ঢাকা, মঙ্গলবার 15 November 2016 ১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপির জনসভা বিপিএল ভবনের জবরদখল ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে উচ্চ আদালতের ভূমিকা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের পিতা জনাব মো. হানিফ দীর্ঘদিন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন সদালাপী, বন্ধুবৎসল, অমায়িক ও নিষ্ঠাবান লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতানৈক্য অনেক ক্ষেত্রে তাকে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত রাখতে পারতো না। তার মধ্যে এমন কিছু গুণ ছিল যা সাধারণত ট্র্যাডিশনাল আওয়ামী লীগারদের মধ্যে পাওয়া যেতো না। নীতিগত প্রশ্নে তিনি অটল থাকতেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার প্রতি বিরূপ হলেও তিনি তার পরোয়া করতেন না। তিনি সেক্যুলার তথা ধর্মহীন রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না এবং মৃত্যুর পূর্বে ইসলামকে রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হিসেবে স্বীকার করে একাধিকবার বক্তব্য রেখে দলের বিরাগভাজনও হয়েছিলেন।  তার পুত্র জনাব সাঈদ খোকন বর্তমানে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পিতার উত্তরাধিকার কতটুকু রক্ষা করছেন এ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন। ব্যক্তিগতভাবে  তাকে সকলেই পিতার ন্যায় ভদ্র, নম্র ও সদালাপী বলে মনে করেন। তবে মেয়র হিসেবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি দলীয় গণ্ডি যেমন পার হতে পারেননি, তেমনি তার অধীনস্থ ওয়ার্ড কমিশনারদের কারুর কারুর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অন্যের সম্পত্তি জবরদখল, অনাচার প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে তার ব্যক্তিগত সাফল্য যেমন ম্লান হচ্ছে তেমনি অন্যদের অপকর্মের দায়ও তার ঘাড়ে এসে পড়ছে। বলাবাহুল্য মেয়র নির্বাচিত হবার পর জনাব সাঈদ খোকন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগারদের প্রতিনিধি নন, সকল দলেরই প্রতিনিধি। এ প্রেক্ষিতে তার কাছ থেকে ঢাকাবাসী দল মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান আচরণ যেমন আশা করেন তেমনি তার আওতাধীন এলাকার সুশাসনও কামনা করেন।
দু’টি উদাহরণ দিচ্ছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ৭ নবেম্বর সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রথমত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও পরে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে জনসভা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। পত্র-পত্রিকায় মেয়র সাঈদ খোকন এবং ডিএমপির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, রাস্তায় মিটিং করতে দেয়া হবে না, ভালো কথা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হরহামেশা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে যে জনসভা হয় তা কি রাস্তা নয়? শতাব্দী পুরাতন জনসভার স্থানগুলো আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকলে জনসভা করার জন্য তো রাস্তা খুঁজতে হয় না। আবার কেউ রাস্তা ব্যবহার করবে, কারুর জন্য রাস্তা হারাম এটা তো কোনো নৈতিক মানেই গ্রহণযোগ্য হয় না। সাধারণ মানুষের ধারণা ডিএমপি যা করছেন তা তারা নিজেরা করছেন না যারা উপরে আছেন তারাই তাদের দ্বারা করাচ্ছেন। অবশেষে বিএনপির প্রতি অতি সদয় হয়ে জনসভা করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বরাদ্দ করা হয়েছিল, তাও ২৭টি শর্তে। এ ধরনের শর্তের কয়টি ক্ষমতাসীন দল সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশন উত্থাপনকালে মেনেছিল? তাদের যদি শর্ত মানতে না হয় তাহলে অন্যদের মানতে হবে কেন? তদুপরি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কি জনসভা করার স্থান? দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিক খেলা খেলে জনসভা করতে দেয়া হলো না, এটা দুঃখজনক, দুনিয়ার মানুষকে ক্ষমতাসীনরা কি অন্ধ মনে করেন? তারা কি বিবেক ও অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছেন? চোখের সামনে একটি সরকার সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকারগুলোকে হত্যা করছে তারা কি চোখ বন্ধ করে রেখেছেন?
দ্বিতীয় উদাহরণটি হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরশনের অধীন ৯নং ওয়ার্ডের আরামবাগের ৮৯ ও ৮৯/১ হোল্ডিং-এ অবস্থিত বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের অফিস ভবনসহ একটি নয়তলা ভবন ও দু’টি ৪ তলা ভবন জবরদখল সংক্রান্ত। বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেড একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের অধিক এবং ক্রয়সূত্রে মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে এই সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু গত বছর জুলাই মাসের ২ তারিখে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার মমিনুল হক সাইদের সহযোগীরা দল বল নিয়ে বিনা কারণে প্রতিষ্ঠানটির অফিসে হামলা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়, অফিস সরঞ্জামাদি লুটপাট করে এবং ভবনগুলোর জবরদখল নেয়। তারা ভাড়াটিয়াদেরও মারধর করে এবং গত ১৭ মাস ধরে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া বাবদ আদায় করে নিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী স্থানীয় থানাকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে থানায় অভিযোগটি ডাইরীভুক্ত করা হয়নি। বিপিএল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। অবশেষে তারা বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কর্পোরেশনের মেয়র জনাব সাঈদ খোকনের সাথে সাক্ষাৎ করে সম্পত্তি দখলমুক্ত করার আবেদন জানান। তিনি ধৈর্য ধরে তাদের কথা শোনেন, সহযোতিার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার মমিনুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে তার সাথে সাক্ষাৎ করার পরামর্শ দেয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত সহকারীকে নির্দেশ দেন। জানা গেছে, এ ঘটনার পর ৯ মাস অতিবাহিত হয়েছে। ইতোমধ্যে তার সাথে পুনঃসাক্ষাৎ চেয়েও বিপিএল এর কর্মকর্তারা ব্যর্থ হয়েছেন। লিখিতভাবে তাকে তিনটি রিমাইন্ডারও দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। আবার এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বাড়ি আরামবাগ বিপিএল ভবনের পেছনে এবং তার বাড়িতে যাবার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এসব ভবনের একাংশ ভেঙ্গে ফেলার প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। শোনা কথা কান না  দেয়ার প্রচলন থাকলেও আওয়ামী লীগ আমলে না দিয়ে উপায় নেই। কারণ জবরদস্তি সম্পত্তি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুলুম-নির্যাতনের ট্র্যাডিশনে তারা অনেক এগিয়ে থাকেন এবং থাকেন বলেই একজন ওয়ার্ড কমিশনার সন্ত্রাসী কায়দায় সাড়ে তিন হাজার লোকের সম্পত্তি দখল করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তা ভোগ দখল করছেন। তার সাঙ্গপাঙ্গরা বলে বেড়াচ্ছে যে, এর ভাগ নাকি সকলেই পায়। পায় কিনা আমি জানি না তবে মেয়র হানিফের সুযোগ্য পুত্র মেয়র সাঈদ খোকন এবং আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের যার পিতৃকুল এবং মাতৃকুলের সকলেই সজ্জন হিসেবে পরিচিত, এই দুইজন একটি দৈনিক পত্রিকার মুদ্রাকর ও প্রকাশক কোম্পানির জবর দখলকৃত অফিস ও বাণিজ্যিক ভবনসমূহ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করে কোম্পানিকে ফেরত দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আমি মনে করি। জনাব ওবায়দুল কাদের একজন কর্মতৎপর ব্যক্তি; তিনি দলকে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীমুক্ত করার ব্যাপারে অনেক ভালো ভালো কথা বলছেন। টেস্ট কেস হিসেবে বিপিএল ভবনটি জবর দখলমুক্ত করে তিনি তার কথা ও কাজের মিল প্রদর্শন করতে পারেন।
॥ দুই॥
বহু প্রতীক্ষার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় (সন্দেহজনক কারণে) গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় রিমান্ডের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারকদের প্রতি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিবি পুলিশ ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে এবং ব্যাপক পুলিশী নির্যাতনে পুলিশ হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়। রুবেলদের বাসা ছিল শান্তিবাগে এবং আদি নিবাস ছিল ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার বৈঠারপাড়া নামক গ্রামে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করে। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ৭ বিচারপতি হামিদুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার এবং রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারার বিধান ৬ মাসের মধ্যে সংশোধন করার জন্য দিকনির্দেশনাসহ এক যুগান্তকারী রায় দেন। তৎকালীন সরকার উক্ত রায় বাস্তবায়ন না করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। প্রায় তের বছর পর সুপ্রিম কোর্ট ঐ আপিলটি গ্রহণ করে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত গাইড লাইনের সাথে কয়েকটি নতুন ধারা সংযোজন করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছেন। গাইড লাইনগুলোর মধ্যে দশটি আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আর ৯টি গাইড লাইন আছে ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকদের জন্য।
পুলিশ, র‌্যাব তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ ধারায় আটক রাখার জন্য কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে না। গ্রেফতার অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে। গ্রেফতারকৃত এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা যদি পরিচয়পত্র দেখতে চান তাহলে তাদেরকে অবশ্যই তা দেখাতে হবে। গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঐ ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন অথবা বন্ধু-বান্ধবকে গ্রেফতারের সময় এবং স্থান জানাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এবং ট্রাইব্যুনালকে প্রদত্ত গাইড লাইনসমূহ সঠিকভাবে প্রতিপালিত হলে নিঃসন্দেহে নাগরিকদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় এই রায় একটি মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে। কিন্তু হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম প্রদত্ত গাইড লাইন মানার ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় আপিল চলাকালীন সময়ে আইনের যে অপব্যবহার হয়েছে, নাগরিকরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন এই রায় থেকে তারা উপকৃত হবেন না; অনেকে মনে করেন আপিল বিভাগের তরফ থেকে তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হলে তারা অথবা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য তা একটা সুখবর বয়ে আনতো।
আমরা এক অসভ্য জগতে বাস করছি। সরকার বিরোধী হিসেবে পরিচিত অনুমিত কোনো ব্যক্তি তার বাড়িতে পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান, দোয়ার মাহফিল, ইফতার মাহফিল এমনকি ৪/৫জন বন্ধু-বান্ধবকে  নিয়ে কোনো পরামর্শ সভায় বসলেও “নাশকতার ষড়যন্ত্র” আখ্যা দিয়ে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় হাজার হাজার লোককে গ্রেফতার করেছে এবং তারা জামিন পাচ্ছেন না। আবার কাউকে রাস্তাঘাট থেকেও ধরে নিয়ে গিয়ে ডিবি অফিসে বসিয়ে রেখে ১৫/২০ লাখ টাকা দাবি করছে, গ্রেফতার বাণিজ্যে হাজার হাজার মানুষ পথের কাঙ্গাল হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় যথাযথভাবে মেনে চলা হলে এই ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু কেউ যদি না মানে এবং পূর্বের ন্যায় বিনা  পরোয়ানায়, সিভিল ড্রেসে পরিচয়পত্র না দেখিয়ে গ্রেফতার করতে যায় তাহলে জনগণের কি করা উচিত সে সম্পর্কেও একটা নির্দেশনা থাকা দরকার। তথাকথিত নাশকতার অভিযোগে বিধিবহির্ভূত গ্রেফতারের শিকার হয়ে যারা এখনো জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদের বেকসুর খালাস দেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি। মানুষের দুয়ারে ইনসাফ পৌঁছিয়ে দিতে বিলম্ব মানে ইনসাফ থেকে তাকে বঞ্চিত করা। ইনসাফ নিশ্চিত করা আদালতের প্রধান কাজ।
 শেষ করার আগে গত ৯ অক্টোবর তুরস্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১০ জন প্রতিভাবান স্কুল ছাত্রের বিদেশ গমন বিষয়টি আবারো সরকারের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিতে আনতে চাই। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজ নিজ প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে এই দশটি ছেলে তুরস্কে যাবার জন্য বিমানবন্দরে গিয়ে লাগেজ বুকিং ও বোর্ডিং কার্ড পর্যন্ত সংগ্রহ করেছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের যেতে দেয়নি এবং তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে গিয়ে ডিবি অফিসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে ঐদিন রাত ১০টার পর ছেড়ে দেয়। তাদের পাসপোর্ট এখনো ফেরত দেয়া হয়নি। ভালো রেজাল্ট করে কি তারা অপরাধ করেছে? আর প্রকৃত পক্ষে তাদের কেউ যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে তাদের অভিভাবকদের জানানো হচ্ছে না কেন? পাসপোর্ট আটক রেখে লাগেজ ও বইপত্র থেকে তাদের দূরে রেখে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ কি করতে চান তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা এমনিতেই প্রতিভার দুর্ভিক্ষে আছি। প্রতিভাবানদের অবহেলা করে এই দুর্ভিক্ষের মাত্রা আর বাড়ানো উচিত নয়। কেউ কেউ অভিভাবকদের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে পয়সা আদায় করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এর অবসান হওয়া দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ