ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তিনজনের নিখোঁজ হওয়ার প্রশ্ন

সন্ধান মিলছে না আমান আযমী, আরমান ও হুম্মাম কাদেরের। দিনের পর দিন মাসের পর মাস কেটে গেলেও নিখোঁজ এই ৩ ব্যক্তি কোথায় আছেন সে সম্পর্কে কারো কাছেই কোনো তথ্য নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও নিখোঁজ এই ৩ ব্যক্তির কোনো তথ্য নেই। গত ৪ আগস্ট থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে নিখাঁজ হন এই ৩ ব্যক্তি। প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নেয়া হয়েছে। নিখোঁজ এই ৩ ব্যক্তির মধ্যে আবদুল্লাহিল আমান আল আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তার পিতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী। তার পিতা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর কাসেম আলী। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে। এই প্রসঙ্গে ১৩ নভেম্বর একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে নয়া দিগন্তে।
২০১৬ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশের বহুল পরিচিত ৩টি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ৩ জন সদস্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আযমীর মা আফিফা আযম অভিযোগ করেন, ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার সময় কিছু লোক তাদের রমনা থানার মগবাজারের বাসা থেকে তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। তারা নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক বলে পরিচয় দেয়। গত ৪ আগস্ট সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নেয়া হয়। ঘটনার পর হুম্মামের আইনজীবী এডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানী মিডিয়া কর্মীদের বলেছিলেন, ৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রায় ফাঁসের ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির দিতে গেলে গাড়ি থেকে নামার পর ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এই ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ৯ আগস্ট রাতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমানকে তার মিরপুরস্থ ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন লোক। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ নেই।
বাসা থেকে এবং দিনে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দেশের নাগরিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে অথচ তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাবে না, এমন অবস্থাকে মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাগুলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের ব্যাপারে শুভ বার্তা দেয় না। তিনটি পরিবার থেকেই অভিযোগ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। তাহলে ওই তিন ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গেল কারা? আমরা জানি, নাগরিকদের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। অর্পিত এই দায়িত্ব সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা প্রশাসনের মাধ্যমে পালন করে থাকে।
এখন অভিযোগ অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি ওই ৩ ব্যক্তিকে তুলে না নিয়ে থাকেন, তা হলে কারা তুলে নিল তা তদারক করে দেখার দায়িত্বতো অস্বীকার করতে পারেন না। অথচ প্রায় ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও তাদের কোনো সন্ধান নেই। পরিবারের সদস্যরা ওদের পথ চেয়ে বসে আছেন। এই পরিবারগুলোর প্রতি কি সরকার ও রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্ব নেই? মাননীয় আদালত কি কিছু করতে পারেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ