ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ওবামা কেয়ার এর দুটো বিষয় মনে ধরেছে ট্রাম্পের

১৩ নবেম্বর, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মার্কিনী তথা গোটা বিশ্ববাসীর জল্পনা-কল্পনার  ইয়ত্তা নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতীত পর্যালোচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ নানা পেশার বোদ্ধারা যে যেভাবে পারছেন তারা ট্রাম্পকে নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে যেমন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, তেমনি পরিকল্পনা ও কর্মের মাধ্যমেও নতুন চমক সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।  
এরই মধ্যে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বেকার মার্কিনীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন। ট্রাম্প বললেন, প্রথমেই তিনি সারা দেশে একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চালু করবেন, যাতে কাজের সুযোগ পাবেন দক্ষঅদক্ষ কর্মীরা।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, জিতে এলে সবার আগে ‘ওবামাকেয়ার’ বাতিল করবেন। নিম্নবিত্ত নাগরিকের জন্য সুলভ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এখন ট্রাম্প বলছেন, কিছু সংশোধন করে নাকি ওবামাকেয়ারই রেখে দেবেন। মানে একেবারে উল্টোমুখে ঘুরে যাওয়া।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকা শনিবার লিখেছে, হোয়াইট হাউসে ওবামার সঙ্গে কথা বলে আসার পরই মত বদলেছেন ট্রাম্প। পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওবামাকেয়ার নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি। কারণ এই স্বাস্থ্যপ্রকল্প দিন দিন ক্রমশ ‘খরচসাপেক্ষ এবং অবাস্তবোচিত’ হয়ে পড়েছে।
তবে ট্রাম্প স্বীকার করছেন যে ওবামার চালু করা ওই প্রকল্পের অন্তত দুটি বৈশিষ্ট্য তিনি বাঁচিয়ে রাখতে চান। হোয়াইট হাউসে দু’জনের একান্ত বৈঠকের সময়েই ওবামা তাকে অনুরোধ করেন, প্রকল্পটি বাতিল করার আগে আরেকবার ভাবতে। ট্রাম্পের বক্তব্য, হয় ওবামাকেয়ার পুরো তুলে দিতে হয়, অথবা জরুরি কিছু সংশোধন করে ওটাকেই রেখে দেয়া যায়। তিনি সম্ভবত দ্বিতীয়টাই করবেন। কারণ, ওই প্রকল্পের দুটি বিষয় তার বেশ মনে ধরেছে।
এক, যিনি স্বাস্থ্যবীমা করছেন, তার এখনকার রোগগুলিকে বিমার আওতায় না রাখার যে শর্ত চাপায় বীমা সংস্থাগুলি, তা খারিজ করা। আর দুই, বাবামায়েরা নিজেদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত রাখার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন, সেই অধিকার দেওয়া। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর দেওয়া এই প্রথম সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকায় কাজের সুযোগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলির পুনর্মূল্যায়ন এবং আই এস জঙ্গিদের নিকেশ করা প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই তিনটেই হবে তার প্রথম কাজ।
নতুন কর্মসংস্থান করতে তিনি দেশ জুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প চালু করবেন। আর দেশের কাজ দেশেই রাখার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা কীভাবে রাখবেন? প্রশ্ন করা হয়েছিল ট্রাম্পকে। না, আগে যেমন ভারত আর চীনকে কাজ কেড়ে নেয়ার জন্য তেড়ে গালমন্দ করেছেন, তার ধারকাছ দিয়ে যাননি ট্রাম্প। বরং অত্যন্ত বাস্তবধর্মী সমাধান বাতলেছেন। বলেছেন, যে সব সংস্থা দেশের বাইরে থেকে সস্তায় কাজ করিয়ে আনতে উৎসাহী, তাদের বাধা দেবে না সরকার। কিন্তু বিদেশ থেকে করিয়ে আনা কাজের ওপর বাড়তি শুল্ক বসাবে। যাতে নিজের দেশে কাজ করিয়ে নেয়াটাই সেই সব সংস্থার কাছে বেশি লাভজনক মনে হয়।
 ভোটে জেতার পর ট্রাম্প এখন পর্যন্ত যে কজন বিশ্বনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কথা বলা বাকি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন খুব ‘সুন্দর’ একটা চিঠি পাঠিয়েছেন, জানিয়েছেন ট্রাম্প। আইএস উগ্রবাদীদের শেষ করার প্রশ্নেও ট্রাম্প বেশ সোজাসাপ্টা।
বললেন, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের এতদিন মদত দিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু লোকগুলো কারা? কেনই বা আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আমেরিকার মাথাব্যথা থাকবে? সিরিয়া তো আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে আমেরিকাও চায় আইএসের বিনাশ। তা ছাড়া রাশিয়া এখন পুরোপুরি সিরিয়ার সঙ্গে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়া মানে রাশিয়ার বিরুদ্ধেও লড়া। ওদিকে ইরান যথেষ্ট ক্ষমতাশালী দেশ। কিন্তু আমেরিকার বৈরী আচরণের জন্য ওরাও আমেরিকার বিরোধী। কাজেই আমেরিকার লক্ষ্য খুব স্থির। আইএস। শেষ করে দিতে হবে ওদের
মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা নিয়েও অসাধারণ বলেছেন, ট্রাম্প। নিজেই নিজেকে ‘ডিল মেকার’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, ‘ওই একটা ডিল আমি করে যেতে চাই। মানবতার স্বার্থে। এমন সমঝোতা, যার কথা কেউ কোনো দিন ভাবেনি। কিন্তু আমি ওটা করতে চাই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ