ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় ৫ পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১॥ আহত ৩১

সংগ্রাম ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ পুলিশসহ ১১ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার দুর্ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। গত শনিবার দিবাগত রাতে বগুড়ার শেরপুরে দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ ৭ জন নিহত হন। এছাড়া ধুনটে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে একজন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে একজন নিহত ও ১০ জন আহত, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাইক্রোবাস-যাত্রীবাস সংঘর্ষে এক প্রসূতি নিহত ও ৬ জন আহত হন এবং গাজীপুরে বাস চাপায় এক শিশু নিহত হয়েছে।
বগুড়া অফিস : বগুড়ায় পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী ও ৫ পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে বিপরীতমুখী দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পুলিশ সদস্যরা কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সরকারি পোশাক পরিচ্ছদ আনার জন্য ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যাচ্ছিলেন বলে জানাগেছে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ৯ সদস্য একটি রিকুইজিশন করা ট্রাক যোগে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়র্টার্সে যাচ্ছিলেন। শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর নামক স্থানে বিপরীতমুখি একটি সার বোঝাই ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চার পুলিশ সদসসহ ৬ জন নিহত হন।  শেরপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক পুলিশ সদস্য মারা যান। নিহতরা হলেন কুড়িগ্রাম  জেলা পুলিশ ও পুলিশ  বেতারে কর্তব্যরত কনস্টেবল আলমগীর, শাহজাহান, শামছুল, সোহেল, প্রনব, কুড়িগ্রাম  জেলা পুলিশে কর্মরত ঝাড়ুদার শ্যামল ও রিকুইজিশন ট্রাকের ড্রাইভার মোঃ আঃ রহমান। গুরুতর আহত এসআই মইনুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায়  প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমান।
এদিকে, বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি এলাকায় যাত্রীবাহি বাস উল্টে আমেনা খাতুন (৭) নামের এক শিশু নিহত এবং কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০ টার দিকে ধুনট- গোসাইবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমেনা খাতুন ধুনটের চুনিয়াপাড়া চৌধুরীপাড়া ব্র্যাক স্কুলের শিশু শ্রেনীর ছাত্রী। সে নানীর বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতো। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মল্লিকপাড়া চরে। তার পিতার নাম আমিনুর ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, গোসাইবাড়ি থেকে তামান্না পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বগুড়া আসছিল। পথিমধ্যে ধুনট উপজেলার বাকসাপাড়া এলাকায় একটি ভ্যানগাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে বাসটি উল্টে যায়। এতে শিশু আমেনা খাতুন মারা যায় এবং কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়। আহতদেরকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বাসটি ড্রাইভারের পরিবর্তে হেলপার চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে, চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই বাসের যাত্রী বাচ্চু মিয়া (৩৫) নামে একজন নিহত ও  ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামনিয়া গ্রামের মৃত সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে। তিনি  ফেরি করে ফুলঝাড়ু বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে। 
ঝলমলিয়া হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট হামিদুর রহমান জানান, রোববার সকালে কালিকাপুর চেয়ারম্যান মোড় এলাকায় নাটোর থেকে লালপুরগামী মা খাদিজা পরিবহণ (নাটোর জ ০৪-০০২১) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রী বাচ্চু মিয়া নিহত ও আরো ১০ জন আহত হন। আহতদেরদেরকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের  চৌদ্দগ্রাম আটগ্রাম রাস্তার মাথা নামক স্থানে একটি মাইক্রোবাস ও এস আলম বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে  সনিয়া আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতি মা নিহত হয়েছেন। এসময় আরো ৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১২ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে ।
জানাযায়, নিহত সনিয়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের আবদুল কাদের মেয়ে। রোববার সকালে উপজেলার একটি হসপিটাল থেকে এই প্রসূতিসহ তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে যাওয়ার সময় আটগ্রাম নামক স্থানে উল্টো রাস্তা  দিয়ে দ্রুত গতিতে আসা এস আলম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস(ঢাকামেট্রো-ব-১১-০৫৮৩) মাইক্রোবাসটিকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসের সম্মুখ অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের যাত্রী প্রসূতি ফাতেমা আক্তার সোনিয়াসহ ৭ জন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমেকে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সনিয়ার একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।
আহতরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধিন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানগেছে।
আহতরা হলেন, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আলা উদ্দিন(২৮), একই গ্রামের কাদের মিয়ার স্ত্রী খালেদা আক্তার(৪০), বড় মিয়ার মেয়ে জাহেদা বেগম(৪০), কবরুয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী শাহেনা বেগম, ছেলে সাদ্দাম (৩১) ও মাইক্রোবাস চালক  পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামের মোঃ খোকন(৩২)।
চৌদ্দগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গাজীপুর সংবাদদাতা : আত্মীয়ের বাড়ি বেড়ানো শেষে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে বাসের চাকায় পৃষ্ট হয়ে শনিবার রাতে এক শিশু নিহত হয়েছে। নিহতের নাম আরজিনা (১২)। সে নওগাঁ জেলার রানীনগর গ্রামের বাবুর মেয়ে।
নিহতের মা ফোয়ারা বেগম জানান,ঢাকার মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায়  বেড়ানো শেষে শনিবার রাতে দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ফোয়ারা। পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পাড় হচ্ছিলেন। এসময় ঢাকাগামী একটি বাস তার মেয়ে আরজিনাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে আরজিনা মারা যায়। নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এমরান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করলেও বাসটি আটক করা সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ