ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালিত

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের ‘নুহাশপল্লী’তে মরহুম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রবিবার পালিত পালিত হয়েছে। জন্মদিনে জনপ্রিয় এ লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে তার কবরের পাশে নামে মানুষের ঢল।
হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার রাতে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে হুমায়ুন আহমেদের হতে গড়া ‘নুহাশ পল্লী’তে  মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে  রোববার সকাল  থেকেই  হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা নুহাশপল্লীতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তারা তাদের প্রিয়  লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। ভক্তরা দিনভর তাদের প্রিয় লেখকের হাতে গড়া নুহাশপল্লী ঘুরে ঘুরে দেখেন।
এদিকে, ভোরে  হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেন। কবর জিয়ারত শেষে নুহাশপল্লীতে হোয়াইট হাউসের পাশে স্থাপিত হুমায়ূন আহমেদের ম্যুরালের সামনে আপেল তলায় হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের কেক কাটেন তার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত। এসময় শতাধিক ভক্ত, গণমাধ্যমকর্মী ও নুহাশপল্লীর কর্মচারীরাসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ূন আহমেদের ভাই জাফর ইকবাল, কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে নুহাশপল্লীতে আসেন এবং কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের মত লেখকেরা কখনো চলে যান না। তারা সব সময় থাকেন পাঠকদের হৃদয়ে, ভক্তদের হৃদয়ে। হুমায়ূন আহমেদকে প্রকৃতভাবে জানতে হলে তার একটা, দু’টা বই পড়লে হবে না। তার সবগুলো বই পড়তে হবে। কারণ তার দর্শনের সংমিশ্রণগুলো একটি বইতে পাওয়া যাবে না।
তিনি আরো বলেন, হুমায়ূন আহমেদ খুব সহজভাবে জন্মদিন পালন করতেন। জন্মদিনে আমরা আসলে খুশি হই।  হুমায়ূন আহমেদ জন্মদিন আসলে আনন্দটা শেয়ার করতেন, অন্যের আনন্দটা নিজের সঙ্গে শেয়ার করতেন। এই আনন্দের মাঝে খুব সূক্ষ্মভাবে একটা দুঃখবোধ ছিল যে মৃত্যুর দিকে আরও একটি বছর এগিয়ে যাওয়া।
ড. জাফর ইকবাল বলেন, হুমায়ূন আহমেদের বই মানুষ যতোদিন পড়বে, ততোদিন  হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবে। কাজেই হুমায়ূন আহমেদকে আলাদাভাবে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা আমাদের কাউকে করতে হবে বলে আমার মনে হয় না। হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিগুলো এখন দেশের বাইরেও ভিন্ন ভাষায় প্রচার হচ্ছে। এটা ভালো যে মানুষ তাকে আরও ভালোভাবে এবং বেশি জানতে পারছে। তবে সেগুলো নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা এটা আমার জানার বিষয়। তাকে নিয়ে অনেকে বাণিজ্য করছে। ওই বাণিজ্যটা সঠিকভাবে করছেন কি না সেটা খেয়াল রাখা দরকার।  কারণ, হুমায়ূন আহমেদের উত্তরাধিকার হলো তার সন্তানেরা। তারা রয়েলিটি পাচ্ছে কিনা বা তাদের অনুমতি নিয়ে প্রচার বা প্রকাশ হচ্ছে কিনা সেগুলো দেখা দরকার।

প্রসঙ্গত ১৯৪৮ সালের ১৩ নবেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন আহমেদ। তার ডাক নাম ছিল কাজল। বাবার রাখা তার প্রথম নাম শামসুর রহমান। পরে তিনিই তার ছেলের নাম বদলে রাখেন হুমায়ুন আহমেদ। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে  ভুগে ২০১২ সালের ১৯জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাকে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে দাফন করা হয়।
হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে শেষদিকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ড. জাফর ইকবাল
কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, ব্যক্তিজীবনের জন্য হোক বা যে-কোন কারণেই হোক, শেষ দিকে হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমাদের একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তার আয়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে -এটা যদি আমি জানতাম তাহলে অবশ্যই আরো আগে সেই দূরত্বটা ঘুচানোর চেষ্টা করতাম। তার সঙ্গে আরো ক্লোজ হওয়ার চেষ্টা করতাম। এজন্য এখন আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে অপরাধবোধে ভুগছি।
গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে ভাই হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে কবর জিয়ারতে গিয়ে গতকাল সকালে ড. জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওইসব কথা বলেন। এসময় ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, হুমায়ূন আহমেদ যখন অসুস্থ হয়ে ছিলেন তখন আমি তাকে দেখতে নিউইয়র্কের হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত তিনি তখন লাইফসাপোর্টে ছিলেন। তার সঙ্গে আসলে সেভাবে কথা বলতে পারি নাই। আমরা কথা বলেছি, সে হয়তো তা বুঝেছে কিন্তু তার উত্তর দিতে পারেন নাই। কাজেই তার শূন্যতা এখন প্রতিমুহূর্তে অনুভব করি। আমার ধারণা শুধু আমরা নয়, বাংলাদেশের অনেক মানুষই তার শূন্যতা অনুভব করছেন। তিনি শুধু আমাদের হুমায়ূন আহমেদ নয়, বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের হুমায়ূন আহমেদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ