ঢাকা, শুক্রবার 18 November 2016 ৪ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৭ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশী ‘বিস্ময় শিশু’কে ওবামার চিঠি

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম : এমন খবরে কার না ভালোলাগে! বিস্ময়কর প্রতিভাবান সন্তানের দেশের নাগরিক হয়ে আমরা সত্যিই গৌরবান্বিত। বাংলাদেশের সকল নাগরিকের পক্ষ থেকে ‘বিস্ময় শিশু’ বা ‘খুদে আইনস্টাইন’ নামে খ্যাত সুবর্ণ আইজ্যাক বারীকে অভিনন্দন। মোবারকবাদ তার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাকে। নিশ্চয় তাঁরাও এমন মেধাবী সন্তানের বাবা-মা হতে পেরে গৌরববোধ করছেন। চার বছরের শিশু সুবর্ণ আইজ্যাক বারীর বিস্ময়কর প্রতিভার স্বাক্ষর রীতিমত সাড়া ফেলেছে সারা দুনিয়ায়। খুদে শিশুর খবরটি এখন ‘‘ট্যক অব দ্যা ওয়ার্ল্ড।”

খবরে প্রকাশ-“বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করা চার বছরের শিশু সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। বিস্ময়য়কর কিছু কীর্তি দেখানোর কারণে এরই মধ্যে তাকে ‘বিস্ময় শিশু’ বা ‘খুদে আইনস্টাইন’ নামে ডাকা শুরু হয়েছে। কী করেছে এই খুদে বিস্ময়? সে কথা একটু পরে জানা যাক। তার আগে বড় খবর হলো, এই শিশুর কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে গত ২ নবেম্বর তাকে একটি চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের  প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

চিঠিতে বারাক ওবামা লিখেছেন, ‘প্রিয় সুবর্ণ, আশা করছি তুমি তোমার কঠোর পরিশ্রম এবং অর্জনের জন্য গর্ব অনুভব করো। তোমার মতো শিক্ষার্থী আমেরিকায় আরো দরকার, যারা স্কুলে কঠোর পরিশ্রম করার চেষ্টা করে, বড় স্বপ্ন দেখে এবং আমাদের সমাজের পরিবর্তন ঘটায়। আমাদের দেশ অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। কিন্তু আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে এসব মোকাবিলা করা কোনো ব্যাপারই নয়। তুমি তোমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি। তোমার কাছে আমি অনেক বড় কিছু প্রত্যাশা করি।’

সুবর্ণ যখন মাত্র দেড় বছর বয়সী তখনই রসায়নের পর্যায় সারণি তথা কেমিস্ট্রি পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্থ করে ফেলেছে। তার বয়স যখন তিন বছর তখনই সে লেবুর সাহায্যে ব্যাটারি এক্সপেরিমেন্ট করে। সাড়ে তিন বছর বয়সে বিখ্যাত একটি কলেজের  প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পায়। এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছে ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

চার বছর বয়সী শিশুর ছোটবেলা কোনটা। তবু বলা হচ্ছে তখন সে খুব ছোট ছিল। নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালের বেডে জ্বরে কাতরাচ্ছিল। তার বাবা রাশীদুল বারী বলেন, ‘আই লাভ ইউ মোর দ্যান এনিথিং ইন দ্য ইউনিভার্স।’ সুবর্ণ তার বাবাকে পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘ইউনিভার্স অর মাল্টিভার্স?’

এ কথা শুনে তার বাবা চমকে যান। তখনো তিনি জানতেন না সুবর্ণ তিন বছর বয়সে অঙ্ক, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে দক্ষতা দেখিয়ে সারা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে সুবর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হইচই ফেলে দিয়েছে। সুবর্ণ এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি। কিন্তু এরই মধ্যে জ্যামিতি, বীজগণিতসহ রসায়নের জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান দিচ্ছে।

মাত্র দেড় বছর বয়সে রসায়নের পর্যায় সারণির গল্প শুনিয়েছেন তার বাবা রাশিদুল বারী। তিনি জানিয়েছেন, ওর মা ওকে অঙ্ক শেখাচ্ছিলেন। হঠাৎ সুবর্ণ বলল, ‘ইফ ওয়ান প্লাস ওয়ান ইকুয়াল টু টু, দ্যান টু প্লাস টু ইকুয়াল টু ফোর এবং এন+এন ইকুয়াল টু টুএন, তাই না?’ রাশীদুল বারী তখন পাশের রুমে তার ছাত্রদের পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন।

 ছেলের এমন প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে রাশীদুল বারী তাকে অ্যাডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স শেখাতে শুরু করলেন। আর এভাবেই মাত্র দুই বছর বয়সে সে রসায়নের পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্থ করে ফেলল। এ অবিশ্বাস্য কথাটি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিস্ময়কর প্রতিভার কথা জানতে পারেন মেডগার এভার্স কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড পোজম্যান। তিনি সুবর্ণর মেধা যাচাই করতে চান। সুবর্ণ পর্যায় সারণির সব এলিমেন্ট বলে পোজম্যানকে অবাক করে দেয়। সেদিন তিনি এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে এক বছর পর অর্থাৎ গত বছরের ২৫ নবেম্বর আবার তাকে ডেকে পাঠালেন পোজম্যান।

এরপর ডাক পড়ে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ থেকে। বাবা বারী তাকে নিয়ে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়েস অব আমেরিকা স্টুডিওতে। সেখানে সাবরিনা চোধুরী ডোনা তার ইন্টারভিউ নেন এবং বছরের সেরা কনিষ্ঠ ইন্টারভিউ হিসেবে তারা এটা বাছাই করে ইংরেজি নববর্ষে পুনঃপ্রচার করেছেন।

সুবর্ণের বাবা রাশেদুল বারীর বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য নিউ ইয়র্কে আসার পর ব্রংকসের লিমন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বারুখ কলেজে অঙ্কের অ্যাডজাংকট অধ্যাপক। একই সঙ্গে নিউভিশন চার্টার হাই স্কুল ফর অ্যাডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্সে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক। জেরুজালেম পোস্টে তিনি নিয়মিত কলাম লিখছেন।

সুবর্ণর মা রেমন বারী ব্রংকস কমিউনিটি কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। সুবর্র্ণর একমাত্র বড় ভাই রিফাত আলবার্ট বারীর বয়স ১২ বছর। সেও অসাধারণ মেধার অধিকারী। সপ্তম গ্রেডে পড়ছে এবং সাতটি ভাষায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত। সে হাই স্কুলে না গিয়েই বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায়। এ জন্য সে এরই মধ্যে তিনবার এসএটি প্রদান করেছে।

সুবর্ণর জন্ম ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল। সুবর্ণ তার বাবার ল্যাবরেটরিতে যাচ্ছে এবং অঙ্কশাস্ত্র ছাড়াও রসায়নের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছে”। (বিডি প্রতিদিন ১৬-১১-২০১৬)

‘বিস্ময় শিশু’ বা ‘খুদে আইনস্টাইন’ নামে খ্যাত সুবর্ণ আইজ্যাক বারীর খবরটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন মার্কিন মুলুøকে রাজপথে চলছে আন্দোলন। নির্বাচনের পূর্বে অভিবাসী, বিশেষ করে মুসলমানদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যকারী ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মুসলমানরা ভিতসন্ত্রস্ত। প্রতিনিয়ত হিজাবপরা মুসলিম নারী, নারীরা অপমানিত হচ্ছে। ঠিক সে সময়ে বাংলাদেশের এক মুসলিম খুদে শিশুর এমন বিস্ময়কর খবরে দেশে-বিদেশে সকল বাংলাদেশীরই ভালো লাগার কথা।

মূলত মানুষের মস্তিষ্ক আল্লাহ তায়ালার সেরা দান। এটি একটি সুপার কম্পিটার। এই হেড টপ কম্পিউটারের অ-সীমিত জিবি সত্যিই বিস্ময়কর!। আজকের গবেষণা বলছে-মানুষের মস্তিষ্কের প্রতি সেকেন্ডে ১০১৫ টি হিসাব করার ক্ষমতা আছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৭০০০০ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে সক্ষম। মস্তিষ্কে একশ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে।

মানুষের নিউরনে তথ্য চলাচলের সর্বনিম্ন গতিবেগ হলো প্রায় ২৫৮.৪৯০ মাইল/ঘণ্টা। মানব মস্তিষ্ক তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে ন্যূনতম ০.৫ মিটার সেকেন্ড থেকে সবচেয়ে বেশি ১২০ মিটার সেকেন্ড পর্যন্ত। একশ মাইল লম্বা শিরা রয়েছে মানব মস্তিষ্কে। হাতির মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্ক অপেক্ষা বৃহৎ হলেও হাতির মস্তিষ্ক তার দেহের ০.২৫ ভাগ যেখানে মানুষের মস্তিষ্ক তার দেহের ওজনের দুই ভাগ। এতে বোঝা যাচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কই সবচেয়ে বড়। একজন মানুষের ব্রেইন অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বড়। ব্রেইন মানুষের দেহের মোট আয়তনের মাত্র ২% হলেও দেহে উৎপন্ন মোট শক্তির ২০ ভাগেরও বেশী খরচ করে সে একাই। দেহের মোট অক্সিজেনের প্রায় ২০ ভাগ মস্তিষ্ক ব্যবহার করে থাকে। অক্সিজেনের মতো প্রায় ২০ ভাগ রক্তই মস্তিষ্ক আদান-প্রদান করে। মস্তিষ্কের ওজনের প্রায় দ্বিগুণ ওজন হচ্ছে মস্তিষ্কের আবরণ বা চামড়ার। মানব মস্তিস্কের প্রায় ৭৫ ভাগই পানি । 

শিশু অবস্থায় একটি মানুষের মস্তিষ্কের ওজন থাকে ৩৫০-৪০০ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যা বেডে হয় ১৩০০-১৪০০ গ্রাম! জন্মের সময় থেকে মানব মস্তিষ্ক পূর্ণাঙ্গ মানুষের মস্তিষ্কের আকৃতি নিয়ে আসে এবং মস্তিষ্কের প্রায় পূর্ণাঙ্গ কোষ নিয়েই আসে। মস্তিষ্ক ১৮ বছর বয়সের পর বৃদ্ধি হয় না। জাগ্রত থাকা অবস্থায় মস্তিষ্ক প্রায় ২৫ ওয়াট পাওয়ার সৃষ্টি করে, যা একটি লাইট বাল্ব জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট। যখন আপনি জ্বরে আক্রান্ত হবেন তখন মনে রাখবেন মানুষের মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ তাপ সহনীয় ক্ষমতা ১১৫.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ বাঁচতে পারে।

যখন মানুষকে অত্যধিক চাপ সহ্য করতে হয় তখন মস্তিষ্কের কোষ, গঠন বা আকার এবং কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। অক্সিটোক্সিন নামক হরমোন মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হয় এবং ভালোবাসা এবং আত্মসংবরণের জন্য দায়ী। যদি মস্তিষ্ক ৮ থেকে ২০ সেকেন্ড রক্ত না পায় তবে মানুষ জ্ঞান হারায়। মস্তিষ্কে ব্যথা সংগ্রাহক কোনো অঙ্গ নেই তাই মস্তিষ্ক কখনো ব্যথা অনুভব করে না। একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্ক অক্সিজেন ছাড়া মাত্র ৫ মিনিট টিকতে পারবে । ৫ থেকে ১০ মিনিট অক্সিজেন না থাকলে মস্তিষ্কের স্থায়ী সমস্যা দেখা দেয়। মৃত্যুর ৫ মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে (http://www.tourist-spots.lv2lvu.com)

বিজ্ঞানের অবদানে ‘ব্রেইন’ বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন মানুষের মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন কোষ এক একটি তথ্য ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। মানুষের আদর্শ মস্তিষ্ক ধারণ ক্ষমতা হলো ১০১১এর বেশি নয়। তবে নিউরনের কোষের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে প্রায় ১০০০টি ডেনডরাইট্স (Dendrites) যা কার্যক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা নিউরনের সংখ্যার হাজার গুণ বর্ধিত করে দেয়। 

সমাজে বড় বড় বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী-গুণী ও বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতার এতবড় সংখ্যাটি লবণের ক্ষুদ্রতম একটি কণার মধ্যস্থিত এটমের সংখ্যার একশত ভাগের মাত্র একভাগ। লবণ কণার এটম সংখ্যা হলো ১০১৬।

১৯০৫ সালে ÔSpecial theory of relativity’ এবং ১৯৯৬ সালে General theory of relativity’ প্রকাশ করে আলবার্ট আইনস্টাইন বিশ্বব্যাপী বরেণ্য হয়ে রয়েছেন। এ বিজ্ঞানী মহা বিশ্বের সম্মুখে নিজ মস্তক অবনত করেছেন। তিনি দেখতে পেয়েছেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও মহাবিশ্বের মহাজ্ঞানের ভগ্নাংশও এ পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। তাই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী পদে ভূষিত হওয়ার পরও তিনি ধর্মভীরু রয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন-‘গোটাজীবন বিজ্ঞানের কাজে উৎসর্গ করেও মনে হয় যেন মহাবিশ্বের জ্ঞান সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে দু’একটি বালুকণা মাত্র নাড়াচাড়া করে গেলাম’। 

বিশ্বের অন্যতম প্রধান পদার্থ বিজ্ঞানবিদ ‘লর্ড কেলভীন’ যথার্থই বলেছিলেনঃ ‘আপনি যদি খুব গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন, তাহলে বিজ্ঞান আপনাকে আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য করবে।’ নিঃসন্দেহে ইংরেজ দার্শনিক ও রাজনীতিক ‘ফ্রান্সিস বেকন’ (Francis Becon) প্রায় তিন শতাব্দীরও পূর্বে সত্য উক্তি করেছিলেন; সামান্য দর্শন জ্ঞান মানুষকে নাস্তিকতার দিকে নিয়ে যায়, আর গভীর দর্শন জ্ঞান তাকে ধর্মের পথে টেনে আনে। ’ 

বিখ্যাত মার্কিন চিকিৎসা বিজ্ঞানবিদ ‘অলিভার ওয়েনডেল’র উক্তি খুবই প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছিলেন যে, ‘জ্ঞান যতই বাড়তে থাকে বিজ্ঞান ততই ধর্মকে ভ্রুকুটি করা থেকে বিরত হয়। বিজ্ঞানকে উপযুক্ততার সাথে বুঝতে পারলে দেখা যাবে, সর্বশক্তিমানে বিশ্বাস স্থাপন করার ব্যাপারে বিজ্ঞানই অধিক থেকে অধিকতর সম্ভাবনাময় করে তোলে।’ তাই আজকের বিজ্ঞানীমহল ধর্মকে ভ্রুকুটি তো দূরের কথা, অধিকন্তু ধর্মের পিছনে আশ্রয়ের ঠিকানা খুঁজে ফিরতে শুরু করেছেন। 

জার্মানীর স্বনামধন্য ‘রাইনকি’ তার ‘ডাই ওয়েল্ট অ্যালাস দ্যাট’ (Die welt als that)- এ স্বীকার করেছেন ‘শাশ্বত মনীষা’ ও শাশ্বত ক্ষমতা বা শক্তি বিদ্যমান, একে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। 

ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক ‘রোমানেস’ কিছুকাল পূর্বে স্বীকার করে গেছেন যে, তার সমুদয় বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক চিন্তাধারা মূলত ভুলের উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ঘোষণা করেছেন ‘মহাবিশ্বকে কোনক্রমেই আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার না করে বুঝানো যায় না।’ সুতরাং আল্লাহ তায়ালার বিস্ময়কর সৃষ্টি মানুব মস্তিষ্ক কেয়ামত পর্যন্ত অসংখ্য বিস্ময়ের জন্ম দেবে। এ সব দেখেও কি মানুষ এক আল্লাহকে অস্বীকার করতে পারে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ