআই জানিয়েছিল হিলারিকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই-এর নতুন করে তদন্ত শুরু করার খবরটি সামনে আসে। ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এফবিআই প্রধান জানান, ‘হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার কাছে আসা এবং তার পাঠানো সব ইমেইল আমরা তদন্ত করেছি। গত জুলাইয়ে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করছি না।’

হিলারিকে ভোট দিতে ট্রাম্পের ইলেক্টরদের প্রতি পিটিশন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বদলে হিলারি ক্লিনটনকে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে ইলেক্টোরাল কলেজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি পিটিশন তৈরি করা হয়েছে। এরইমধ্যে এতে ৩২ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প ইলেক্টোরাল ভোটে জয় পেলেও হিলারি পপুলার ভোট বেশি পাওয়ায় এ দাবি তুলেছেন তারা। আয়োজকদের লক্ষ্য পিটিশনে ৪৫ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। আন্তর্জাতিক পিটিশনগুলো দায়েরের জন্য প্ল্যাটফর্ম বলে বিবেচিত চেঞ্জ.অর্গ-এ পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে। ওই পিটিশনে বলা হয়, ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। বহু আমেরিকানকে তিনি বলির পাঠা বানিয়েছেন। তার যুক্তিহীন আবেগীয় অবস্থান, মিথ্যাচার, তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনাজনিত জ্ঞানের অভাব তাকে এই (যুক্তরাষ্ট্র) প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিপজ্জনক ব্যক্তিতে রূপান্তর করেছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ভোট (পপুলার ভোট) নয়, ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ৫৩৮ ইলেক্টরের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে এর মধ্যে অন্তত ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়। মেইন ও নেবরাস্কাকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রেই জয়ী প্রার্থীকে সবগুলো ইলেক্টর দিয়ে দেওয়া হয়। মেইন ও নেবরাস্কায় প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের সংখ্যানুপাতে ইলেক্টর বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে ইলেক্টর সংখ্যা বেশি, আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে কম। আর সেকারণে অনেক সময় দেখা যায় কেউ বেশি ইলেক্টর পেলেও তার মোট প্রাপ্ত ভোট (পপুলার) পরাজিত প্রার্থীর চেয়ে কম হতে পারে। আর তেমনই হয়েছে এবারের নির্বাচনে। এর আগেও মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে চারবার এমন হয়েছিল। একে ইলেক্টোরাল পদ্ধতির সঙ্কট আকারে দেখে থাকেন অনেকেই। তেমন জায়গা থেকেই পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অনুযায়ী পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখনও আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। আর তা হলো ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। অর্থাৎ ইলেক্টররা ১৯ ডিসেম্বর তাদের ভোট দেবেন। সাধারণত যে প্রার্থীদের নিয়োজিত ইলেক্টররা দলীয় কর্মী হয়ে থাকে। সেকারণে ইলেক্টররা বিশ্বাসভঙ্গ করা ছাড়া প্রাথমিক ফলাফল অপরিবর্তিত থাকে। তবে এবার ইলেক্টরদের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর দাবি উঠেছে।

পিটিশনে ইলেক্টরদেরকে আহ্বান করা হচ্ছে, তারা যেন ট্রাম্পকে ভোট না দিয়ে হিলারিকে দেন। কারণ ইলেক্টররা যদি হিলারিকে নির্বাচিত করেন তবে তখন ফলাফল বদলে যাওয়া সম্ভব। অতীতে মাঝে মাঝে অঙ্গরাজ্যের পপুলার ভোটে যে প্রার্থী জিতেছেন তাকে অস্বীকার করে কোনও কোনও ইলেক্টরকে দেখা গেছে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে। তবে ২৪টি অঙ্গরাজ্যে সে সুযোগ নেই। সেখানে এ ধরনের বিদ্রোহের অনুমতি নেই এবং ইলেক্টররা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে জরিমানা দিয়ে ক্রস ভোটিং করতে পারেন ইলেক্টররা। হিলারির সমর্থকরা এখন সে জরিমানা গুনতেও রাজি। চেঞ্জ.অর্গ-এর পিটিশনে এখন ইলেক্টরদেরকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, তারা যেন নিজেদের অঙ্গরাজ্যের রায়কে অস্বীকার করে হিলারি ক্লিনটনের জন্য ভোট দেন।

ফেইথলেসনাউকম থেকেও ট্রাম্পবিরোধী একটি পিটিশন চলছে বলে জানিয়েছে ইয়াহু নিউজ। তবে পিটিশনটিতে মূলত ১৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৬০ জন রিপাবলিকান ইলেক্টরেটকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এসকল ইলেক্টরেটের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ ট্রাম্পকে যে ভোট দিতে হবে এমন কোনও আইনি জটিলতা তাদের জন্য বহাল নেই।

জলবায়ু চুক্তি প্রত্যাহারের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

দ্রুত বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের পথ খুঁজছেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স অনলাইন। তবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় পরিসরে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে আন্তর্জাতিক সমর্থন তৈরির পক্ষে কাজ করবেন তিনি।

মরক্কোর মারাকেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চলবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মিলে প্রায় ২০০টি দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্যারিস চুক্তি ২০১৫ অনুসমর্থন করেছে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেন এবং প্রেসিডেন্ট হলে প্যারিস চুক্তি থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও জলবায়ু নীতিবিষয়ক ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, আগামী চার বছরের জন্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র আরো জানায়, ‘নির্বাচনের মুহূর্তে মঙ্গলবার প্যারিস চুক্তি কার্যকর হওয়া বেপরোয়া ঘটনা।’ উল্লেখ্য, ৪ নভেম্বর প্যারিস চুক্তি কার্যকর হওয়ার মতো যথেষ্ট সমর্থন তৈরি হয়।

বিকল্প উপায়ে জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ১৯৯২ সালের কনভেনশনের দিকে নজর দিতে পারেন ট্রাম্প। এই কনভেনশনের বর্তমান রূপ প্যারিস চুক্তি। উভয় চুক্তি থেকে এক বছরের মধ্যে নিজেদের প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নিতে পারেন তিনি। অথবা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্যারিস চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

অনেক দেশ প্রত্যাশা করে, চুক্তিতে অটল থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। মারাকেশে জলবায়ু আলোচনার আয়োজক মরক্কো বলেছে, আগামী অর্ধশতাব্দী জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল রাখার জন্য এই চুক্তি যথেষ্ট কার্যকরী।

মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহেদিন মেজৌয়ার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘যদি একটি দেশ নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তাতে চুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয় না।’

২০০টি দেশের অধিকাংশই চুক্তিতে সমর্থন দিয়েছে এবং ১০৯টি দেশ অনুস্বাক্ষর করেছে, যারা ৭৬ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে, যারা এককভাবে ১৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী।

ট্রাম্পকে ইউরোপ সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে: জাঙ্কার

 ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক ‘ মৌলিকভাবে এবং গঠনগত দিক দিয়ে’ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার।

লুক্সেমবার্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেওয়া এক বক্তৃতায় জাঙ্কার বলেন, “ইউরোপ কী এবং কিভাবে এটা কাজ করে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে আমাদের শেখানোর প্রয়োজন পড়বে।”

এজন্য দুই বছর সময় নষ্ট হবে বলেও অনুমান করেন জাঙ্কার। বলেন, “ট্রাম্প এমন একটি বিশ্বে যাত্রা শুরু করেছেন যেটা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।”

বিশ্ব নেতাদের কিছুটা অবাক করে দিয়ে ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিপাবলিকান ট্রাম্প।

নির্বাচনের পরদিন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে একটি েেযৗথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানান জাঙ্কার।

শুক্রবারের ওই বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, “সাধারণভাবে আমেরিকানদের ইউরোপ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেইনির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বেলজিয়াম আমাদের মহাদেশের কোনো একটি গ্রাম’।”

“তিনি এমন কিছু প্রশ্ন তুলেছেন যেটা পরিস্থিতিকে বিপদজনক করে তুলতে পারে। কারণ তিনি ট্রান্স-আটলান্টিক জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শরণার্থী ও শ্বেতাঙ্গ নন এমন আমেরিকানদের নিয়ে তার নিজস্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে এবং সেটা কোনো ভাবেই ইউরোপের বিশ্বাস ও অনুভূতিকে প্রতিফলিত করে না।”

নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পশ্চিম ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি ন্যাটো।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলার কারণেও ইইউ জোটে ট্রাম্প সমালোচিত।

ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাতিলের যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছেন সেটাও ইইউ-র জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইইউ ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তবে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল শুভেচ্ছা বার্তার মধ্যে জোর দিয়ে এটাও বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি জাত্যভিমান, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, যৌন প্রবৃত্তি বা রাজনৈতিক বিশ্বাস নয় বরং গণতান্ত্রিক মূল্যাবোধ, স্বাধীনতা, আইনের প্রতি সম্মান এবং মানুষের মর্যাদার বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ