ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 November 2016 ৩ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৬ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফেনীতে জমে উঠেছে কবুতরের হাট বাড়ছে বাণিজ্যিক খামার

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীতে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জেলার অন্তত ২ শতাধিক পরিবার। এতে এলাকার যুবক ও মহিলাদের অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক কবুতর খামারীর সংখ্যাও দিনদিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে মিলছে জমজমাট পায়রার হাট। রয়েছে পায়রার অর্ধশত স্থায়ী দোকান। খামারিরা জানান, কবুতর বা পায়রা শান্তির প্রতীক। প্রাচীনকালে কবুতর চিঠি আদান-প্রদানের বিশ্বস্ত সহযোগী থাকলেও বর্তমানে কবুতর পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ, শোভাবর্ধনকারী প্রাণি এবং বিকল্প আয়ের উৎস হিসাবে বিবেচ্য।
জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্র জানায়, সুষ্ঠু পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কবুতর প্রতিপালন করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব। জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় আঞ্চলিক প্রাণি রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারটি ফেনীতেই অবস্থিত। যে কারণে ফেনীর খামারিদের জন্য কবুতরসহ যে কোন প্রাণি প্রতিপালন ও প্রাণির স্বাস্থ্যগত দিগটি সমাধান সহজসাধ্য। তবে এখন পর্যন্ত কবুতর পালনে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা নেই বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ। সূত্রটি জানায়, দেশের জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে হাঁস-মুরগির মতো ফেনীর প্রায় প্রতি বাড়িতেই কবুতর পালন করতে দেখা যায়।
এখনও পুরনো পদ্ধতির প্রচলন বেশি হলেও ইদানীং উন্নত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কবুতর পালনের আগ্রহ বাড়ছে খামারীদের। কবুতর পালনের মাধ্যমে পরিবারের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ ও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরী হয়। পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়া বেঁধে একসঙ্গে বাস করে। একটি প্রাপ্তবয়ষ্ক কবুতর’র দৈহিক ওজন (জাতভেদে) ২৫০-৮০০ গ্রাম, সময়কাল ৫-৬ মাস, ৪৮ ঘন্টা পর কবুতর প্রতিবার ১ জোড়া ডিম দেয় । বাচ্চা উৎপাদনের উপযুক্ত হয় ৫-৬ বৎসরে, ৪-৫ দিনে বাচ্চার চোখ ফোটে, ১৭-১৯ দিন বাচ্চা ফোটার জন্য স্ত্রী কবুতর ডিমে তা দেয়, ১০-১২ দিনে পালক গজায়, ২৮-৩০ দিন বাজারজাত করণ উপযোগী ও আয়ুস্কাল সাধারণত ১২-১৫ বৎসর। কবুতরের খাদ্য থলিতে উৎপাদিত দুধ জাতীয় এক প্রকার তরল বস্তু খেয়ে বাচ্চা ৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়েই জন্মের ১০ দিন পর্যন্ত এদের বাচ্চাদের ঠোঁট দিয়ে খাওয়া শেখায়, এরপর থেকেই কবুতর’র বাচ্চা নিজেই দানাদার খাদ্য খেতে আরম্ভ করে। সূত্রটি আরো জানায়, পৃথিবীতে ১২০ জাতের কবুতর’র অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ২০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। দেশের সর্বত্রই এসকল কবুতর চোখে পড়ে। কবুতর সাধারণত গম, মটর, খেসারি, সরিষা, ভুট্টা, কলাই, ধান ও চাল জাতীয় শস্যদানা খেতে পছন্দ করে। আকাশে বিচরণকালে এরা নিজেদের পছন্দের খাদ্য নিজেরাই সংগ্রহ করে।
এনায়েতপুর গ্রামের খামারী মোহাম্মদ ওয়াসিম জানায়, ১০ জোড়া কবুতরের জন্য ১টি বাসস্থান তৈরীতে খাবার ও পানির পাত্রসহ আনুমানিক ৩ থেকে ৪’শ টাকা খরচ হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জোড়া কবুতর’র ক্রয়মূল্য আনুমানিক ১-১ হাজার ৫’শ টাকা। তার নিকট রয়েছে ৮৫ জোড়া কবুতর। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান এ খামারী প্রতি মাসে কবুতর বেচা-কেনা ও বাচ্চা বিক্রি বাবদ আয় করে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। প্রতি জোড়া কবুতর মাসে অন্তত ১ জোড়া বাচ্চার জন্ম দেয়।
একাধিক খামারির মতে, কবুতর পালনে স্বল্প বিনিয়োগ, প্রতিপালনও সহজ, সংক্ষিপ্ত প্রজণনকাল, বেকার যুবক ও দুঃস্থ মহিলাদের আয়’র উৎস, অল্প জায়গা, কম খরচে বাসস্থান তৈরী, এদের রোগ বালাই কম, মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পুরণের উৎস এবং কবুতর’র মল জৈবসার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ