ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে ছিনতাই করতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীতে এক ডিম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন- ঢাকা মহানগর ট্রাফিক (উত্তর) পুলিশের কনস্টেবল লতিফুজ্জামান ও কনস্টেবল রাজিকুল খন্দকার। গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় হাতেনাতে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে লতিফকে। অবস্থা বেগতিক দেখে রাজিকুল পালিয়ে গেলেও বিকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে দুই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে আসামী করে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছেন ডিম ব্যাবসায়ী আব্দুল বাসির। তিনি জানান, ভোর পাঁচটার দিকে লালবাগ কেল্লা মোড় এলাকায় ডিমের চালান দিয়ে ভ্যানে করে তেজগাঁওয়ের দিকে ফিরছিলেন বাসির। কারওয়ানবাজার মোড়ে ‘পুলিশ’ লেখা এক মোটরসাইকেলে করে এসে দুই ব্যক্তি ওই ভ্যানের গতিরোধ করে। এরপর তারা বাসিরের কাছে নেশাজাতীয় দ্রব্য আছে কি না জানতে চান এবং তল্লাশি শুরু করেন। বাসির পকেট থেকে চাবি ও টাকা বের করলে মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো ল ২৭-৪৭৪৩) আসা একজন টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। বাসির তখন একজনকে জাপটে ধরেন এবং পথচারীদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে সার্ক ফোয়ার এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে জানা যায়, আটক ব্যক্তি পুলিশের কনস্টেবল লতিফুজ্জামান। তিনি ঢাকা উত্তর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছেন। লতিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি আনসার সদস্য রাজেকুলের কথা পুলিশকে বলেন। ওসি আবু বকর বলেন, লতিফের সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আনসার সদস্য নন, তিনি কনস্টেবল রাজিকুল। ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক (উত্তর) পুলিশের কনস্টেবল রাজিকুলকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় ট্রাফিক উত্তরের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

ডিম ব্যবসায়ী বাসির বলেন, ভোরে লালবাগে ডিম সাপ্লাই দিয়ে টাকা নিয়ে তেজগাঁয় ডিমের আড়তে ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে ৪৪ হাজার টাকা ছিল। যে ভ্যানে করে ডিম সাপ্লাই দেন সেই ভ্যানচালকও ছিলেন। এ সময় মোটর সাইকেল চালিয়ে পুলিশের কনস্টেবল লতিফুজ্জামান ও এক আনসার সদস্য কাওরান বাজার মোড়ে (কাঁঠালবাগানের দিকের রাস্তায়) তাদের পথ আটকায়।

বাসির বলেন, তারা আমাদের জিজ্ঞেস করে কই গেছিলি? গাঁজা খাস? পকেটে গাঁজা আছে? এ সময় আমি টাকা ও পকেটে থাকা চাবি বের করলে তারা টাকা টান দিয়া মোটরসাইকেল টান দেয়। আমি পেছন থেকে আনসারের ওই সদস্যকে জাপটে ধরি। মোটরসাইকেল পড়ে গেলে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার দেই। তবে পুলিশের পোশাক দেখে অনেকেই সাহায্যের জন্য আসতে চায়নি। পরে আশপাশের লোকজন ও দায়িত্বরত পুলিশ এসে শাহবাগ থানায় খবর দেয়। শাহবাগ থানা পুলিশ কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে গেলেও আনসার সদস্য পালিয়ে যায়।

এদিকে রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ইহসানুল ফেরদাউস জানান, ভুক্তভোগীরা দুই ছিনতাইকারীর একজনকে আনসার সদস্য মনে করলেও আমরা নিশ্চিত হই তিনিও পুলিশের কনস্টেবল এবং ট্রাফিকের উত্তর বিভাগেই কর্মরত। টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক (উত্তর) পুলিশের দুই কনস্টেবলকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুপুরে শাহবাগ থানায় ডিম বিক্রেতা আব্দুল বাসির বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর তাদেরকে সাসপে- করা হয়। বিকেলে সাসপেন্ড করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার দাস। তিনি বলেন, আমরা কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় নিবো না। পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এখানে বিশৃঙ্খলা ও অপকর্মের কোনো ছাড় নেই। মামলার তদন্ত চলবে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হেেয়ছে। (ট্রাফিক উত্তরের এডিসি নাজমুল আলমকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন, গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান মুক্তা ও সহকারী কমিশনার (এডমিন) সাইকা পাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ