ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মেজর (অব.) জলিলের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম অগ্রসেনানী, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী মেজর (অব.) এম এ জলিলের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। পাকিস্তানে একটি সেমিনরে যোগদানকালে তিনি আকষ্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৮৯ সালের ১৯ নবেম্বর রাতে সাতচল্লিশ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তার পুরো নাম মোহাম্মদ আব্দুল জলিল। পেশাগতভাবে সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি মেজর এম এ জলিল নামেই পরিচিত। ১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বরিশালের উজিরপুর থানা সদরে নানার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জোনাব আলী চৌধুরী ও মাতা রাবেয়া খাতুন। তার জন্মের তিন মাস আগেই পিতা ইন্তিকাল করেন। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে তাকে পড়ালেখা করতে হয়। ১৯৬০ এর দশকে তদানীন্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি বৃহত্তর খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে দক্ষতা ও দুঃসাহসের সাথে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন। ঐ সময়েই এম এ জলিল উপলব্ধি করেন মিত্রবেশী ভারতের শাসকগোষ্ঠীর সা¤্রাজ্যবাদী দুরভিসন্ধি। সেক্টর অধিনায়ক হিসেবে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। স্বাধীনতার সাথে সাথেই ভারতীয় সৈন্যদের অবাধে লুটপাটের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন এই সাহসী দেশপ্রেমিক। খুলনায় অবস্থানরত জলিল দেশের বিপুল সম্পদ সীমান্তের ওপারে পাচার হবার সময়ে রুখে দাঁড়ালেন। এভাবে স্বদেশকে ভালবাসা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের ‘পুরস্কারস্বরূপ’ আওয়ামী লীগ সরকার তাকে গ্রেফতার করে।

দীর্ঘ কারাবাসের পর মেজর জলিল মুক্ত হয়ে বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং এক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে পরিগণিত হন। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা নজিরবিহীন চক্রান্তের মাধ্যমে তার বিজয় ছিনিয়ে নেয়। ১৯৭৪ সালে তিনি আবার গ্রেফতার হন শেখ মুজিব সরকারের পুলিশ কর্তৃক গুলীবিদ্ধ অবস্থায়। অর্ধযুগ বন্দী জীবন কাটিয়ে ১৯৮০ সালে মুক্তি লাভ করেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনের সময়ে তিনি কাজ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এ দলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৮৪ সালে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে তিনি জাসদ ত্যাগ করে ‘জাতীয় মুক্তি আন্দোলন’ নামে একটি দল গঠন করেন৷

এক পর্যায়ে জলিলের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আসে এবং তিনি ইসলামের বিপ্লবী জীবনাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর আমৃত্যু তিনি ছিলেন এই মহান আদর্শ কায়েমের লক্ষ্যে সক্রিয়। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য চর্চা করতেন। কবিতা-উপন্যাস ছাড়াও তার লেখা বই রয়েছে আমাদের পৃথক জাতিসত্তা, মুক্তি সংগ্রাম ও ইসলামী আদর্শের ওপর।

 মেজর জলিলের গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘সীমাহীন সমর (১৯৭৬)’, ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনদর্শন, সূর্যোদয় (১৯৮২), ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা (১৯৮৯)’, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট ফর ইউনিটি : এ হিস্ট্রিক্যাল নেসেসিটি’ ইত্যাদি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ