ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 November 2016 ৩ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগৈলঝাড়ার ৫টি হস্তশিল্প প্রকল্পে কাজ করে সহস্রাধিক নারীর ভাগ্য বদল

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) ১৯৮১ সালে উপজেলা সদরে এর কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তিতে এমসিসি’র পাটনার প্রকৃতির তত্বাবধনায় আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৫টি হস্তজাত প্রকল্প গড়ে উঠে এসব প্রকল্পগুলো হলো জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ, কালুরপাড়ের বির্বতন, বড় মাগরা কেয়াপাম, নগর বাড়ি চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও বাগধা এন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে প্রকল্পের ৫টি কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশরাই হচ্ছেন স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা সমাজের অবহেলিত অসহায় ও দুস্থ।
“জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ” ১৯৮৪ সালে গড়ে উঠে প্রকল্পটি। এ প্রকল্পের উপকরণ ডোবা, পুকুর থেকে কচুরীপানা সংগ্রহ করে কাগজ তৈরি করে সেই কাগজ দিয়ে পুতুলবক্স খেলনা সামগ্রী সহ ১৫০টি প্রয়োজনীয় সৌখিন সামগ্রী তৈরি করা।
“কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট” ১৯৮৭ সালে গড়ে তোলা হয় প্রকল্পটি। এ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তালপাতা, মুলিবাঁশ, কেয়াপাতা ইত্যাদি। এ প্রতিষ্ঠানে ১৫০টির বেশী শিল্প সামগ্রী তৈরি হয়।
“বিবর্তন” ১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই কচুরিপানা প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানে ১০০টির বেশী শিল্প সামগ্রী তৈরি হয়।
“বাগধা এন্টারপ্রাইজ” ১৯৮৪ সালে প্রকল্পের কাজ চালু হয়। প্রতিষ্ঠানের তৈরিকৃত সামগ্রীর মধ্যে শন, সুতা, পাট দিয়ে সুতলির ব্যাগ, পার্স, সাইড ব্যাগ সহ ২৭১টি সৌখিন সামগ্রী তৈরি হয়।
“চ্যারিটি ফাউন্ডেশন” ২০০৪ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ চালু করা হয়। প্রকল্পটি স্থানীয় কাঁচামাল ঘাস, বাঁশ, বেত, নারিকেল পাতার শলা, শনপাট, কলাগাছের বাকল, ইত্যাদি দ্বারা বিভিন্ন হস্তজাতের মালামাল তৈরি করে আসছে। এসব প্রকল্পের তৈরীকৃত সামগ্রী রফতানি করা হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে। তৈরিকৃত সামগ্রী বহির্বিশ্বে ব্যাপক সারা ফেলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জোবারপার এন্টারপ্রাইজে গিয়ে কথা হয়, জোবারপার গ্রামের মনি বালা (৪০) এর সাথে। মনি বালা বলেন-‘অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একসময় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতাম কচুরিপানার শিকড় আর ফুল সেদ্ধ করে খেয়ে বাঁচতাম। এমসিসি’র উদ্যোগে সমাজের অবহেলিত স্বামী পরিত্যক্তা ,অসহায় ও দুস্থ নারীদের জন্য যে মহান উদ্যোগ নিয়ে ৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে তাতে করে আমার মতন শত শত স্বামী পরিত্যক্তা ,অসহায় ও দুস্থ নারীরা এসব প্রকল্পে কাজ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাহারী উপহার ও খেলনা সামগ্রী তৈরি করে আজ তিনবেলা ভাত খেতে পারি। বিধবা বিনা হালদার (৪৫) ও বিধবা শিউলী বেগম (৩০) বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস তৈরি করছি, সেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাহারী উপহার, খেলনা সামগ্রী ও অফিস-বাসাবাড়ির সৌন্দর্যের কাজে ব্যবহার  হয়ে আসছে। জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজের সহকারী ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, সচেতন ভাবেই আমরা সবকিছুকে সাদামাটা, টেকসই করে বানাই এবং কম প্রযুক্তি ব্যবহার করি। কচুরিপানা থেকে কাগজ তৈরি করে সেই কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয় নানা উপহার সামগ্রী। রপ্তানীকারক দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা, জাপান, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড সহ ২০টি দেশে রপ্তানী হয়। এসব প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। এছাড়া ও প্রতি বছর তাদের প্রকল্পের অনুকুলে কাজের লভ্যাংশ প্রদান করা হয় নারীদের। এতে একদিকে যেমন তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি অন্যদিকে দেশের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ