ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিন

গতকাল রোববার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম
  • গণতন্ত্রের কুলখানি চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্রের কুলখানি চলছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতন্ত্রকে পুরোপুরিভাবে কবর দেয়া হয়েছে। এখন যেটা চলছে সেটা হচ্ছে, গণতন্ত্রের এক ধরনের মিলাদ মাহফিল ও কুলখানী। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধানের উদ্যোগ নিবে। অন্যথায় পরে তাদের পস্তাতে হবে। গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি নিবন্ধিত সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। যারা পাঁচ বার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আজকে সেই দল একটি সমাবেশ করতে পারে না। তখন সহজেই বুঝা যায় দেশের গণতন্ত্র কোন পর্যায়ে রয়েছে। অথচ সমাবেশ করার অধিকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। নাগরিক হিসেবে সভা সমাবেশ করা মৌলিক অধিকার। আসলে জরুরী অবস্থা জারি করে সভা সমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়নি। এখানে আইনের মধ্য থেকে সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সেই অধিকার লংঘন করছে, সংবিধান লংঘন করছে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দল (আ’লীগ) স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দেশ চালাচ্ছে। তারা বেআইনী ও অবৈধভাবে যে সরকার গঠন করেছে তাতে জনসমর্থন নেই। তিনি বলেন, ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে তারা দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিরোধীদলের ওপর চালানো হচ্ছে জেল, জুলুম ও নির্যাতন। সারা দেশে এমন একটা অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যেখানে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। ন্যায় বিচার বলতে কিছু নেই। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। যে চেতনা দিয়ে যুদ্ধ করেছিল সেই চেতনা থেকে আওয়ামী লীগ অনেক দূরে চলে গেছে। আমরা (বিএনপি) বার বার বলেছি এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। দেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে সেই সংকট মোকাবিলায় সংলাপের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেননি। বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন ছাড়া বর্তমান সংকট সমাধান নয়। তাই এই বিষয়ে কথা বলা অত্যন্ত জরুরী। 

বিএনপি মহাসচিব ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আজকে গোটা দেশে এমন একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই, ন্যায়বিচার বলতে কিছু নেই। মানুষ এখন পুরোপুরিভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে আছে। 

এর আগে নগর গণপূর্ত বিভাগ থেকে দলীয় কার্যালয়ে আসা পত্রের বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অনুমতি চেয়ে তাদেরকে যে চিঠি দিয়েছিলাম, তার উল্টো দিকে নগরপূর্ত বিভাগ-সার্কেল-১ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে এই চিঠি পাঠিয়েছে। দিস ইজ দ্য ওয়ে দি গর্ভমেন্ট ইজ রানিং। এভাবে এই সরকার চলছে। এই সরকার যে ব্যর্থ সরকার, তারা যে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য নয়, সেটা আবার প্রমাণ করেছে, এই চিঠির মাধ্যমে। আমরা এর আগে বহুবার বলেছি, এরা যে কোনো উপায় হোক, যে কোনো পদ্ধতিতে হোক ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, সেটার জন্য কোনো নীতি, কোনো বিধি-বিধান-আইনের শাসন কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না। 

মির্জা ফখরুলের প্রতিবাদ : বরিশাল জেলাধীন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন মিয়ার বাসভবনে দলীয় সভা করার সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাসায় হামলা চালিয়ে তিনটি মটরসাইকেল ভাংচুরসহ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম শাহিন, লাল মিয়া সর্দার, শামিম, সাহাবুদ্দিন, হাসানসহ বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। 

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক আচার আচরণ ত্যাগ করে অগণতান্ত্রিক পন্থায় একপেশে নীতিতে দেশ শাসন করছে। জনগণকে উপেক্ষা করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণেই দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা এখন চরম হুমকির মুখে। সারা দেশে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতন-নিপীড়ণের পাশাপাশি চলছে গ্রফতারি অভিযানের হিড়িক। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বরিশাল জেলাধীন গৌরনদী উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়ার বাসভবনে বিএনপি’র সভা করার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাসায় হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। দমন-পীড়ণ চালিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর ক্রমাগত জুলুম নির্যাতনের ফলে দেশে এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এই ধরণের অন্যায় ও জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে গৌরনদী উপজেলা বিএনপি’র গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ