ঢাকা, শুক্রবার 18 November 2016 ৪ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৭ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুলিশে তদবীর ঠেকাতে  লটারিতে পোস্টিং

ফেনী সংবাদদাতা: পুলিশের বদলি, পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের সাথে তদবীর আর লেনদেন যেন চিরাচরিত। এ অঘোষিত রীতি ভাঙতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো: রেজাউল হক। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত জেলার ৬০ পুলিশ কর্মকর্তাকে লটারির মাধ্যমে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে রক্ষিত নির্ধারিত বক্সের লটারির টিকিট তুলে নিজেরাই বেছে নিলেন কর্মস্থল। এতে করে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেমন তদবীর বা লেনদেনের বদনাম থেকে নিজেদের রক্ষা করলেন তেমনি পদোন্নতিপ্রাপ্তরাও কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই নতুন কর্মস্থলে পোস্টিং পেলেন। গতকালই তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পোস্টিংয়ে তদবীর-বাণিজ্য ঠেকাতে হঠাৎ করে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতির প্রতি আগ্রহ কমবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতির ফলে কোনরকম পক্ষপাতমূলক আচরণের সুযোগ থাকলো না। প্রভাবমুক্তভাবেই সবাই ন্যায্য অধিকার পেয়েছেন। তিনি বলেন, একজন এএসআই কিংবা এসআইয়ের জন্য অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও তদবীর করেন। এতে করে একজনকে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্যজনকে ঠকাতে হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ফেনীর একজন পুলিশ সদস্যদের অপরাধের দায়ভারও পুরো পুলিশ বিভাগকে বয়ে বেড়াতে হয়। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশ সদস্যদের সেবার মান বাড়াতে হবে। মানুষের ভুল হতেই পারে বিষয়টি স্বীকার করে তা শুধরানোর মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, তোমরা যদি ভালো কাজ কর তাহলে ভালো ফল পাবে। আজকে আমরা ভালো একটি ধারা সৃষ্টি করেছি। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মো: খালেদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: আমিনুল ইসলাম, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর গোলাম ফারুক, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো: আবুল কালাম আজাদ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ