ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবৈধভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি মালিকদের সতর্ক করছে বিইআরসি

স্টাফ রিপোর্টার : নিয়মনীতি না মেনে অবৈধভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি করায় সিএনজি স্টেশনের ঝুঁকি বাড়ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিতে থাকা এসব সিএনজি ফিলিং স্টেশনের তালিকা করা শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকার আশপাশে দশটি স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরিমানা করা হয়েছে। বেশ কিছু স্টেশন মালিককে স্বল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর এলাকার পাঁচটি সিএনজি স্টেশনের লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ ছাড়া কারিগরি সনদ ও লাইসেন্স ছাড়া সিএনজি স্টেশন নির্মাণ ও ব্যবসার অভিযোগে অন্য পাঁচটি সিএনজি স্টেশনের বিরুদ্ধে ২১ দিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওই এলাকার গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী, চেরাগ আলী, এরশাদনগর, কুনিয়া তারগাছ, বড়বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণ ও গ্যাস বিক্রি চলে আসছে। শুধু ফিলিং স্টেশন নয়, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্যানে করে ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে এসব স্টেশনের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ওই এলাকা পরিদর্শন করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। পরিদর্শনকালে বিইআরসির কাছ থেকে সাময়িক লাইসেন্স নিয়ে পাঁচটি সিএনজি স্টেশনকে সিলিন্ডারে করে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ করতে দেখেন তারা, যা বিস্ফোরক অধিদফতরের আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে অন্য পাঁচটি সিএনজি স্টেশন কোনো লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএনজি মজুদকরণ, বিক্রয় ও স্টেশন পরিচালনার জন্য বিইআরসির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই তাদের, যা বিইআরসির গ্যাস আইন ২০১০-এর পরিপন্থী।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) ও পেট্রোবাংলার কাছে প্রতিবেদন পাঠায় আরপিজিসিএল। পরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিইআরসিতে চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভিত্তিতে তদন্ত শেষে ৩ নবেম্বর পাঁচটি সিএনজি স্টেশনের লাইসেন্স বাতিল এবং অন্য পাঁচটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিইআরসি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্টেশনের বিরুদ্ধে ২১ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টিজিটিডিসিএলকে অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে যে পাঁচ সিএনজি স্টেশনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হলো বোর্ড বাজারের মেসার্স আল-হেরা ফিলিং স্টেশন ও প্রোগ্রেসিভ সিএনজি ফিলিং স্টেশন, টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার আফতাব সিএনজি স্টেশন, এরশাদনগরের আলম সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টার ও টঙ্গী শিল্প এলাকার স্পিডওয়েল অটো ক্রাফট লিমিটেড।

অন্যদিকে লাইসেন্সবিহীন অভিযুক্ত পাঁচ কোম্পানি হলো জয়দেবপুরের কুনিয়ার ব্লেজ সিএনজি লিমিটেড, বোর্ড বাজারের মেসার্স যমুনা সিএনজি স্টেশন, কেবি বাজারের মেসার্স মারকো প্লাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ভোগড়া এলাকার এম্পেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কুনিয়ার জ্যারোমা সিএনজি ফিলিং স্টেশন।

এ বিষয়ে বিইআরসির পরিচালক (গ্যাস) একেএম মনোয়ার হোসেন আখন্দ বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব স্টেশনের এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নেই, সেগুলোকে দুই মাসের মধ্যে বিইআরসির লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ