ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্যাটারি চালিত রিকশা থেকে মাসোহারা আদায়

খুলনা অফিস : খুলনায় ব্যাটারি চালিত রিক্সা থেকে মাসোহারা আদায় করা হচ্ছে। মহানগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নামে চালু হয়েছে টোকেন সিস্টেম। বাকী থানাগুলো বিশেষ ম্যানেজে চলছে ব্যাটারি চালিত রিকসা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শ্রমিকলীগ নামধারী কতিপয় ব্যক্তি রিকসার মালিকদের কাছ থেকে এ চাঁদা উত্তোলন করছে বলে মালিক ও পুলিশের অভিযোগ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতি মাসে দিতে হয় তিনশ’ টাকা। খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকার কয়েক হাজার ব্যাটারি চালিত রিকসাওয়ালার জীবন এভাবেই চলছে।

ব্যাটারি চালিত রিকসা চালক আবুল মিয়া বলেন, নিজের রিকসা না থাকায় ভাড়া নিয়ে চালাতে হয়। জোড়াগেট পার হয়ে শহরে আসতে পারলে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭শ’ টাকা আয় হয়। তবে শহরে আসতে না পারলে প্রতিদিনের আয় ৩ থেকে ৪শ’ টাকা হয়। তিনি বলেন, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা, অতুল চলাচল নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তেমন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ব্যাটারি চালিত রিকসা নিয়ে পুলিশের মাথা ব্যথার শেষ নেই। তিনি বলেন, আলমনগরের টিটোকে আর দৌলতপুরে কুলিবাগান এলাকার জামাল এবং ফুলবাড়ীগেটের রেজাউলকে এ টাকা দিতে হয়। তারা স্লিপ দিয়েছে। ওই স্লিপ দেখালে পুলিশ কোন সমস্যা করে না। তবে জোড়াগেট পার হয়ে শহরের দিকে নিজ দায়িত্বে যেতে হয়।

খালিশপুর ক্রিসেন্ট মিল গেটের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ২টি ব্যাটারি চালিত রিকসার মালিক। তিনি জানান, আলমনগরের টিটো ও দৌলতপুর কুলিবাগানে জামালকে প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি ৩শ’ টাকা দিতে হয়। তারা ওই টাকা দু’থানার পুলিশকে দেয়। যাতে তারা ব্যাটারি চালিত রিকসা চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। তবে তাদেরকে ওই টাকা দেয়া হলেও তারা পুলিশকে কত দেয় তা তার জানা নেই। তিনি জানান, গত ৫/৬ মাস ধরে তারা মাসিক টাকা দিয়ে আসছে। তবে কোন কোন রিকসা মালিকের কাছ থেকে তারা মাসে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত মাসোহারা নিয়ে থাকে। এই তিন থানা এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিকসা রয়েছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার। তবে বেশি রিকসা দৌলতপুর থানা এলাকায়। এ থানায় প্রায় ৮ হাজারের মত ব্যাটারি চালিত রিকসা রয়েছে।

দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা বাজারের রিকসা গ্যারেজের মালিক কামাল হোসেন বলেন, তার দশটি রিকসা আছে। এর মধ্যে ২টি রিকসায় ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। বাকীগুলো লাগানো হয়নি। এ দু’টি রিকসার জন্য থানা পুলিশকে মাসে ৫শ’ টাকা দিতে হয়। তবে তিনি সরাসরি টাকা পুলিশকে দেন না। দৌলতপুরের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুলিশকে দেয়। এ জন্য দৌলতপুর, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা পুলিশ তাদের ব্যাটারি চালিত রিকসা চালাতে কোন বাধা দেয় না।

খালিশপুর আলমনগরের বাসিন্দা আবু বক্কার বলেন, তিনি ব্যাটারি চালিত দু’টি রিকসার মালিক। তার খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় রিকসা চালাতে কোন সমস্যা হয় না। তবে জোড়াগেটের পরে গেলেই পুলিশ ধরে। এ তিন থানা পুলিশ যাতে কিছু না বলে তার জন্য দু’টি রিকসার জন্য মাসে ৫শ’ টাকা দিতে হয় পুলিশকে। তিনি প্লাটিনাম মিলের স্থায়ী শ্রমিক। কাজের ফাঁকে ফাঁকে রিকসা চালান। অধিকাংশ সময় তিনি রিকসা ভাড়া দেন। পুলিশের টাকা তিনি নিজ হাতে দেন না। অন্যের মাধ্যমে তিনি টাকা দিয়ে থাকেন বলে জানান।

 কেসিসির প্রধান রাজস্ব অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আরিফ নাজমুল হাসান জানান, ব্যাটারি চালিত রিকসার বিরুদ্ধে অভিযান মাঝেমধ্যে চলছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শিগগিরই যাতে শুরু করা যায় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হবে।

খালিশপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আমির তৈমুর ইলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন অভিযোগ মনগড়া। তারা ব্যাটারি চালিত রিকসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। কিছু রিকসা অলিগলি দিয়ে চলে। তবে সামনে পেলে ওই রিকসার ব্যাটারির তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

 দৌলতপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার থানা এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অলিগলি দিয়ে কিছু ব্যাটারি চালিত রিকসা চলে। তবে প্রধান সড়ক দিয়ে তারা চলে না। পুলিশের কেউ ব্যাটারি চালিত রিকসা চালকের কাছ থেকে টাকা আদায় করে তা তার জানা নেই। খানজাহান আলী থানার অফিসার্স ইনচার্জ আশরাফুল আলম বলেন, শ্রমিক লীগের নাম ভাঙিয়ে আগে মোজাম নামে এক ব্যক্তি ব্যাটারি চালিত রিকসা মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিত। এখন নিচ্ছে রেজাউল নামের এক ব্যক্তি। গত ১৪ নবেম্বর তিনি গিয়ে রেজাউলকে ব্যাটারি চালিত রিকসা কাছ থেকে টাকা না নেয়ার জন্য বলে দিয়েছেন। এরপরও যদি তারা টাকা তোলে তবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত ১০ মাসে ব্যাটারি চালিত রিকসা আটক করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০টির মত ব্যাটারি চালিত রিকসা তাদের হেফাজতে আটক আছে। তাদের এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাসোহারার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এ রকম অভিযোগ যদি সুনির্দিষ্টভাবে আসে তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ