ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বাস্তবতা

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : এক ঝাঁপি বিতর্ক নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছিলেন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল ট্রাম্প। তার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে যেমন তিনি মার্কিনীদের আলোচনা-সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন, ঠিক তেমনি তা ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। এমনকি নিজ দলেও তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন। এ বিষয়ে তাকে বারবার সতর্কও করা হয়েছিল। তার সীমাহীন মুসলিম বিদ্বেষ, লিঙ্গ বৈষম্য ও নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সহ অনাকাঙ্খিত বিভিন্ন মন্তব্য তাকে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যমণিতে পরিণত করেছিল। যা তাকে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর চেয়ে তাকে নির্বাচনী দৌড়ে অনেকটা পিছিয়ে রেখেছিল বলেই মনে করা হতো। তাই ধরেই নেয়া হয়েছিল যে, সাবেক ফার্ষ্টলেডি ও ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী হিলারী রডহ্যাম ক্লিনটন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসের কর্ণধার হতে যাচ্ছেন।
নির্বাচনী জনমত জরিপ ও সমীক্ষায়ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিলেন। ফলে তার নির্বাচন যুদ্ধটা অনেকটা বেসুরোই মনে হয়েছিল পর্যবেক্ষক মহলের কাছে। কারণ, তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় যে অনাকাঙ্খিত মহড়া দিয়েছিলেন তা শান্তিপ্রিয় মানুষ ভালভাবে গ্রহণ করেননি বরং তাকে প্রত্যাখ্যান করার একটা সুপ্ত বাসনা কাজ করছিল তাদের মধ্যে।
ফলে ধারণ করা হয়েছিল যে, তিনি নির্বাচিত হওয়া তো দূরের কথা বরং কোন ভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও আসতে পারবেন না। দলের পক্ষে তাকে এ বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছিল। এমনকি তার প্রার্থীতা বাতিল নিয়েও দলের অভ্যন্তরের জোরালো একটা মতও ছিল।  কিন্তু তিনি তার নিজস্ব নির্বাচনী কৌশলে ছিলেন আপোষহীন ও অবিচল। বশে আত্মপ্রত্যয়ীও মনে হয়েছিল তাকে। তিনি কোন সমালোচনাকেই তোয়াক্কা করেন নি।  আর এ কারণেই বোধহয় তার এই বিজয়টা অনেকটা অবধারিত হয়েই পড়েছিল।
মূলত গোটা বিশ্বকেই অনেকটা স্তম্ভিত করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করলেন রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। এই অভাবনীয় বিজয়টা তার সমর্থকদের কাছে অভাবনীয়ই ছিল। প্রাক নির্বাচনী জরিপ,  গণমাধ্যমের ধারণা ও সমীক্ষা, বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ সবকিছুকেই ভুল ও অসার প্রমাণিত করে আগামী ৪ বছরের জন্য হোয়াইট হাউসের কর্ণধার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী হোয়াইট হাউসের চাবিটি তার হাতেই যাচ্ছে এমনটা এখন নিশ্চিত। এ বিষয়ে সকল সন্দেহ-সংশয়ের অবসানও হয়েছে।
ট্রাম্পের এই অপ্রত্যাশিত বিজয়ে মার্কিনীদের মধ্যে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন সদ্য নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অভাবনীয় ঘটনা। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অরেগন, সান ফ্রান্সিসকো, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গেছে। শিকাগো, নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, ওয়াশিংটনসহ বড় বড় কয়েকটি নগরীতে ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠছে। এসব জায়গায় বিক্ষোভ সমাবেশে ক্রমশ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
সিয়াটল, বার্কলি, পিটার্সবার্গ, ওকল্যান্ডসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। নিউইয়র্ক সিটিতে বিক্ষোভকারীরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন পরবর্তী এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এটাই বড় কথা। কারণ, যতকিছুই হোক নির্বাচনী ফলাফলে কোন হেরফের হবে না বরং আগামী ৪ বছরের জন্য হোয়াইট হাউসের কর্তৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতেই থাকবে। আর এটাই বাস্তবতা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসল পরিচয় তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। সক্রিয় রাজনীতিতে আগমন মাত্র কিছুদিন আগে। তার জীবন বৃত্তান্তে জানা যায় মূলত তিনি একজন চৌকস ও সফল ব্যবসায়ী, একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা কোন রাজনীতিক নন। রাজনীতির প্রতি নজর তার ছিলো, নির্বাচন করার বাসনাও তার ছিলো, রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষপদে আসীন হওয়ার আকাঙ্খাও নিশ্চয়ই তার ছিলো কিন্তু সত্যি সত্যিই তিনি তা পেয়ে যাবেন- এটা কি তিনি ভেবেছিলেন? যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চেহারা আর ভোটের যে ফলাফল তা প্রমাণ করে দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটা ভেবেছিলেন। আর তা এখন আলাদীনের যাদুর চেরাগের দৈত্য হয়েই তার হাতে ধরা দিয়েছে। যা বিশ্ব ইতিহাসের মহাবিস্ময় বললে অত্যুক্তি হবার কথা নয়।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান মূলধনই ছিল অতিমাত্রায় মুসলিম বিদ্বেষ। আর এই সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েই তিনি নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আর এতে তিনি শতভাগ সফলও হয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানের প্রাক্কালে তিনি মুসলিমদের সম্পর্কে বলেছিলেন,‘পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মুসলিম সম্প্রদায়কে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দেয়া উচিত।’ এ ব্যাপারে তিনি একটি লোভনীয়  প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী ইলন মাস্ককে। মাস্ককে তিনি প্রস্তাব দেন, যদি তিনি তার রকেটে করে মুসলিমদের মঙ্গলে পাঠিয়ে দিতে পারেন, তা হলে তাকে তার সরকারের পরিবহন মন্ত্রীর পদ দেবেন।  ট্রাম্পের মতে, এতে যেমন মুসলিমদের উপকার হবে, তেমনই বিশ্বে শান্তির আবহ ফিরে আসবে।
ট্রাম্প আরো বলেছেন, পৃথিবীতে শান্তি আনতে এবং আমেরিকাকে ধর্ষক মুক্ত করতে এর থেকে ভাল এবং কার্যকরী উপায় হতে পারে না। যা প্রায় সকল মহলেই ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করুন মুসলিমদের আমি ভালবাসি। আর সে কারণেই আমেরিকায় তাদের অনুপস্থিতি আমার হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে তুলবে।’
তবে তার কথার স্ববিরোধীতাও মিলেছে সদ্যপ্রাপ্ত একটি ভিডিওতে। প্রাপ্ত এই ভিডিও নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুসলমান ও পাকিস্তানের প্রতি  ভালোবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ওই ভিডিওতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। তিনি পাকিস্তানকে ভালোবাসেন। তিনি বলেছেন, ‘ও ষড়াব চধশরংঃধহ.’ অপরদিকে সৌদী রাজপরিবারের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বেশ আগেই। শুধু তাই নয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে তার ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনা এসেছে। ফলে ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষের বিষয়টি যতটা না আদর্শিক তার চেয়ে অধিক রাজনৈতিক বলেই আখ্যা দিচ্ছেন অনেকেই।
মূলত ভোটের  বিশ্ব সন্ত্রাসের জন্য সরাসরি মুসলিমদেরই দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি আমেরিকাকে ‘মুসলিম মুক্ত’ করার ডাকও শোনা গেছে তার মুখে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ের পর উল্টো পথেই হাঁটলেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই যে কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটাই তুলে দেয়া হলো ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের ওয়েবসাইট থেকে। একদিকে হিন্দু প্রীতি অন্যদিকে মুসলিম ঘৃণা, ভোট যুদ্ধের আগে এটাই ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নীতি’। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ভোট জেতার পরই সহৃদয় হলেন ট্রাম্প! ক্ষমতায় আসলে ‘আমেরিকাতে মুসলিমদের ব্যান’ করে দেবেন, এই নীতি থেকে সরে কী তবে সাম্যতার পথেই হাঁটতে চলেছেন আমেরিকার নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ? আসলে ক্ষমতা গ্রহণের পর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কোন নীতি গ্রহণ করবেন বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতখানি বাস্তবায়ন করবেন তা দিব্যি দিয়ে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’ একথা তো নির্দ্বিধায় বলা যায়।
যাহোক অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মূলত এটাই বাস্তবতা। নির্বাচনে জয়ের পরেই তার ওয়েবসাইট থেকে মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে নানান বিতর্কিত মন্তব্য উধাও হয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তার সমর্থকরা কিন্তু ঠিকই মনে করেন যে তিনি তার প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবেন। কারণ, তারা তাকে সে প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে এখন দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে-
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলো ম্যাক্সিকো সীমান্তে একটি বিশাল দেয়াল নির্মাণ করা। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিজয়ীর বক্তব্যে তিনি দেয়ালের কথা একবারের জন্যেও উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বিশাল অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলেছেন। অবকাঠামোর মধ্যে যদি দেয়ালটির কথা উহ্যও থেকে থাকে তাহলেও তিনি খুব সহজে কাজটি করতে পারবেন বলে মনে করেন না মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো। কারণ অতীতে তিনি অনেক বক্তৃতায় বলেছেন যে তিনি দেয়াল নির্মাণ করবেন ও ম্যাক্সিকোকে এর জন্য টাকা দিতে বাধ্য করবেন। কিন্তু নিজ দেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অন্য দেশকে অর্থের যোগান দিতে বাধ্য করা মোটেই বাস্তবসম্মত নয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই দেয়াল নির্মাণ করতে প্রয়োজন হবে দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ইতিমধ্যেই ম্যাক্সিকো সরকার এমন প্রকল্পে কোনও প্রকারের অবদান রাখবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এদিকে পিউ রিচার্সের তথ্য অনুযায়ী ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে ৭০ শতাংশ জানিয়েছে তারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন শুধু দেয়াল নির্মাণ করবেন এই জন্য। ক্ষমতা গ্রহণের পর বিষয়টি তাকে ঊভয়সংকটে ফেলবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকমহল। এমনকি তার জনপ্রিয়তায়ও ধস নামবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যা ট্রাম্পের পথ চলাকে কন্টকার্কীর্ণ করতে পারে।  
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবহৃত আরেকটি বহুল প্রচারিত স্লোগান ছিলো ‘লক হার আপ’ বা তাকে (হিলারিকে) বন্দী করো। ই-মেইল কেলেংকারির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বে হিলারির সামনেই বলেছেন যে তিনি নির্বাচিত হলে তার বিরুদ্ধে বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেবেন ও তাকে জেলে নেবেন। যদিও নির্বাচিত হওয়ার তার নির্বাচনি প্রচারণা ব্যবস্থাপক কেলিঅ্যান কোনওয়ে বলেন, ‘ট্রাম্প এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছেন। তবে আমরা গত কয়েকদিনে হিলারির পুনঃতদন্ত নিয়ে কোনও আলোচনা করিনি। আমি মনে করি, এসব কথা বলার সময় এটা নয়।’ মনে করা হচ্ছে হয়তো ট্রাম্প হয়তো সেদিকে আর কোনভাবেই অগ্রসর হবেন না।
আসলে রক্ষণশীল মার্কিনীরা ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী অবস্থানের জন্যে তাকে ভোট দিয়েছেন। তারা চায় ট্রাম্প যেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন। যদিও ইতিমধ্যেই মুসলিমদের নিষিদ্ধ করা বিষয়ক সব কথাবার্তা ট্রাম্পের ওয়েবসাইট থেকে গায়েব হয়ে গেছে। ফলে এ ধারণা ষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষ ছিল শ্রেণি বিশেষের ভোট করায়ত্ব করার কৌশল মাত্র। বাস্তবে তার পক্ষে এ ধরনের জাতিগত কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বা তিনি সে পথে অগ্রসরও হবেন না।
নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার ওবামা কেয়ারকে একটি অত্যন্ত বাজে পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটিও বলেছিলেন যে তিনি নির্বাচিত হলে ওবামা কেয়ারকে বাতিল করে একটি আরও ভালো স্বাস্থ্য পরিকল্পনা নিয়ে আসবেন। তবে এতে স্বাস্থসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অন্তত দুই কোটি মানুষ। যা বিশাল ট্রাম্পবিরোধী অন্দোলনের জন্ম দিতে পারে।
নর্থ আমেরিকান ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নাফটা) ও ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (টিপিপি) কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নির্বাচিত হলে এসব চুক্তির শর্তাবলী পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনবেন। কিন্তু এই পরিকল্পনা বুমেরাং হয়ে বিশ্বব্যাপি মার্কিন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। অনেকে মনে করেন এসব চুক্তি বিল ক্লিনটনের সময়কালে হওয়ার কারণে ট্রাম্প কেবলই হিলারিকে হেনস্তা করার জন্যই সব চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নও ট্রাম্পের জন্য মোটেই সহজ হবে না।
তবে কারণ ও বাস্তবতা যা’ই হোক না কেন সমর্থকরা চান ট্রাম্প এসব কথা বাস্তবায়ন করুন। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই ধর্মবিদ্বেষকে সার্থকভাবে কাজ লাগিয়েছিলেন একথা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটানো কতখানি সম্ভব হবে বা তিনি সে পথে অগ্রসর হবেন কিনা তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে। তবে বিষয়টি তার উভয় সংকটই সৃষ্টি করবে বলেই মনে হচ্ছে।  যদি তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করেন তাহলে তিনি তার পাঁচকোটি ৭০ লাখ সমর্থকের সমর্থন হারাবেন, যদি করেন তাহলেও সমানসংখ্যক মার্কিনীর কাছে বিরাগভাজন হবেন।
মূলত নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যত কথায় বলা হোক না কেন বাস্তবতা কিন্তু তা মোটেই সমর্থন করে না। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সিনেট ও কংগ্রেসের উপর নির্ভরশীল। তবে নির্বাচনী ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষেই বেশ জোরালো  অবস্থানই নিশ্চিত করেছেন। তাই মনে করা হচ্ছে যে, অন্যান্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ শক্তিশালীই হবেন। তাই আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতিতে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে তা এখনই দিব্যি দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাচনী প্রতিশ্রতি থেকে পুরোপুরি সরে আসবেন একথা বলার সুযোগ এখনই সৃষ্টি হয়নি। এ জন্য আমাদেরকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেই হবে বৈকি!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ