ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রায়পুরা আ’লীগ কার্যালয়ে ১৪৪ ধারা জারি

নরসিংদী সংবাদদাতা : এবার রায়পুরার এমপি রাজিউদ্দিন রাজুর উপস্থিতিতেই রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়েই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নব- ঘোষিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউছারের রায়পুরা আগমন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজনকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন এই ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। রায়পুরার এমপি, সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু’র উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের এই ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরকে হতবাক করেছে। এ খবর প্রচারিত হবার পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দুপুরের পর তিনি রায়পুরা থেকে ঢাকায় চলে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। 

জানা গেছে, রায়পুরার বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা এড. রিয়াজুল কবির কাউছারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভের পর এড. রিয়াজুল কবির কাউছার কয়েকবার চেষ্টা করে রায়পুরার এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর সাথে তার ঢাকার বাসায় দেখা করতে সমর্থ হন। গতকাল শুক্রবার এড. রিয়াজুল কবির কাউছার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীদের আমন্ত্রশে রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল সফর করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই মোতাবেক শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। এ নিয়ে এমপি রাজু ও তার কিছুসংখ্যক উগ্র সমর্থক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল করতে দিবে না বলে হৈচৈ করে। এসময় এমপি রাজু স্বয়ং রায়পুরায় উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার দিন সকালে কেন্দ্রীয় নেতা এড. রিয়াজুল কবির কাউছার ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে রায়পুরার বারৈচা এলাকায় পৌছলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানায়। তারা ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করেন। পরে তিনি আরো কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে রায়পুরা উপজেলা সদরে পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন ফোন করে এড. কাউছারকে জানান যে, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল করা যাবে না। সেখানে এমপি রাজুর সমর্থকরা মিটিং করছে। এরপরও তিনি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন সেখানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় তিনি সেখান থেকে পার্শবর্তী রায়পুরা বাজার জামে মসজিদে গিয়ে নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। পরে তিনি এমপি রাজুর সাথে দেখা করার জন্য সার্কিট হাউজে যান। সেখানে যাবার পর এমপি রাজু তাকে দেখা করার অনুমতি দেননি। এমপি রাজুর ব্যক্তিগত কর্মচারীরা জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন, এখন দেখা করবেন না। এ অবস্থায় তিনি একটি ফুলের তোড়া দিয়ে কর্মচারীকে বলেন, রাজু ভাই ঘুম থেকে উঠলে ্আমার ফুলের তোড়াটি দিয়ে বলবেন এটি কাউছার সাহেব দিয়ে গেছেন। এ কথা বলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তিনি রায়পুরার মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকার্মীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেন। নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। 

এব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের নিকট বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে তা সভাপতি হিসেবে আমার জানা দরকার ছিল। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। 

১৪৪ ধারা জারি সম্পর্কে এড. রিয়াজুল কবির কাউছার জানিয়েছেন, আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোন করে ১৪৪ ধারা জারি করার কথা জানিয়েছেন। আমি রাজু ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে তার কর্মচারীদের একটি ফুলের তোড়া দিয়ে এসেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ