ঢাকা, মঙ্গলবার 15 November 2016 ১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এসব কিসের আলামত?

বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশী সংখ্যালঘুরা। পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এনআরবি নিউজ পরিবেশিত খবরে আরো বলা হয়- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা এবং মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ১১ নবেম্বর নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ওই আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, এবার আমেরিকার নির্বাচনে বাংলাদেশ ও ভারতের অধিকাংশ হিন্দুই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণের পাশাপাশি তারা নগদ অর্থও প্রদান করেছেন।
আমরা জানি, ঐতিহাসিক কারণেই আমাদের এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার সমস্যাটা এখনও রয়ে গেছে। তবে এই সমস্যার মাত্রা সব দেশে এক রকম নয়। আমাদের উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সমস্যার মাত্রা ভারতে সবচেয়ে বেশি। আর এর মাত্রা সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। এ কারণেই বাংলাদেশকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আর এবার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে হামলা হয়েছে তার লক্ষণ কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। বরং পত্র-পত্রিকার খবর ও বিশ্লেষণে রাজনৈতিক চরিত্রটি উঠে এসেছে। ক্ষমতাসীন দলের কোন্দল, পদবঞ্চনাসহ রাজনৈতিক বিতণ্ডা মুখ্য বিষয় বলে এলাকার মন্ত্রীও উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি, নাসিরনগরের ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা পুরো বিষয়টা স্পষ্টভাবে জানতে পারবো। তবে আশার কথা হলো, নাসিরনগরসহ দেশের জনগণ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাথে সাথে রুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবই সচেতন ও আন্তরিক। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা যায় যে, নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে দেশে এবং বিদেশে এত হৈ চৈ করার পরও কেউ তো বলতে পারছে না যে, সেখানে একজন হিন্দুরও প্রাণহানি হয়েছে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে তো প্রতি বছরই নানা ছুতোয় মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। শুধু গরুর গোস্ত খাওয়ার অপরাধে মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে তো দেশে কিংবা বিদেশে কাউকে উচ্চকণ্ঠ হতে দেখা যায় না। কিন্তু আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করা হবে কেন? ডোনাল্ড ট্রাম্প কি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট? তার উগ্র ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের কারণে এখন তো যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের উপর হামলার নানা ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এমন একজন প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালো তারা কোন্ কাণ্ডজ্ঞানে। আমরাতো একথা জানি যে, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। এক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করা গেলে তা বলতে হবে বাংলাদেশ সরকারকেই। আর সরকার যদি এক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তাহলে সংবিধানের আলোকে যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার রাখে মজলুম সম্প্রদায়সহ দেশের জনগণ।
নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সংখ্যালঘুরা যে প্রপাগাণ্ডা চালালো, তাতে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। কিছুদিন আগে নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে ভুলবার্তা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও। আর ১০ নবেম্বর রাতে বিবিসির প্রবাহ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে খুবই আপত্তিকর কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যে ধরনের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সবার মধ্যেই সংখ্যালঘুদের বিতাড়নে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন জাগে -এসব কিসের আলামত?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ