ঢাকা, সোমবার 14 November 2016 ৩০ কার্তিক ১৪২৩, ১৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চাল নিয়ে চালবাজি

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: উখিয়ায় চলমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতাধীন পালংখালী ইউনিয়নের ১ ও ২নং ওয়ার্ডের ১০ টাকা কেজির চাল পাচ্ছে বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিরা। গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তৈরি করা তালিকায় প্রবাসী ও অস্তিত্বহীন কার্ডধারী রয়েছে। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ করেছে পালংখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী ভুট্টো।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ঘোষিত ও বাস্তবায়িত ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণ কর্মসূচীতে পালংখালী ইউনিয়নের ১ ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যগণ এবং ওই এলাকায় নিযুক্ত ডিলারগণ স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। উল্লেখিত ইউপি সদস্যগণের প্রণীত তালিকায় ভিজিডি, বিধবা, বয়স্কভাতা ও ভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ব্যক্তিগণের নামে ১০ টাকা কেজির কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিদেশে বসবাসরত অর্থবিত্তশালী ব্যক্তি ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে। যে কারণে এলাকার হতদরিদ্র ব্যক্তিরা ১০ টাকা কেজির চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, পালংখালী ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ কর্মসূচীর টেক অফিসার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শওকত হোসেন ও খাদ্য কর্মকর্তা সুনীল দত্তসহ প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পালংখালী ১ ও ২নং ওয়ার্ডের এলাকা ঘুরে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এব্যাপারে খাদ্য কর্মকর্তা সুনীল দত্ত জানান, গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পালংখালী ১নং ওয়ার্ডে তদন্ত করে কোন অনিয়ম পাওয়া যায়নি। আজ বুধবার ২নং ওয়ার্ড তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ৮ নং ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকৃত হতদরিদ্রদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলায় ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বর রেজাউল ইসলাম হত দরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড বিতরণের স্বজনপ্রীতি করেছে। প্রকৃত দরিদ্ররা এই কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিত্তশালীরা এই কার্ডের চাল উত্তোলন করায় সরকারের কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হত দরিদ্রদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা।
এ ব্যাপারে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ বিশ্বাস বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও সি এল এস ডি) তদন্ত করেছেন। বড় ধরনের কোন অনিয়ম পাওয়া যায়নি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল গফুর, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, মেম্বর রেজাউল ইসলাম, সবাই মিলে তালিকা করেছেন। চাহিদার তুলনায় কার্ড স্বল্পতা থাকায় দুএকজন  দরিদ্র মানুষ বাদ যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
ও সি এল এস ডি (কালিগঞ্জ) হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেছি। তদন্তকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বর ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যাচাই বাচাই করে খুব দ্রুত তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা কেজির চাল ওজনে কম দেওয়ায় উপজেলার  ৯ নম্বর দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বেপারীর ছেলে মোঃ ফয়সালের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এঘটনায় চালের ডিলার ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেনকে শোকজ করা হয়।
শুক্রবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শিল্পী রানী রায় এ জরিমানা করেন। এর আগে উপজেলার উদমারা গ্রাম থেকে চাল ওজনে কম দেওয়ার সময় মোশারফ হোসেন ফয়সাল তিনি হাতেনাতে আটক করেন। ফয়সাল দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।
উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর কার্ডধারীদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রি ও ওজনে কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এতে  ঘটনার সময় ওই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে (উদমারা) গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিনে গিয়ে ওজনে এক থেকে তিন কেজি করে চাল কম দেওয়ার সত্যতা পায়। এসময় মোশারফ হোসেন ফয়সালকে আটক করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়।
এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী রায় বলেন, চাল ওজনে কম দেওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আটক ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ডিলারকে পাওয়া যায়নি। এজন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
মহেশখালী
কুতুবজোম ইউনিয়নে ১০টাকা মুল্যের চালের কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা, সোনাদিয়া, তাজিয়াকাটাঁ ও নয়াপাড়া এলাকার জন্য অসহায়, গরীব ও দুস্থদের জন্য ১০ টাকা মূল্যে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য ৪৭০ টি কার্ডের জন্য ১৪ টনের উর্ধ্বে অর্থাৎ ১৪ হাজার ১০০ কেজি চাল সরকারী ভাবে ধার্য্য করা হয়েছে। এতদসত্বে ও এলাকার কিছু কুচক্রি মহলের ইন্ধনে কার্ড ও চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ