ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দেখা করতে না পেরে ট্রাম্প টাওয়ারে চিরকুট রেখে এলেন মাইকেল মুর

১৩ নবেম্বর, ওয়াশিংটন পোস্ট : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ট্রাম্প টাওয়ারে চিরকুট রেখে এসেছেন মাইকেল মুর। স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে আলোচিত এই ‘উদারপন্থী’ তথ্যচিত্র নির্মাতা ম্যানহাটনের ওই টাওয়ারের চতুর্থ তলায় উঠলেও তাকে নিরাপত্তারক্ষীরা ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে না দিয়ে বের করে দেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
পরে টাওয়ারের সামনে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিয়ে মুর বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে ওই ভবনের চতুর্থ তলা পর্যন্ত উঠার পর সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন তাকে আটকে দেন।
এক টুইটে তিনি লেখেন, “আমি ট্রাম্প টাওয়ারের বাইরে হাজার হাজার মার্কিন ভোটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ট্রাম্পকে সরে দাঁড়াতে বলেছি। তিনি সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন।
“আমি ট্রাম্প টাওয়ারে ঢুকতে পেরেছিলাম এবং তাকে একটি বার্তাও দিয়ে এসেছি, ‘তুমি হেরে গেছ, সরে দাঁড়াও’। সিক্রেট এজেন্টরা আমার লেখা নোট নিয়ে তাকে দিতে গিয়েছে।”
এর আগে মুর হাতে একটি স্মার্টফোন ও পেছনে একটি ক্যামেরা নিয়ে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে উপস্থিত হয়ে ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে তার এই ট্রাম্প টাওয়ার পরিদর্শন সম্প্রচার শুরু করেন। মুর যখন ট্রাম্প টাওয়ারে আসেন, তখন তার পরণে ছিল স্যান ফ্রান্সিসকো ‘ফরটিনাইনারস’ বেসবল ক্যাপ ও সামনে সেফটি পিন আটকানো কালো সোয়েটার ছিল। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানাতে তিনি ওই পোশাক পরেন বলে পরে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তিনি কি করছেন এক পথচারী তার কাছে জানতে চাইলে মুর বলেন, “ভাবছি, ট্রাম্প টাওয়ারে ঢোকা যায় কি না এবং বিখ্যাত এস্কেলেটরে চড়া যায় কি না।” বেলা ১টা ১০ মিনিটে মুর টাওয়ারের লবিতে ঢুকে পড়লে ‘শোরগোল’ তৈরি হয়, তার পেছনে কয়েকজন সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী জড়ো হন। মুর চিত্রগ্রহণ করতে এস্কেলেটরে উঠে গেলে ভবনের অন্যরা তাকে চিনতে পেরে নাম ধরে ডাকতে থাকেন। তিনি তাতে কান না দিয়ে চতুর্থ তলায় উঠলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে উপরে যেতে মানা করেন। তিনি অ্যালিভেটর ধরতে চাইলেও তার অনুরোধ রাখা হয়নি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ভবন থেকে বের করে দেওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন মুর। পরে ফেইসবুক সম্প্রচারে মুর বলেন, “প্রেসিডেন্ট পদের জন্য পপুলার ভোট জিততে না পারা এই লোকের বিরুদ্ধে আমি। এটা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার আইনগত ও অহিংস পন্থা বের করার উপায় ভাবতে হবে আমাদের।”
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি ক্লিনটন জয়ী হবেন বলে আলোচনার মধ্যে ট্রাম্পের সরব সমালোচক উদারপন্থী এই অ্যাকটিভিস্ট তার চরম অপছন্দের সেই মানুষটিই নির্বাচিত হবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তাড়াহুড়ো করে এই চিত্র নির্মাতা “মাইকেল মুর ইন ট্রাম্পল্যান্ড’ নামে চলচ্চিত্র বানান, যাতে তিনি চিৎকার করে বলেন ‘ট্রাম্পের জয়ী হলে তা হবে মানবেতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।”
মুর ট্রাম্প টাওয়ার থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর ভবনে প্রবেশ করেন ব্রেক্সিট আন্দোলনের ও যুক্তরাজ্যের ইউকেআইপির নেতা নাইজেল ফারাজ। তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় বলে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
৮ নবেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বছর ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাকে প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পোর্টোল্যান্ডে দাঙ্গা পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়। ওরেগন অঙ্গরাজ্যে এক বিক্ষোভকারী গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে শত শত বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করে ‘আমরা নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যান করছি’ সড়কে নেমে স্লোগান দেয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিক্ষোভের প্রথম দিনে ৬৫ জনকে আটক করেছে, আইনশৃঙ্খলার কাজে বাধা দিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। হিলারি সামান্য ব্যবধানে হলেও পপুলার ভোট জিতলেও নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় বিক্ষোভকারীরা নিউইয়র্কে স্লোগান তুলেন, “তিনি (হিলারি) বেশি ভোট পেয়েছেন” তারা বুধবার ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে স্লোগান দেন, “যৌননিপীড়ক, বর্ণবাদী ও অ্যান্টি-গে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সরে যাও।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ