ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষা নিয়ে বিগত বছরগুলোর নয় ছয়

জিবলু রহমান : [চার]
কাজেই শিক্ষা এখানে সুলভ হওয়ার কোনো ব্যাপার নেই। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার থেকে দ্রুত হারে বাড়ছে শিক্ষা ব্যয়। তবে শুধু শিক্ষা ব্যয়ই নয়, জীবিকার অন্য ক্ষেত্রেও ঘটছে একই ব্যাপার।
কোনো ধরনের শাস্তির বিধিবিধান না রেখেই প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘শিক্ষা আইন’। নোট-গাইড এবং প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং, ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, একীভূত পাঠ্যবই প্রবর্তন, তিন স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা রেখে মোট ৬৭টি ধারা সংযুক্ত হয়েছে এই আইনে। কিন্তু এসবের ব্যত্যয় ঘটলে বা কেউ যদি নির্দেশিত বিষয়গুলো না মানেন, তাহলে তার কী হবে-সেসবের কোনো নির্দেশনা নেই এতে। এভাবে শাস্তির কোনো বিধান না থাকায় এটি একটি অকার্যকর আইনে পরিণত হতে পারে। শাস্তির বিধান ছাড়া আইন হতে পারে। তবে সেটা আর আইন থাকে না। এর প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নও হবে না। আপনি যদি রাস্তায় গিয়ে এ কথা জিজ্ঞেস করেন, তাহলে ৯৯ ভাগ মানুষই একথা বলবে যে, এ আইন কার্যকর হবে না। আইন করলে তাতে শাস্তির বিধান থাকতে হবে।
সরকার যে ‘শিক্ষা আইন’ করতে যাচ্ছে তা হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম। কিন্তু প্রস্তাবিত ওই আইনে বেশকিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যে খসড়াটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল, সেটি নানা সংকীর্ণতা ও অসম্পূর্ণতায় ভরপুর। এমনকি এতে দ্বৈত প্রশাসন ব্যবস্থা তৈরির পথও রয়েছে। পাশাপাশি স্কুল পরিচালনা পর্ষদ, এমপিও বণ্টন, প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে অনিয়ম-দুর্নীতির রাস্তা রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। নেই এযাবৎকালে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রয়োজনে যেসব আইন ও বিধিবিধান তৈরি হয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রতিফলন ও সমন্বয়।
খসড়াটি আইনের পরিবর্তে অনেকটা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমের ‘সমন্বিত বিবরণী’ ও ‘শিক্ষানীতি’র মতো হয়েছে। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে বিভিন্ন বিষয় যেভাবে স্থান পেয়েছে, অনেকটা সেভাবে রয়েছে। এক কথায় আইন এবং নীতিকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।
আইনের অধীনে যারা অংশীজন (স্টেকহোল্ডার), তাদের খুশি করার প্রবণতা এতে এতই, অনেকটা যে যা চেয়েছেন তাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন-২০১১ থেকে ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত আইনে ‘গাইড ও নোটবই’ সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থার বিধান ছিল-যা তুলে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের নানা ধরনের দুর্নীতির জন্য একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী। এসব রোধের পথও বন্ধ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে আইনে প্রশাসনিক স্বার্থে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তঃশিক্ষা বোর্ডে বদলির যে নির্দেশনা ছিল, তা তুলে ফেলা হয়েছে। কেউ যদি প্রশ্ন ফাঁস করেন বা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বাংলাসহ সমন্বিত পাঠ্যপুস্তকের বিষয়টি না মানলে অথবা কেউ যদি শিক্ষার তিন স্তর না মানতে চান তাহলে তার কী হবে-সে নির্দেশনাও নেই।
এ ব্যাপারে প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার ৬৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে- ‘(১) ... এই আইনের কোনো ধারা বা উপধারার পরিপন্থী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিলে তা সরকারের/কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য বলিয়া গণ্য হইবে এবং সরকার সেই ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত আইন/বিধি/বিধানের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’
 (২) এই আইনের কোনো ধারা বা উপধারার পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হইলে এবং তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হইলে দেশে প্রচলিত আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।’
অথচ এই আইনের ইতিপূর্বের খসড়ায় ‘এই আইন’ লংঘনে ধারা বিশেষে সর্বনিন্ম ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর সর্বনিন্ম ৬ মাস থেকে ১ বছর জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান ছিল।
২০১৩ সালের শেষের দিকে সরকার যখন ব্যাপক চাপের মুখে ছিল বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচন ছিল, তখন শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের দাবির মুখে শাস্তির বিধানটি তুলে দেয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন এনে একে ‘নখদন্তহীন’ একটা আইনে পরিণত করেছে। ফলে এ আইন করা আর না করা সমান। মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে এ ধরনের আইন রয়েছে এবং তাতে শাস্তিরও বিধান রয়েছে।
আইনবিজ্ঞান কখনোই শাস্তি ছাড়া আইনকে স্বীকার করবে না। আর পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের শাস্তিবিহীন আইনেরও অস্তিত্ব মিলবে না। খসড়া আইনে আছে, প্রাথমিক হবে অষ্টম শ্রেণী, মাধ্যমিক হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। এরপর উচ্চশিক্ষা স্তর। পাণ্ডুলিপি এনসিটিবির অনুমোদন সাপেক্ষে নোট-গাইড বাদে যে কোনো গ্রন্থ প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই স্তরের শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি জাতীয় শিক্ষাক্রম নীতি কাঠামো প্রণীত হবে। শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত হবে ৩০ঃ১। মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি মাধ্যমের পরিচালনা করা যাবে। তবে শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলা ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়গুলো পড়াতে হবে।
উচ্চশিক্ষা স্তরে বর্তমানে বিশেষায়িত সব শিক্ষাই থাকবে। মাদ্রাসায় ৩ বছর মেয়াদি ফাজিল ও ২ বছর মেয়াদি কামিল বা ৪ বছর মেয়াদি ফাজিল অনার্স আর ১ বছর মেয়াদি কামিল থাকবে। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এটা বাস্তবায়িত হবে। মেডিকেল শিক্ষার জন্য ‘মেডিকেল অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। কৃষি শিক্ষার জন্য ‘সমন্বিত মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি’ থাকবে। আইন কলেজের শিক্ষার মান নিশ্চিতে বার কাউন্সিল ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে ‘বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক কমিটি’ থাকবে।
বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন’ থাকবে। সরকারি-বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ণয়ে ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল’ থাকবে।
শিক্ষক নিয়োগের জন্য বর্তমান ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ বাতিল করে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন’র কথা রয়েছে। ন্যূনতম গ্রাজুয়েট বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাগবে এ স্তরের শিক্ষক হওয়ার জন্য। পাশাপাশি নতুন শিক্ষকদের ৫ বছরের মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
শিক্ষক নিয়োগের জন্য বর্তমান ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ বাতিল করে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন’র কথা রয়েছে। ন্যূনতম গ্রাজুয়েট বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাগবে এ স্তরের শিক্ষক হওয়ার জন্য। পাশাপাশি নতুন শিক্ষকদের ৫ বছরের মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
যেহেতু ৮ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা থাকবে, তাই যেসব স্কুল পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, সেগুলোতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত খোলা হবে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী খোলা হবে। আর কলেজে খোলা হবে নবম-দশম শ্রেণী। যদি কোনো কলেজে অনার্স বা ডিগ্রি থাকে, তাহলে তারা কেবল স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাদান করবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য থাকবে আচরণবিধি। নবম বা একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিতে কোনো পরীক্ষা নেয়া যাবে না। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ২৩ আগষ্ট ২০১৪)
দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোতে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। রাজনৈতিক তদবিরে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারাই লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। পিছিয়ে নেই স্থায়ীভাবে থাকা কর্মকর্তারাও। বোর্ডগুলোতে বছরের পর বছর ধরে থাকা কর্মচারীদের সহযোগিতায় সহজেই অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়া যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৮ অক্টোবর ২০১৪ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিটি বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তাদের তিন বছরের বেশি সময় অবস্থান করার সুযোগ না দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের আন্তঃবোর্ডে বদলি করার পরামর্শও দিয়েছে কমিটি।
কমিটির সভাপতি মোঃ আফছারুল আমীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মোঃ ছলিম উদ্দীন তরফদার, গোলাম মোস্তফা, এসএম আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ এবং সেলিনা আক্তার বানুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বিভিন্ন কাজে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তির বিষয়ে আলোচনার সময় কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য বোর্ডগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই দিনের পর দিন কাজ নিয়ে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়। বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট শাখায় কর্মরত কর্মচারীরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্যই এটি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কর্মকর্তাদেরও সায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বোর্ডগুলোতে অবস্থান করায় তারা সিন্ডিকেট গঠন করে সহজেই এসব অনিয়ম করতে পারছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি শিক্ষা বোর্ডে যেসব কর্মকর্তা প্রেষণে থাকেন তাদের তিন বছরের বেশি না রাখা এবং কর্মচারীদের আন্তঃবোর্ডে বদলি করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ২৯ অক্টোবর ২০১৪)
ঔপনিবেশিক আমলে এ দেশে শিক্ষাকে দুর্লভ করে রাখা হয়েছিল। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে শিক্ষাকে সহজ করা হলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। অন্যদিকে শিক্ষার মানের দিকে তাকালে দেখা যাবে এ ক্ষেত্রে উন্নতির পরিবর্তে অবনতি হচ্ছে। একশ্রেণীর মানুষ শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছে। তারা ভুলে গেছেন শিক্ষা বাণিজ্য নয়, অধিকার। বাংলাদেশের মতো দেশে শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধি অনাকাক্সিক্ষত, কারণ এখনও অর্ধেকের বেশি মানুষ অক্ষরজ্ঞানবর্জিত। শিক্ষার খরচ বাড়লে সেটা শিক্ষার ক্ষেত্রে মোটেও সুখকর হবে না। শিক্ষর হার বাড়ানোর যে পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশে আমাদের সন্তানদের জন্য এ রকম শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা কি অসম্ভব? না, খুবই সম্ভব। এর জন্য অনেক টাকা দরকার? না, যে টাকা দরকার, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির তুলনায় কিছুই না। সরকার এই প্রসঙ্গে সব সময়ই বলে এসেছে, এখনো বলবে, আমাদের অর্থ কোথায়? দেশের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে দাবি তুললেই সরকারের এই যুক্তি শোনা যায়। জাতীয় আয়ে শিক্ষা খাতে ব্যয়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ন্যূনতম অনুপাত আছে, এটা হলো শতকরা ৬ ভাগ। পৃথিবীতে বহু দেশ এর দ্বিগুণের বেশি ব্যয় করে বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের অংশীদার হলেও তার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এখনো জাতীয় আয়ের শতকরা ২ ভাগ। অর্থাৎ শিক্ষা বাজেট ন্যূনতম বাজেট তিন গুণ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
শতকরা ৬ ভাগ মানে তো অনুপাত, যত জাতীয় আয় তার শতকরা ৬ ভাগ।
অন্য বহু দেশ এর থেকে বেশি ব্যয় করতে পারলে আমাদের অসুবিধা কী? অসুবিধা শিক্ষাকে বাণিজ্য বানানোর নীতি ও দুর্নীতিতে সরকার চাইলে আমরা টাকার উৎস হাতে-কলমে দেখিয়ে দিতে পারি কিন্তু এটাও জানি, কিছু লোকের বাদশাহি শানশওকত আর সর্বজনের সম্পদ চুরি-ডাকাতির নীতি অব্যাহত থাকলে কোটি কোটি মানুষের সর্বজনের শিক্ষার জন্য টাকার অভাব কখনোই মিটবে না।
জাপান, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন শিক্ষার উন্নয়নে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ করছে। এ দিকটি মাথায় রেখে সরকারের উচিত শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ, নিরাপত্তা, শৃংখলা এবং নীতিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করা। এখন যেভাবে বেতন বাড়ানো হচ্ছে, তার লাগাম টেনে ধরতে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। [সমাপ্ত]
[email protected]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ