ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের রূপরেখা দিলেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে কেয়ারটেকার সরকার ও নির্বাচন কমিশনের রূপরেখার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন -সংগ্রাম
  • সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে
  • প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের হতে হবে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও দল নিরপেক্ষ 
  • নির্বাচনের সময় প্রতিরক্ষাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে
  • আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে 

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের রূপরেখা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার গঠনের বিস্তারিত প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রস্তাবিত রূপরেখায় তিনি নিবন্ধিত ও বিভিন্ন সময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। 

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন করে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের রূপরেখা উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৎ, সাহসী, অবাধ ও সুষ্ঠু স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতার কথাও বর্ণনা করেন তিনি। একজন নারীসহ চারজন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব করেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। আর তাই নির্বাচনকে বলা হয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বাহন, অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন-নিঃসন্দেহে তাঁদের নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনের দৃঢ়তা প্রশ্নাতীত হতে হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটার শুধু নয় সারা বিশ্ব যে কোন দেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে-প্রশংসা কিংবা তিরস্কার করে।

 বেগম জিয়া বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে বিশেষ করে গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে এবং গত কয়েক বছরের অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে হতাশ, আস্থাহীন এবং ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বৃহত্তর জাতীয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এহেন পরিস্থিতি আর চলতে দেয়া যায় না। জনগণ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন চান। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, সক্ষমতা এবং দায়িত্বপালনে ন্যায়পরায়ণ দৃঢ়তা দেখতে চায়। তিনি বলেন, তাঁরা চায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সেখানে তাঁরা নির্বিঘেœ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং তাঁদের দেয়া রায় যেন কৌশলে কেউ বদলে দিতে না পারে। 

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন বাঞ্ছনীয়। 

নির্বাচন কমিশন গঠনে দেয়া প্রস্তাবে তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন নারীসহ ৫ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করার কথা বলেন। এতে, বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন প্রধান বিচারপতি ( জ্যেষ্ঠতা ক্রমানুসারে) যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নন বা ছিলেন না। 

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের হতে হবে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও দল নিরপেক্ষ। বাছাই কমিটির কাছে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো দু জন করে নাম প্রস্তাব করতে পারবে। সেখান থেকে বাছাই কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের পর কেউ যদি দায়িত্ব পালন করতে অসম্মতি প্রকাশ করেন, তবে একই প্রক্রিয়ায় আবারও বাছাই করতে হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দাবি জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আঠারো বছর বয়সী সব নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রবাসীদেরও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

 বেগম জিয়া বলেন,নির্বাচনকালীন প্রশাসন যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা সরবরাহ করতে হবে। যাতে কেউ জাল ভোট দিতে না পারে। যাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাঁরা যেন কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর নিযুক্ত এজেন্টকে রেখে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট গণনা শুরু করতে হবে। কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনে দলনিরপেক্ষ জাতীয় ও আান্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক রাখতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া এসব বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া। 

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, লে জে (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, ড. এ জেম এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান।

২০ দলীয় জোটের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মোস্তাহিদুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। 

নিচে বেগম জিয়ার সাংবাদিক সম্মেলনের পুরো বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো-----

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। আর তাই নির্বাচনকে বলা হয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বাহন, অপরিহার্য অনুষঙ্গ। 

এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন-নিঃসন্দেহে তাঁদের নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনের দৃঢ়তা প্রশ্নাতীত হতে হবে। 

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটার শুধু নয় সারা বিশ্ব যে কোন দেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে-প্রশংসা কিংবা তিরস্কার করে। 

দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে বিশেষ করে গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে এবং গত কয়েক বছরের অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে হতাশ, আস্থাহীন এবং ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বৃহত্তর জাতীয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এহেন পরিস্থিতি আর চলতে দেয়া যায় না। জনগণ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন চান। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, সক্ষমতা এবং দায়িত্বপালনে ন্যায়পরায়ণ দৃঢ়তা দেখতে চায়। 

তাঁরা চায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সেখানে তাঁরা নির্বিঘেœ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং তাঁদের দেয়া রায় যেন কৌশলে কেউ বদলে দিতে না পারে। 

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন বাঞ্ছনীয়। 

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে (২০১৭) বর্তমান বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী, দক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার কোন বিকল্প নেই। 

জনগণের ন্যায্য ও সাংবিধানিক আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বিএনপি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ এবং নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে কতিপয় সুপারিশ উপস্থাপন করছে; 

১. সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের (Consensus) ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। 

২. প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিরূপণের জন্য সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং অথবা, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের মহাসচিব অথবা সাধারণ সম্পাদক কিংবা মনোনীত প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন। 

তবে দেশে যেহেতু এই মুহূর্তে ২(দুই) টি প্রধান রাজনৈতিক জোট (বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট) বিদ্যমান সেহেতু এই দুই জোটের পক্ষ থেকে একজন করে মূল প্রতিনিধি এবং তাঁকে সহায়তাদানকারী আরও দুইজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন। 

রাষ্ট্রপতি নাগরিক সমাজের মধ্য হতে সৎ, যোগ্য ও দল নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদেরকেও আলোচনায় যুক্ত করতে পারেন। 

২.১ নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল, এবং অথবা, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের (Consensus) ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও মনোনয়নের প্রশ্নে ঐকমত্য (Consensus) প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। 

২.২ নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের সাথে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুষ্ঠিত বৈঠকের সম্মত কার্যবিবরণী Agreed meeting minutes, এবং বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে unanimous গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ, সকল রাজনৈতিক দলের উপস্থিত প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরযুক্ত দলিলরূপে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করবে।

৩. বাছাই কমিটি গঠন; 

মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন।

৩.১ বাছাই কমিটি গঠন কাঠামো: 

রাষ্ট্রপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ৫(পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। বাছাই কমিটি গঠনের কাঠামো নিম্নরূপ হবে: 

বাছাই কমিটির আহবায়ক : 

৩.১.১ বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে) যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (Office of profit) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না। 

বাছাই কমিটির সদস্য : 

৩.১.২ আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (Office of profit) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না। 

৩.১.৩ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন সচিব যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (Office of profit) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

৩.১.৪ অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে সুখ্যাত, এবং যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (Office of profit) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না অথবা দল নিরপেক্ষ সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন বিশিষ্ট নাগরিক। 

৩.১.৫ সর্বজন শ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ নারী। 

৪. নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, অনুচ্ছেদ ২ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক বৈঠকে বাছাই কমিটির সদস্য নিয়োগের জন্য প্রতি পদের বিপরীতে ২(দুই) জনের নাম ও পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবে। 

৫. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা :

 ৫.১ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা : 

সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সকল বিচারে দল-নিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নন এমন একজন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। 

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, অথবা বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে নিয়োজিত নহেন বা ছিলেন না, অথবা একজন বিশিষ্ট নাগরিক-প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন। 

তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না; এবং বাংলাদেশ সরকারের সচিব যিনি অবসরগ্রহণের বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর, কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না। 

৫.২ নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা: 

৫.২.১. একজন নারীসহ সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, দক্ষ, প্রাজ্ঞ, সাহসী, নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও সকল বিচারে দলনিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নহেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হতে চারজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারবেন। 

৫.২.২ ন্যূনপক্ষে জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য হতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। 

তবে যিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের, বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর, তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি তিনি নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না। 

৫.২.৩. নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, অনুচ্ছেদ ২ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য, প্রতি পদের বিপরীতে ২(দুই) জনের নাম ও পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবে। 

৬. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসমূহ হতে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির নিকট প্রেরণ করবেন। বাছাই কমিটি এই সকল নাম হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন এইভাবে মোট ১০(দশ) জনের নাম বাছাই করবে। 

এই প্রক্রিয়ায় বাছাই কমিটি প্রথম প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করবে এবং তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তির নাম সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনায় অভিন্ন (Common) রয়েছে তাঁদের নাম রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণের জন্য চূড়ান্ত করবে। 

এইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন অভিন্ন পাওয়া না গেলে বাছাই কমিটি নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের সাথে প্রয়োজনে বারবার আলোচনা করবে। এই প্রক্রিয়ায় কোন রাজনৈতিক দল নতুন নাম প্রস্তাব করতে চাইলে বাছাই কমিটি ঐকমত্যে পৌঁছার স্বার্থে প্রস্তাবিত নতুন নাম গ্রহণ করবে। 

এইভাবে বাছাই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাকি নাম কিংবা নামসমূহ নির্ধারণ করবে এবং রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য প্রেরণ করবে। 

৭. রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২ (দুই) জনের মধ্যে হতে ১(এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ৮(আট) জনের মধ্য হতে ৪(চার) জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে চূড়ান্ত করবেন। রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তকৃত এইসকল ব্যক্তিদের সম্মতি গ্রহণ এবং তাঁদের জীবন বৃত্তান্ত ও সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাঁদের নিয়োগ প্রদান করবেন। 

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চূড়ান্তকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ সম্মত না হলে, কিংবা অন্য কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে, বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত অবশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য হতে রাষ্ট্রপতি একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২(দুই) জনই অসম্মতি প্রকাশ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একইভাবে কমিশনার পদে মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে অসম্মত ব্যক্তির সংখ্যা যদি এমন হয় যে, কমিশনার পদে বিবেচনার জন্য বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত আর কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই, তাহলে কমিশনার পদে মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। 

নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে করণীয়

নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালীকরণ এবং RPO সহ অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান সময় উপযোগী ও যৌক্তিকিকরনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

Representation of People Order (RPO) এর সংশোধনী প্রস্তাব : 

১. RPO এর Definition Clause Gi Article 2 (Xlaa) এর Law Enforcing Agency’ তে Law Enforcing Agency’ হিসেবে অন্যান্য বাহিনীর সাথে “Defense Services of Bangladesh” পুনঃস্থাপন করতে হবে। 

(উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সনের সংশোধনীতে “Defense Services of Bangladesh” কে এই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিলে।)

২. RPO এর Article 28(4)(d) এর পর নতুন করে (e) সন্নিবেশ করতে হবে; 

(e) “after distribution of empty ballot boxes to the polling booths, place the remaining empty ballot boxes, if any, at a secure place within the sight of the contesting candidates or election agents or polling agents.” 

(ভোট গ্রহণের আগে বিভিন্ন বুথে খালি বাক্স সরবরাহের পর অবশিষ্ট শূন্য ব্যালট বাক্স সমূহ, যদি থাকে, এমন নিরাপদস্থানে রাখতে হবে যাতে তা প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টদের কাছে দৃশমান থাকে)

৩. RPO Gi Article 28(5) এর শেষাংশ এইভাবে সংশোধন করতে হবে “.....and keep it at the relevant booth within the sight of the concerned Assistant presiding Officer and election agents and/or polling agents and use another ballot box in the manner laid down in clause(4).” 

(ভোট চলাকালে ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে ব্যালট ভর্তি বাক্স বা বাক্সগুলো সংশ্লিষ্ট বুথেই রাখতে হবে যাতে তা সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনী এজেন্ট এবং অথবা পোলিং এজেন্টদের নিকট দৃশ্যমান থাকে) 

৪. RPO এর Article 36(4)(a) তে Open’ শব্দের পর “only’ শব্দ যোগ করতে হবে “open only the used ballot box or ballot boxes and count the entire lot of ballot papers taken out therefrom,”) ।

(ভোট শেষে ব্যালট গণনার জন্য কেবলমাত্র ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত ব্যালট বাক্স সমূহ খোলা হবে) 

৫. RPO এর Article 36(11) এর পর নিম্নের লাইন যোগ করতে হবে; 

“And the Presiding Officer shall not leave the polling station without implementing article 36(11)”

(Presiding Officer তাঁর স্বাক্ষরিত ফলাফল শীট ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে হস্তান্তর না করে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না) 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ :

১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে। 

১.১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের নিজস্ব সচিবালয় থাকবে বলে উল্লেখ আছে। একইভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জন্যও নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে। 

২. নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। 

২.১ নতুনভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশনকে এর নিজস্ব সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং সকল পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আপিল কর্তৃপক্ষ, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার, রিভাইজিং অথরিটি, নির্বাচন কার্যে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। 

২.২ নতুনভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশনকে যথাশীঘ্র সম্ভব একটি কমিটি গঠনকরত: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য পোষণকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে অতিসত্বর প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তাদের যে কোন ধরনের নির্বাচনী দায়িত্বপালন হতে বিরত রাখতে হবে। 

২.৩ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও তাদের মাঠ পর্যায়ের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বিগত ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ও অন্যান্য নির্বাচনী বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করত; নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে। 

৩. প্রেষণে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাবলম্বী নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে হবে। 

৩.১ নতুনভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশন একটি কমিটি গঠন করে বিগত ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আপিল কর্তৃপক্ষ, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার, রিভাইজিং অথরিটি, নির্বাচন কার্যে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্য হতে প্রকাশ্য দলীয় আনুগত্য পোষণকারীদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রণয়ন করবে। 

ঐ সকল চিহ্নিত কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে অন্য যে কোন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত রাখতে হবে। 

৪. রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ। 

৪.১ সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নতুন কর্মকর্তা পদায়নে বিগত ৫(পাঁচ) বছর বিভিন্ন পদমর্যাদায় ঐ জেলায় চাকরিরত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের একই জেলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা যাবে না। 

৪.২ একইভাবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় প্রত্যেক উপজেলা এবং থানায় কর্মরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইতোপূর্বে কোন সময় যে কোন পদমর্যাদায় ঐ উপজেলা বা থানায় চাকরিরত ছিলেন এমন কোন কর্মকর্তাদের একই উপজেলায় বা থানায় নিয়োগ প্রদান করা যাবে না। 

৫. নির্বাচনের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। 

৫.১ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার প্রাক্কালে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পররাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। 

৫.২ নির্বাচনকালীন সময়ে (নির্বাচন তফিসল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত) নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ( যেমন বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশ ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, পুলিশ ইন্সপেক্টর, থানার ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, এ এস আই, র‌্যাবের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা প্রমুখ) বদলি ও পদায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত থাকবে। 

৬. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। 

৬.১ নবগঠিত নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক উত্থাপিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত অভিযোগ অথবা মামলা শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সীমানা পুনর্বিন্যাস করবে। 

৭. নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে হবে। 

৭.১ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান করে সকল নির্বাচনী এলাকায় টহলসহ ভোট কেন্দ্রে ও বিশেষ বিশেষ স্থানে মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

এই ব্যবস্থা ভোট গ্রহণ দিবসের ৭ (সাত) দিন পূর্ব হতে নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশনা পর্যন্ত স্থায়ী হবে। 

৮. ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ ও নতুন ভোটার নিবন্ধীকরণ করতে হবে। 

৮.১ প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকবৃন্দ ভোটার হতে অত্যন্ত আগ্রহী। বর্তমানে তারা ভোটার হতে পারছেন না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বিবেচনায় প্রবাসীদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বহু গণতান্ত্রিক দেশে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ আছে। 

৮.২ ভোটার হওয়ার যোগ্য সকল নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নিবন্ধীকরণ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী, যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য, কিন্তু বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় বর্তমানে কারান্তরীণ রয়েছে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ নিশ্চিত করতে হবে। 

৮.৩ ছবিসহ যে ভোটার তালিকা ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিকট থাকে, ছবিসহ অভিন্ন ভোটার তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্টকে প্রার্থিতা বাছাই এর দিনে সরবরাহ করতে হবে। 

৮.৪ ছবিসহ ভোটার তালিকায় অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের ছবি অপরিচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এই ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে সঠিকতা যাচাইপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮.৫ ভোটার তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, কেবলমাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা ভোট দিতে পারবেন।

৮.৬ প্রত্যেক কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় ঐ কেন্দ্রের প্রত্যেক বুথে প্রার্থী কর্তৃক নিযুক্ত পোলিং এজেন্টকে অবশ্যই উপস্থিত রাখতে হবে।

৮.৭ ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভোট গণনা শুরু করতে হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া এবং ভোট গণনা শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে কোন বিরতি দেয়া যাবে না। 

৯. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৯.১ বর্তমানে কর্মরত নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে নির্বাচনী বিধি-বিধান, ভোটার নিবন্ধীকরণ বিধি-বিধান, নাগরিক অধিকার, আচরণ, নিরাপত্তা, জনসংযোগ, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভোটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় সন্নিবেশ করতে হবে। 

৯.২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। যেমন আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, লোকবল বৃদ্ধি, দক্ষতা ও কর্মপরিধি বৃদ্ধি ইত্যাদি। 

৯.৩. নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের কর্মী এবং সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। 

৯.৪. রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করবে। রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নির্বাচন কমিশন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

৯.৫ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ব্যাপক ভোটার প্রশিক্ষণ প্রচারণা (Voter Education Campaign) কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এই কার্যক্রমে রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহের সহায়তা নিতে হবে। 

১০. নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। 

১০.১. নির্বাচনকালীন সময়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিজস্ব কর্মকর্তাদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO) এর ৮৯(এ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

১১. নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবিধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

১১.১. নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার অব্যবহিত পর থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি ও অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান ভঙ্গের অভিযোগপত্র এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়ে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র গ্রহণ ও লিখিত প্রাপ্তি স্বীকার করতে হবে, তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর প্রতিবিধান করতে হবে এবং গৃহীত কার্যক্রম প্রত্যহ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। 

১২. জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক (Election Observer) নিয়োগ।

১২.১ নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার ন্যূনপক্ষে ৩(তিন) বছর পূর্বে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিবন্ধিত হতে হবে। 

১২.২ কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য পোষণকারী কোন ব্যক্তি বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন কোন পর্যবেক্ষক সংস্থা কিংবা সংস্থার কোন ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না। 

১২.৩. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার ন্যূনপক্ষে ৩০(ত্রিশ) দিন আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা বা ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করবে। 

১২.৪. নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার ৭(সাত) দিনের মধ্যে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তালিকাভুক্ত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নাম ও পরিচয় এবং তাদের মনোনীত পর্যবেক্ষকদের নাম ও তালিকা প্রকাশ করতে হবে। 

১৩. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ: 

১৩.১ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ন্যূনপক্ষে ০৭ (সাত) দিন পূর্বে আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশী পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং বিদেশী রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের নাম ও তালিকা প্রকাশ করতে হবে। 

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। 

একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যতিরেকে এ সকল সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সমীপে উপস্থাপন করব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ