ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 November 2016 ৩ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মূখ্যমন্ত্রী থাকাকালে আদিত্য বিরলা গ্রুপের কাছ থেকে মোদির ২৫ কোটি রুপি ঘুষ গ্রহণ

১৬ নবেম্বর, এনডিটিভি/দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অথচ সেই মোদিই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে আদিত্য বিরলা গ্রুপের কাছ থেকে ২০১৩ সালের ১৫ অক্টোবর ২৫ কোটি রুপি ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমুন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
গত মঙ্গলবার দিল্লিতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল নিয়ে একদিনের একটি বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়। ওই অধিবেশনে তিনি মোদির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘কর্পোরেটদের বন্ধু’ বলেও আখ্যায়িত করেন।
এ সময় কেজরিওয়াল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে বলেই বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কখনও অভিযানে যায় না আয়কর বিভাগ। শুধু দুর্নীতি তাড়ানোর নামে গরিবদের ভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আয়কর বিভাগ সে সময়ে আদিত্য বিরলা গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সুবেন্দু অমিতাভের বাসায় অভিযান চালায়। তারা সেখান থেকে ব্লাকবেরি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাতে তল্লাশি করে। এ সময় ল্যাপটপে ২০১২ সালের ১৬ নবেম্বর এন্ট্রি করা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীকে ঘুষ দেয়ার তথ্যও পান।
কেজরিওয়াল আরও বলেন, এটিই স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা যে, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর নাম কালো টাকা লেনদেনে জড়িয়েছে। তাই নোট বাতিলে গরিবের দুর্ভোগ এড়াতে সরাসরি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখ্যার্জির হস্তক্ষেপও কামনা করেন এবং দুর্নীতি ঠেকানোর জন্য যদি ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করেন। তবে পুরনো রুপি বদলাতে সময় বেধে দেয়া হয়েছে।
এদিকে পুরনো রুপি বদলাতে গিয়ে দেশটিতে চলছে হুলস্থূল কা-। বহু সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। এ নিয়ে ক্ষমতাসীনরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের তোপের মুখে পড়েছেন।
দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে : পুরনো নোট বাতিল বিতর্কে সরগরমে চলছে ভারতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। রাজ্যসভায় শুরু থেকেই বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার। অবিলম্বে আলোচনার দাবি তুলে বিজেপির নেতৃত্বাধীন মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। এদিকে, শোকপ্রস্তাব পাঠের পর শুরুতেই মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভার অধিবেশন।
রাজ্যসভায় শীতকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কংগ্রেস। ৫০০ ও ১ হাজারের রুপির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে মোদির কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা। তার অভিযোগ আগাম কোনও প্রস্তুতি ও নোটিশ ছাড়াই এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার  যার ফলে এখন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে আমজনতাকে। এই জন্য মোদিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শুধু নোট বাতিল সিদ্ধান্ত নয়, প্রবীণ কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন মোদিকে, কোন আইনে তিনি দেশের আমজনতাকে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে রুপি তুলতে বাধা দিচ্ছেন, যেখানে তাদের নিজের অ্যাকাউন্টে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ রয়েছে? কেন্ত্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আনন্দ শর্মা জানতে চেয়েছেন, কোন জঙ্গি সংগঠন রুপি বদলাতে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে যাবে? এদিকে নিজের আয়ের অর্থ পেতে সমস্যায় পড়ে গেছে সাধারণ মানুষ।
এছাড়া মোদিকে তার ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারে করা এক প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, এখনই সরকারের উচিৎ সুইস ব্যাংকে  আ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই সব ভারতীয়দের নামের তালিকা প্রকাশ করা। সেখানে গচ্ছিত রয়েছে লাখ লাখ কালো অর্থ।
নোট বাতিলের কারণে কৃষিজীবী মানুষরা চরম বিপদে পড়েছেন বলে কংগ্রেস নেতা জানতে চান কতজন সাধারণ মানুষের কাছে ক্রেডিট কার্ড থাকে? দিন আনে দিন খাওয়া মানুষ কি কার্ড ব্যবহার করেন? কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে দেশের সব মানুষ বিনা দোষে অপরাধী হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগেও নোট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তখন মানুষকে সময় দেওয়া হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা।
আনন্দ শর্মা আরও বলেন, কেন্দ্র কেন এমন ভাবছেন সরকারে আছেন বলেই তারা দেশের পক্ষে, বিরোধীরা সবাই দেশের বিপক্ষে। প্রত্যেকেই ভারতবাসী, বিরোধীদের প্রশ্ন করতে বাধা কোথায়? সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিল, যার কোনও বিকল্প প্রস্তুতি ছিল না। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই সরকার সংবেদনশীল নয়। মানুষের সম্পর্কে তারা ভাবেন না।
নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে ভারতজুড়ে এই মুহূর্তে ব্যাংকিং  সেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এটিএমগুলোতে মিলছে না অর্থ, যেখানে রুপি আছে, তার বাইরেও অপেক্ষায় রয়েছে লম্বা লাইন। ব্যাংকগুলোর অবস্থাও একইরকম। অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়ছে বহু মানুষের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ