ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 November 2016 ৩ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাপাহারে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ করে সংসারে সফলতা এনেছে তাজকেরা

গোলাপ খন্দকার সাপাহার (নওগাঁ): সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের শিয়ালমারী গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ তাজকেরা (৪০) হোমটেস্ট গার্ডেনিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বসত বাড়ীর আশে পাশে সব্জি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। এক সময় অনাহারে অর্ধাহারে থেকে সংসার চললেও বর্তমানে সব্জি চাষ করে  ৫ সদস্যের সংসার তার এখন বেশ ভালই চলছে।  ৩ ছেলের মধ্যে কোন ছেলেকে তিনি পড়ালেখা করাতে পারেননি তাই ছোট একমাত্র মেয়েকে সে এখন স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছে মেয়েকে নিয়ে বহু স্বপ্ন তাজকেরার। তাজকেরা ওই গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর আমানুর রহমানের স্ত্রী প্রায় দুই যুগ পূর্বে তাদের বিবাহ সূত্রে সংসার হয়েছে। সংসার জীবনে তাজকেরার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে, বড় ছেলে আনারুল (২২) ইতো মধ্যেই সংসারে অভাবের তাড়নায় বিয়ে করে পৃথক সংসার পেতেছে। ২য় ছেলে জুয়েল (১৮) কে অভাবের কারণে লেখা পড়া শিখাতে না পেরে সে এখন রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দিয়েছে। ৩য় ছেলে আবু তাহের (১০) মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে এখন সংসারের বোঝা হয়ে রয়েছে। তাজকেরা খাতুনের স্বামী আমানুরের বসত ভিটা ছাড়া আবাদি কোন জায়গা জমি না থাকায় সে অন্যের বাড়ীতে দিন মজুরের কাজ ও স্ত্রী তাজকেরা ঝি গিরির কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাত। হঠাৎ গ্রামে একদিন বে-সরকারী সংগঠন বরেন্দ্র ভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বিএসডিও এবং বিডিও এর লোকজন এসে গ্রামের হত দরিদ্র মানুষের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে এবং অসহায় নারীদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলে। তাজকেরা সে সময় ওই এনজিওতে ভর্তি হয়ে হোমটেস্ট গার্ডেনিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে করে কষ্ট করে অন্যের নিকট থেকে ৬৬ শতাংশ জমি বন্ধক নেয়। এর পর ওই জমিতে শুরু হয় তাজকেরার প্রশিক্ষণের ফলাফল। সে তার স্বামীকে সাথে নিয়ে বাড়ীর আশে পাশেসহ ওই ৬৬ শতাংশ জমিতে ফলাতে থাকে বিভিন্ন রকমের শাক-সব্জি। এ বিষয়ে গৃহবধূ তাজকেরর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে অতিতে অনেক কষ্টে সে তার সংসার পরিচালনা করেছে বর্তমানে এনজিও সংস্থার প্রশিক্ষন নিয়ে বসত বাড়ীর আঙ্গিনা সহ বন্ধকি জমিতে প্রায় সারা বছর লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, লাউ, কুমড়া, মিষ্টি লাউ, শিম, ঢেঁড়শ, শসা, ঝিঙ্গা, বেগুন, মুলা, আলু, পিয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন জাতের ফসল ফলাতে পারছে এবং প্রয়োজনে সে অন্য মানুষকে শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। বর্তমানে তাজকেরা ও তার স্বামী তাদের উৎপাদিত ওই ফসল বাজারে বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। বর্তমানে তার একমাত্র কন্যা  খায়রুন (৭) একজন স্পন্সর শিশু হওয়ায় ওই এনজিও সংস্থার প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীতে লেখা পড়া করছে। তাজকেরা জানান অভাবের তাড়নায় সে তার কোন ছেলেদেরকে লেখা পড়া শিখাতে পারেনি। একমাত্র কন্যা খায়রুনকে সে ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার বানাতে চায়।
ডাক্তার হয়ে তার মেয়ে গ্রামের হত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে এটা তার স্বপ্ন। সে আরোও জানান বর্তমানে ওই গ্রামের অনেকেই এনজিও সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাবলম্বি হয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবারের অভাব ঘুচে তারা সচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করছে। বর্তমানে বসত বাড়ীর আঙ্গিনা সহ আশে পাশের জমিতে শাক সব্জি চাষ করে সাপাহারের তাজকেরা অভাবকে জয় করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। নিজের হাতে উপার্জন করে সংসার চালাতে পেরে সে এখন আনন্দিত। সারা বছরে হরেক রকম সব্জি চাষ করে তাজকেরা এখন ওই এলাকায় এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ