ঢাকা, শুক্রবার 18 November 2016 ৪ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৭ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে চলছে জাতিগত নিপীড়ন

১৭ নবেম্বর, বাসস, রয়টার্স : মিয়ানমারের কয়েকশ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। সেনা সদস্যদের কঠোর দমনপীড়নে তারা বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ঢুকতে চাচ্ছে।বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)প্রত্যক্ষদর্শী ও বাংলাদেশী কর্মকর্তারা জানান, পালানোর সময় বেশ কয়েকজনকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। গোলযোগপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানকালে অন্তত ১শ ৩০ জন নিহত হয়েছে। রাজ্যটির অধিকাংশ বাসিন্দাই সংখ্যালঘু রাখাইন মুসলিম।অ্যাক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা পল্লীর কয়েকশ বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।তবে সরকার এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। বিদেশী সাংবাদকিদেরও ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।রাখাইন রাজ্যে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাস করে। দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। দেশটির জনগণ রোহিঙ্গাদেরকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী মনে করে।গত মাসে সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর রাজ্যটির বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। পুলিশ ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করছে।ওই ঘটনার পর  সৈন্যরা রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু অংশ অবাধ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেখানে ত্রাণকর্মী ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের যেতে দেয়া হচ্ছে না।

এদিকে কক্সবাজারের বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মো আবু রাসেল সিদ্দিকী বলেন, মঙ্গলবার আব্রাং সীমান্ত হয়ে নৌকা যোগে নাফ নদী পার হয়ে ৮০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠায়।

রোহিঙ্গাদের কয়েকটি নৌকা ফিরিয়ে দেওয়ায় সেগুলো এখন সমুদ্রে ভেসে আছে বলে রয়টার্স জানায়।

মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা কয়েক যুগ ধরে বাংলাদেশে আসছিল। বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ।

২০১২ সালে রাখাইনে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্েয ভয়াবহ দাঙ্গার পর অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকতে চাইলেও তখন বাংলাদেশ সীমান্ত আটকে দিয়েছিল।

বাংলাদেশ সরকারের দাবি, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বহনের সঙ্গে নতুন আরও শরণার্থী নেওয়া অসম্ভব।

ওই দাঙ্গার পর এবারই রাখাইন রাজ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটছে বলে রয়টার্সের ভাষ্য। পলায়নরত রোহিঙ্গাদের গুলী করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা রয়টার্সকে বলেন, “স্থানীয়রা আমাকে বলেছে, নদীর পাড়ে প্রায় ৭২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী নদীর পাড়ে অপেক্ষারতদের ভিড়ের মধ্যে গুলী চালিয়ে হত্যা করে।”

গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের তিনটি সীমান্ত পোস্টে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় নয় সীমান্ত পুলিশের মৃত্যু হয়। এরপরই আশেপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধর পাকড় শুরু হয়।

গত সাত দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলাগুলোতে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান চলছে।

 সেখানে ত্রাণকর্মী ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং গ্রামগুলোতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চলছে।

রয়টার্সের পক্ষ থেকে রাখাইন রাজ্য সরকারের সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রী কর্নেল তাইন লিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মঙ্গলবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষ এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সাত দিনের সহিংসতায় রোহিঙ্গা জঙ্গি দলের ৬৯ জন সদস্য এবং মিয়ানমার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ সদস্য নিহত হয়েছে।

সাত মাস আগে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অন সান সু চির দল মিয়ানমারের ক্ষমতায় এলেও রাখাইন রাজ্যের সংঘাত নিরসনে এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একটি সরকারি কমিশন গঠন করা হলেও তার কোনো কার্যক্রম নেই।

 রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার বরাবরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ