ঢাকা, বুধবার 16 November 2016 ২ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাকার বনানীতে ইসলামী ব্যাংকের ৩০৯তম শাখা উদ্বোধন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ৩০৯তম শাখা গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বনানীতে উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে এ শাখা উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো: আবদুল মাবুদ, পিপিএম, পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম, এফসিএ, এফসিএমএ, মো: জয়নাল আবেদীন ও প্রফেসর ড. মো: সিরাজুল করিম। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) নূর উদ্দিন খান, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক মো. ইব্রাহিম, সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, বনানী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আবুল কাশেম ও এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী খুররম আহমেদ। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেভেলপমেন্ট উইং প্রধান মো. মোশাররফ হোসাইন ও ঢাকা নর্থ জোনপ্রধান মো: কাওছার উল আলমসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, কর্র্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। 

শাখা উদ্বোধনের প্রাক্কালে সোমবার ‘ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব ও সাফল্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল মান্নান-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এম. আযীযুল হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালক মো: জয়নাল আবেদীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা নর্থ জোনপ্রধান মো: কাওছার উল আলম। বিষয়ের উপর আলোচনা করেন ইসলামী ব্্যাংক শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ও বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ মা‘সুম বিল্লাহ। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মেয়র আনিসুল হক বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বে একটি মডেল ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম কমপ্লায়েন্ট ব্যাংক। দেশের জিডিপিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে। তিনি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের সাথে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।    

প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশ থেকে দারিদ্য্র হটানোর বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ব্যাংক ২০ লাখ উদোক্তা সৃষ্টি করেছে এবং আরো নতুন ৩০ লাখ নতুন উদ্যোক্তা উন্নয়নের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ ব্যাংক ২০ হাজার গ্রামের ১০ লাখ পরিবারকে দেশের অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছে। ইসলামী ব্যাংকের উন্নয়নমূলক কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান।  অন্য বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক এদেশের সুষম ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কৃষি, শিল্পায়ন, তৈরি পোশাক, অবকাঠামো, যোগাযোগ, গৃহায়ণ, তথ্য-প্রযুক্তি, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স ও এসএমই খাতের উন্নয়নসহ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। গ্রামীণ দারিদ্য্র বিমোচন ও নগর দারিদ্র দূরীকরণসহ মানুষের সার্বিক জীবনমান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক। একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে তারা এ ব্যাংকের সাথে একযোগে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। 

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক উৎপাদন ও বিনিয়োগে ন্যায়নীতি ও বণ্টনমূলক সুবিচারের মাধ্যমে সমাজে ধনী-গরীবের ব্যবধান কমিয়ে সুষম উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজন পূরণের প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় আমানত স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে বনানী এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতিসহ মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ