ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দাকোপে আবারো অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন

খুলনা অফিস : দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ খুলনার দাকোপ উপজেলার পাউবোর বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরে নদী-খাল থেকে অবৈধভাবে স্যালো ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। যে কোন সময় ভূমি ধসের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজুয়া ইউনিয়নের চুনকুড়ি নদী, কচা নদী, বাজুয়া গার্লস স্কুলের পাশে ঋষিকেশ হালদারের মৎস্য ঘের, চড়া নদী ও লাউডোব ইউনিয়নে লাউডোব কালিকাবাটি নদী, খুটাখালি নদীতে এবং দাকোপ ইউনিয়নের দাকোপ খালে একাধিক স্যালো ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। 

বাজুয়ার এসকল খালে স্যালো ড্রেজার স্থাপন করে অবৈধভাবে সুবিধামত বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন রাস্তায়, বাড়ি ও মাঠ ভরাটের কাজ হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ্য বালু ও মাটি এভাবে উত্তোলন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ অথচ প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী দেদারছে বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজে এখন আর বাইরের বালু আনা হচ্ছে না, রাস্তার পার্শে খাল অথবা নদী থাকলে সেখানে স্যালো ড্রেজার লাগিয়ে বালু সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সে নিম্নমানের বালু দিয়ে চলছে রাস্তা নির্মাণ। যেন জায়গার সমস্যা যায়গাতেই সমাধান করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা একটু বিবেচনা করছে না এসব ঠিকাদার এবং ব্যবসায়ীরা। হাজার হাজার ফুট বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে মাটির তলদেশে বিশাল জায়গা জুড়ে শুন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব জায়গায় ভূমিধস হয়ে যে কোন সময় বিপর্যয় ঘটতে পারে।

নাম  প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এ ব্যবসার সাথে বিশেষ পেশার কিছু ব্যক্তি রয়েছে, তাই প্রশাসন চুপ-চাপ থাকেন কিছুই বলেন না। 

কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের স্যালো ড্রেজার মালিক কাদের হাওলাদার এবং আজিজ হাওলাদার বলেন, এ বালু উত্তোলনের জন্য আমাদের কোনো অনুমতিপত্র নেই। অনেকেই উঠাচ্ছে, দেখা দেখি আমারাও উঠাচ্ছি।

দাকোপ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৃনাল কান্তি দে বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমি বালু উত্তোলন করার জন্য কাউকে অনুমতি দেইনি। যারা এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ