ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আইন এবং প্রয়োগ দুটোই সমান্তরাল চলতে হবে

জিবলু রহমান : [দুই]
দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন স্থানে নানা কৌশলে বাংলাদেশের ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। একদিকে দেশের অর্থ লুটের হিড়িক অন্যদিকে সুইস ব্যাংকে বাড়ছে বাংলাদেশীদের জমা হওয়া অর্থ। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি, বাংলাদেশ) বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে-এক সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ বা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে ৯০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়।  মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থ পাচার হয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়। কারণ বছরে যে ৯০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয় তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬% ওপরে।
 ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) অর্থ পাচার বিষয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার  পাচার হয় যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৭৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। পাচার হওয়া এই অর্থের পরিমাণ এর আগের বছরের চেয়ে ৩৪% বেশি। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চার ভাগের এক ভাগ। প্রায় ৮০ ভাগ অর্থই পাচার হয়েছে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেশি মূল্য ও পরিমাণ দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) ও রফতানির ক্ষেত্রে কম মূল্য ও পরিমাণ দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে। বাকি টাকা নানা প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে দেশের বাইরে চলে গেছে।
২০১৫ সালের জুন মাসে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক রিপোর্টে দেখা গেছে, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৪’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৪ সালের শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ৫০ কোটি ৬০ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত রয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ চার হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে সেখানে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার ১৬০ কোটি টাকা। যে পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে তার অল্পসংখ্যক সংবাদই দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের স্থিতি অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত বাংলাদেশের ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) চুরি হয়েছে। লুট হয়েছে শেয়ারবাজারের অর্থ। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অর্থ লুটে  নিতে পিছিয়ে ছিল না ডেসটিনি, যুবক থেকে শুরু করে ইউনিপে টুর মতো প্রতিষ্ঠান।
২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্য থেকে ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে রাজধানীর কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়।
১৩ নবেম্বর ২০১৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুটি কঠিন শর্তে ডেসটিনির দুই শীর্ষ ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেছে। আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, আবেদনকারীদেরকে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র হলফনামা আকারে দাখিলের পর তারা জামিন পাবেন। হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
২০ জুলাই ২০১৬ বিচারপতি মোঃ রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ডেসটিনির রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইনকে জামিন দেয়। শর্তের মধ্যে ছিল সংশ্লিষ্ট থানায় পাসপোর্ট জমা ও বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এই জামিন স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক। এর আগে ওই লিভ টু আপিলের শুনানিতে আপিল বিভাগ বলেছিল, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট সাহারা গ্রুপের কর্ণধার সুব্রত সাহারাকে জামিন দেয়নি। জনগণের টাকা পরিশোধের শর্তে তার জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে বলেছিল। ডেসটিনির কৌঁসুলির উদ্দেশ্যে আদালত বলেছিলেন, মামলার অভিযোগপত্রে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিন হাজার কোটি টাকা ফেরত দিন তাহলে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এরপর ডেসটিনির পক্ষ থেকে তাদের সম্পত্তির একটি হিসাব আদালতে দাখিল করে। ওই হিসাব প্রতিবেদনে ডেসটিনির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪ হাজার নয়শত ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন প্রকল্পের অধীনে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার একর জমিতে ৩৫ লাখ বিক্রয়যোগ্য গাছ রয়েছে। এগুলো বিক্রয় করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই গাছের বাজার মূল্য রয়েছে ৪ হাজার ২ শত কোটি টাকা। তবে এখনই তাড়াহুড়ো করে বিক্রয় করলে প্রতিটি গাছের মূল্য ৮ হাজার টাকা ধরে মোট মূল্য রয়েছে ২ হাজার ৮ শত কোটি টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৬৪৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ব্যাংকে রয়েছে ১৪৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা জব্দকৃত। কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ২৬৩ কোটি এবং পরিচালকদের সম্পত্তির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা।
শুনানিতে ডেসটিনির কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউ সি বলেন, হাইকোর্ট যে বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন তা যুক্তিসংগত। কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করেছে। সেই বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে এখানে অর্থ পাচারের মত কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। তিনি বলেন, ডেসটিনির কর্ণধাররা চার বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তাদের জামিন বহাল রাখা হোক।
জবাবে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, এই মামলায় আসামীরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা জবানবন্দীতে অর্থ পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। এছাড়া এই মামলায় বিচারিক আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। সাক্ষ্য গ্রহণও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের জামিন দেয়া ঠিক হবে না।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উপরোক্ত আদেশ দেয়। আদালতের শর্ত অনুযায়ী ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তাদের সৃজনকৃত বাগান থেকে ৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় শর্ত হিসাবে সরকারি কোষাগারে দিতে হবে নগদ ২ হাজার ৫ শত কোটি টাকা। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই দুই শর্তের একটি পূরণ করলেই ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন জামিন পাবেন।
সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ওই অর্থ ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেসব ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করতে দুদক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গাছ বিক্রির বিষয়ে রফিকুল ও মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ডেসটিনির সিইও মোঃ শামসুল হক এমপিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। (সূত্রঃ দৈনিক  ইত্তেফাক ১৪ নবেম্বর ২০১৬)
২০১২ সালের সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারিতে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারিতে অর্থ আত্মসাৎ করা হয় ১২০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয় আরও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। (সূত্রঃ দৈনিক দিনকাল ৮ এপ্রিল ২০১৬)
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন : জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দেশের জনগণের মানবাধিকার রক্ষার এক বড় আশা-ভরসারস্থল। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে এ কমিশন নিজেই অসহায়। সরকারের কাছে সুপারিশ আর তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া ছাড়া কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই কমিশনের। কেউ বা কোনো কর্তৃপক্ষ কমিশনের আদেশ না মানলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানাতে পারে তারা। কোনো সরকারি অফিসকে কমিশন থেকে কোনো কথা বললে তা ওই অফিসের জন্য পালন বাধ্যতামূলক নয়। আইনে বাধ্যবাধকতা নেই। নিজস্ব তদন্ত ক্ষমতার জন্য আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন। আর প্রবল রাজনৈতিক ইচ্ছা না থাকলে এটা হবে না।
তথ্য কমিশন : তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তথ্য কমিশন। এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট এনজিও’র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আইনেই এ কমিশনকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। কমিশনে নিয়োগ, তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে এর সীমাবদ্ধতা লক্ষণীয়। আইন জারির ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগের কথা থাকলেও দীর্ঘ প্রায় অনেক প্রতিষ্ঠানে এ নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটির ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। আইনের ৭ ধারায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে এ আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য না দিলে কারও বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে এ কমিশনের আইনে।
সুপ্রিমকোর্টের তদারকি সেল গঠন হয়নি : জনস্বার্থে দেয়া উচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশনার অধিকাংশই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রায় দেয়ার পর বছরের পর বছর এমনকি যুগ পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে এক রকম নির্বিকার সরকারের সংশ্লিষ্টরা। এমনকি আদালতের একের পর এক আদেশের পরও তা আমলে নিচ্ছে না তারা। এসব রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে প্রায় ১৫ বছর আগে সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃপক্ষকে একটি তদারকি সেল গঠন করতে অনুরোধ করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু অদ্যাবধি সেটি গঠিত হয়নি। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর  ২৪ জুন ২০১৬)
জনস্বার্থে দেয়া আদালতের রায় ও আদেশ ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃপক্ষকে একটি তদারকি সেল করতে অনুরোধ করেছিলেন হাইকোর্ট। এই রায়ে ফুটপাত অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় ‘জনস্বার্থে’ বেশ কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়। ২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি আবু সাঈদ আহাম্মেদ ও বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ওই রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ‘ভারতে জনস্বার্থে দায়ের করা মামলার রায় তদারকি করতে একটি সেল খোলা হয়েছে। একই ধরনের মামলায় দেয়া আদেশ বাস্তবায়নে যথাযথ দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেটি আমাদের দেশে হয়নি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি দয়া করে জনস্বার্থে দেয়া (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন) উচ্চ আদালতের রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন নজরদারি করতে একটি তদরকি সেল গঠনে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশনা দেবেন।’
ফুটপাত নিয়ে মূল আবেদনের বিষয়ে রায়ে বলা হয়, ঢাকা শহরে পথচারীদের ‘সহজ ও মুক্ত’ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘স্পষ্ট ও কার্যকর’ আইন থাকলেও বিবাদীদের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফুটপাতের ‘দরিদ্র’ হকারদের সরকার ক্রমান্বয়ে পুনর্বাসন করতে পারে বলেও রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।
ফুটপাত ও চলাচলের পথ পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্টদের আইনগত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যারিস্টার ওমর সাদাতের করা এক রিট আবেদনে ওই রায় দেয়া হয়েছিল। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয়নি। ফলে রায়টি সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। রায়ে জনস্বার্থ মামলার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল ১৫ বছর হয়ে গেলেও সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করেনি। ফুটপাথে পথচারীদের অধিকারও উপেক্ষিত রয়ে গেছে।’  [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ