ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 November 2016 ৩ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় শুঁটকি মাছ উৎপাদনের ধুম পড়েছে

মহেশখালী (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের সোনাদিয়া দ্বীপে শুটকি মাছ উৎপাদনের ধুম প্রড়েছে। জীব বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ একটি অনন্য সুন্দর দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন ৭ বর্গকিলোমিটার। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মহেশখালী চ্যানেলের মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সোনাদিয়া বঙ্গোপসাগর ঘেষে অবস্থিত সোনাদিয়ার চর এলাকায় হাজার হাজার জেলে ক্ষণস্থায়ী আবাস স্থান তৈরী করে ফিশিং কৃত মাছ শুকিয়ে, শুঁটকি মহাল তৈরী করে কোটি কোটি টাকার মাছ দেশে বিদেশে রপ্তানী করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। সোনাদিয়ার প্র্যারাবন, চর, খাল ও মোহনায় নানা প্র্রজাতির মাছ ও অমেরুদ-ী প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এখানে ৮০ প্রজাতির মাছ প্রাওয়া যায়। এখানে ১৯ প্রজাতির চিংড়ি, ৫৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক এবং ৮ প্রজাতির কাঁকড়া প্রাওয়া যায়। সোনাদিয়া ইসিএ’র খাল, মোহনা এবং তীরবর্তী সমুদ্র এলাকায় বৈশ্বিকভাবে বিপন্ন ইরাওয়াদ্দি ডলফিন, বটলনোজ ডলফিন এবং প্ররপয়েজ দেখা যায়। এছাড়া প্যারাবনে মেছো বাঘ ও উদবিড়াল আছে। স্থলভূমির বন্যপ্রাণীর মধ্যে শিয়াল ও বাদুড় উল্লেখযোগ্য। শুঁটকি মাছের মধ্যে লইট্যা, চিংড়ি, ফাঁসিয়া, রূপচাঁদা,কামিলা, লাওক্ষা, করতি, চুরি, রূপসা, সুরমা ও বিভিন্ন প্রজাতের মাছ দৈনিক লাখ-লাখ টাকার মাছ ব্যবসায়ীরা ক্রয়-বিক্রয় করে। এই মূল্যবান মাছগুলি চট্টগ্রামের আছদগঞ্জ, ঢাকা, সিলেট, উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইলসহ দেশের বড়-বড় শহরে রপ্তানি করা হয় এবং বিদেশ আমেরিকা, বৃটেন, থাইল্যান্ড, জার্মানী, সৌদিয়া, দুবাইসহ উন্নত দেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এ ছাড়া ও কক্সবাজারের নাজিরার টেক, ধলঘাটার সাপমারার ডেইল এলাকায় মাছ শুকানোর ধুম পড়েছে বলে জানাগেছে।
সোনাদিয়ার চরের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দীন জানান, চর থেকে কোটি কোটি টাকার শুকনা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করে ঢাকা, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হয়। ব্যবসায়ী ছৈয়দ হোসেন জানান, চর থেকে দৈনিক প্রায় লাখ-লাখ টাকার মাছ কিনে বিভিন্ন জায়গার আমার নির্ধারিত ব্যবসায়ীদেরকে সাপ্লাই দিয়ে প্রচুর টাকা লাভবান হই। ব্যবসায়ী ও ফিশিং  ট্রলারের মালিক রশিদ আহমদ জানান, আমি সুযোগ বুঝে সস্তা দাম দিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ গুদামজাত করে রাখি তা বর্ষাকালে দাম চড়া হলে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে পুরা সোনাদিয়ার চর এলাকায় মাচা তৈরি করে জেলেরা শুঁটকি উৎপাদন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ