ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রায়পুরার নিলক্ষার চরে আওয়ামী লীগের দুই লাঠিয়াল বাহিনীর সংঘর্ষ

নরসিংদী সংবাদদাতা : রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের ৪টি গ্রামে ২ লাঠিয়াল বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ নিলক্ষা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থক জাকির হোসেন ও সুবেদ আলী গ্রুপের মধ্যে সৃষ্ট এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমবেশী অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট হয়েছে ৪টি বাড়িতে। আহতদের মধ্যে জলিল (২৫), ফারুক (৩০), শাহ আলম (৩২), লাবিব (৩৪), আদম আলী (৩৫), মোমেন (৩০), খোরশেদ (২৮), আব্দুল হামিদ (৩২), সুমেদ আলী (৩৮), জাহাদ আলী (৩১), লিয়াকত আলী (৩৩), বশকু (৩০), শাহীন (২২) ও শফিক (২৮) নামে ১৪ জনের নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়ে আহত হয়েছে অন্ততঃ ৫ জন। পুলিশী ঝামেলা এড়ানোর জন্য আহতরা গোপন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বোমার আঘাতে আহতদের মধ্যে শাহীন ও শফিক নামে দুই জনকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টেটাবিদ্ধদেরকে স্থানীয় একজন পল্লী চিকিৎসক চিকিৎসা দিচ্ছে বলে গ্রামের লোকজন জানিয়েছে। মারামারির টেটা, এককাইট্টা, বল্লম ও তীরের আঘাতের চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রামে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই সংঘর্ষ চলাকালে দুর্বৃত্তরা পুলিশের একটি ওয়ারলেস ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। লাঠিয়ালদের প্রতিরোধের মুখে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
জানা গেছে, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের পক্ষে জাকির ও সুবেদ আলী নামে প্রভাবশালী দুই লাঠিয়াল নির্বাচনে কাজ করে। নির্বাচনের পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই লাঠিয়ালদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসব সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের লাঠিয়ালরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি নিয়ে বসে থাকে। এতোদিন এলাকায় পানি থাকায় উভয় গ্রুপ যার যার অবস্থানে ওৎপেতে বসেছিল। পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে গতকাল রোববার সকাল থেকে  বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়।  বেলা ১২টার দিকে উভয় পক্ষ টেটা-বল্লম ও ককটেল বোমা নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। লাঠিয়ালরা বীরগাও, আমিরাবাদ, হরিপুর ও দড়িগাও গ্রামে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও সংঘর্ষ দমন করতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল।
উল্লেখ্য, এ দুই গ্রুপের মধ্যে এ পর্যন্ত সর্বমোট ছোট বড় ৪টি সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি খুন হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক লোক। প্রায় একশ বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ করে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। ভাংচুর হয়েছে দুই শতাধিক বাড়ি। ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্থরা। রায়পুরা থানায় মামলা রুজু হয়েছে ৫টি। আসামীর সংখ্যা প্রায় চার হাজার। ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় হাজার লোকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করেছে আদালত। কিন্তু পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করে নিরীহ লোকদের আটক করে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ