ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ায় ওসিসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় এক কৃষককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার অপরাধে ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। কুষ্টিয়ার ইবি থানার কৃষক দাউদ হোসেন হত্যা মামলায় রোববার কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা জারিকৃত তিন পুলিশ সদস্য হচ্ছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, এস আই রবিউল ইসলাম ও কনস্টেবল ফারুক হোসেন।
আদালত সূত্রে জানায়, ২০০৭ সালের ১৯ জানুয়ারি কৃষক দাউদ হোসেনকে তার নামে মামলা আছে বলে নিজ বাড়ি থেকে এই তিন পুলিশ সদস্য ধরে নিয়ে আসে। ক্রসফায়ারে হত্যা করার ভয় দেখিয়ে তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। দাউদের পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন ২০ জানুয়ারি কৃষক দাউদ হোসেনকে সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করে ইবি থানা পুলিশ।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানা পুলিশ আদালতে এফআরটি দাখিল করে। নিহত দাউদ হোসেনের স্ত্রী রোমেছা খাতুন বাদী হয়ে পুলিশের দেওয়া এফআরটির বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে নিহত দাউদ হোসেনের স্ত্রী রোমেছা খাতুন আদালত ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জুডিশিয়ালসহ তিন দফা তদন্ত শেষে সিআর ৯৬/১৬ নং মামলা হিসেবে আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে আদালত রোববার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ট্রাকের সংর্ঘষে আহত ১৩
কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস শ্যামলী পরিবহন ও ট্রাকের সংর্ঘষে দুই ড্রাইভারসহ আহত হয়েছেন ১৩ জন। শনিবার মধ্য রাতে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের ভেড়ামারা আটমাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুর রশিদ জানান, রাতে শ্যামলী পরিবহন কুষ্টিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে ভেড়ামারা আটমাইল নামক স্থানে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সাথে সংর্ঘষ হয়। সংর্ঘষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। আহতরা হলেন, সিদ্দিকুর (৪০), মাহবুব (২৫), আলমগীর (২৫), পিন্টু (২৫), নুরুল ইসলাম (৫০), আজাদ (৩৫), শমসের (৩০), দিনুকর (২০), গিতা (৬০), ইদ্রিস (৫০), ইসরাইল (২২), সুমন (৩৫) ও কাদের (৩৫)। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মইনুদ্দিন জানান, আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক।
পুলিশ সদস্য গরম তেলে ঝলসে দিলেন স্ত্রীর শরীর
কুষ্টিয়ার মিরপুরে গরম তেল ও সিগারেটের আগুনে স্ত্রীর শরীর ঝলসে দিয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। গুরুতর আহতাবস্থায় টুম্পা শীল নামের ওই গৃহবধূকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসহনীয় যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি। এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সুজন কুমার শীলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে।
টুম্পা শীল জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্বামী মিরপুর থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সুজন কুমার শীল তার শরীরে সিগারেটের ছেকা দেন কয়েক দফা। পরদিন শুক্রবার ফুটন্ত তেলে ঝলসে দেন শরীর। এতে ডান হাত ও পায়ের কিছু অংশ ঝলসে যায়। পরে সন্ধ্যায় আহত টুম্পাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রকিবুল হক জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন গৃহবধূর অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে তার শরীরে আগুনে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই কনস্টেবল সুজন কুমার শীল স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। যৌতুকের কারণেই এমন নির্যাতন করেতেন বলে জানান তারা।
এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সুজন কুমার শীলকে এরই মধ্যে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দিন।
পুলিশ কনস্টেবল সুজনের গ্রামের বাড়ী পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার ধুলাউড়া গ্রামে। আর স্ত্রীর বাড়ি একই জেলার রাধানগর এলাকায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ