ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তালিকাভুক্ত তিনশ’ আইনজীবী নিয়েও মামলায় হারছে দুদক

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : দুর্নীতি বিরোধী রাষ্ট্রীয় একমাত্র সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নানা মামলায় সফল হতে পারছে না তারা। অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারি। বিচারিক আদালতে দুদকের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩২ শতাংশ। আর খালাসের হার ৬৮ শতাংশ। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনেই সন্নিবেশিত রয়েছে এমন তথ্য।

গত ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে দুদকের এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ২০১৫ সালে দুদকের দায়ের করা ৩০৬ টি মামলা বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৭টি মামলায় আসামীরা খালাস পেয়েছেন। আর মাত্র ৯৯ টি মামলায় আসামীদের সাজা হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রায় ৬৮ শতাংশ মামলার আসামীরা খালাস পেয়েছেন। সাজা হয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ মামলায়। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে আদালতে ২৪৩ টি দুর্নীতি মামলার নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ১৪২টি মামলার আসামীরা খালাস পায় । আর ১০১ টি মামলায় আসামীদের সাজা হয়। ওই বছর ৫৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ মামলার আসামীরা খালাস পায়। আর সাজা হয় ৪১ দশমিক ৫৬ শতাংশ মামলার আসামীর।

২০১৪ সালের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বিচারিক আদালতে দুদকের মামলায় আসামী খালাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১০ হাজার ৪১৫টি দুর্নীতির অভিযোগ জমার কথা উল্লেখ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২৪০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। একই সময়ে বিচারিক আদালতে কমিশন আমলের ৩ হাজার ৯৭টি ও বিলুপ্ত ব্যুরো আমলের ১ হাজার ৮০টিসহ মোট ৪ হাজার ১৭৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এসব মামলার মধ্যে বিচার কার্য চলমান ছিল ৩ হাজার ৩৫৭টির। বাকি ৮২০টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন দুদকের মামলা প্রসঙ্গে বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ছিল ২০৫টি। এর আগের বছরের ৯৯৬টিসহ মোট মামলা হয় ১ হাজার ২০১টি। কিন্তু ওই বছর নানা কারণে ৪৪৮টি মামলায় স্থগিতাদেশ ইস্যু করা হয়। আর ২৩০টি মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ওই বছর রিট করা হয় ৪৫টি মামলায়। এর আগের বছরের ১ হাজার ২৭৭টিসহ মোট রিটের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩২২টি।

বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে দুদকের ৫৮ জন আইনজীবী রয়েছেন। এ ছাড়া ৫ জন আইনজীবীকে কমিশন আপিল বিভাগে ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ হিসেবে নিযুক্ত করেছে। সব মিলিয়ে আইনজীবী রয়েছেন ৬৩ জন। ঢাকার ১৩টি বিশেষ জজ আদালতে দুদকের মামলা পরিচালনায় ১৩ জন আইনজীবী রয়েছেন। এ ছাড়া দেশের ৭টি বিভাগীয় আদালতে ২২২ জন আইনজীবী কাজ করছেন মামলা পরিচালনায়। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ৫০ জন করে, খুলনা বিভাগে ২৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন আইনজীবী নিযুক্ত রয়েছেন।

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, নানা কারণে দুদকের বেশির ভাগ মামলায় আসামী খালাসের হার বাড়ছে। ওইসব ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করা হচ্ছে। দুদকের পক্ষে চেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। তিনি বলেন, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মামলাগুলোয় সাজার হার বেড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে ৪৯ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি। বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় বলে দাবি করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ