ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম তানভীর : সারা বিশ্বে যতগুলো রাষ্ট্র আছে, তার মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য কোন উত্তম রাষ্ট্রকে বাছাই করতে হলে অবশ্যই সেটার নাম আসবে বাংলাদেশ। মুসলিম, হিন্দু (সনাতন), বৌদ্ধ, খৃস্টানসহ আরো অনেক ক্ষুদ্র ধর্মানুসারীর লোকজন এই ভূখণ্ডে শত শত বছর শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। এ ব্যাপারে রয়েছে এই ভূখণ্ডের হাজার বছরের ঐতিহ্য। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, মিডিয়ার অপপ্রচারের কারণে কেউ কেউ ভাবছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা অর্থাৎ অমুসলিমগণ নির্যাতনের শিকার। যেহেতু আমাদের বাংলাদেশে মুসলমান বেশি এবং আমাদের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এ কারণে অসচতেন কেউ কেউ ভাবছেন বাংলাদেশে সত্যই সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত। বাস্তবে এখানে সেটা ঘটছে না। এটাই হলো আসল সত্য। তবে হ্যাঁ, আ’লীগ নামক একটি দল বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন রয়েছে। তারা মাঝে-মধ্যে ক্ষমতার বাইরেও থাকে। ক্ষমতার বাইরে এবং ভিতরে যেখানে যে অবস্থায়ই আ’লীগ থাকুক না কেন। তাদের মধ্যে অমুসলিমদের নিয়ে মাঝে-মধ্যে বিশেষ ‘কার্ড’ খেলার প্রবণতা রয়েছে। আবার আমাদের দেশের অমুসলিমদের বড় একটি অংশ ওই আ’লীগকেই অন্ধভাবে ভালবাসে। অথচ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে অমুসলিমদের উপর যে হামলাগুলো হয়েছে তার পেছনে আ’লীগ ও তাদের সমর্থন রয়েছে। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো সত্য প্রকাশ করতে পারলে তারা এতটা বেপরোয়াভাবে সাম্প্রদায়িক বিশেষ ‘কার্ড’ খেলতে পারতো না এবং মানুষও সত্যটা জেনে যেত। ২০০১-২০০৬ সংসদে তৎকালীন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী বলেছিলেন ‘আ’লীগের কাছে হিন্দুদের ভোট ব্যাংক অথচ আ’লীগই হিন্দুদেরকে থাপ্পড় দেয়।’ আমরা যদি বাস্তবতা দেখতে যাই তাহলে দেখা যাবে গ্রাম থেকে শহরে যেখানেই কোন অমুসলিম অপমান অপদস্তের শিকার হচ্ছেন সেটা আ’লীগ দ্বারা হচ্ছেন। আমরা যদি দেখি, হিন্দুদের জমি-জমা কারো দখলে, তাহলে সেটার বড় অংশটিই দেখা যাবে আ’লীগের নেতাদের দখলে। এমনকি হিন্দুদের ঐক্যজোটের নেতাদের মুখেও এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও মিডিয়ার অপপ্রচারে সেসব ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আ’লীগের মধ্যে বড় একটা দুষ্টচক্র রয়েছে তাদের মাস্টারপ্ল্যানটাই হচ্ছে যখন তাদের বিরোধী আদর্শের লোকজনকে ঘায়েল করা প্রয়োজন হয়, তখনই ওই বিশেষ সাম্প্রদায়িক ‘কার্ডটি’ খেলতে নেমে যান।
অর্থাৎ তাদের মাধ্যমেই কোন অমুসলিমদের বাড়িঘরে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা চালানো হয় এবং এর দোষ চাপানো হয় বিরোধী আদর্শের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপর। এমনকি সরকারী ক্ষমতাবলে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীদেরও গ্রেফতার করে। টেলিভিশনে টকশো উপস্থাপনায় ডাকা হয় তাদেরকেই। তারা তখন অত্যন্ত নোংরাভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কয়েকটি হিন্দুবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এটার আয়োজনকারীও ওই ক্ষমতাসীন আ’লীগ সরকারের লোকজন। কিন্তু তারপরও তারা দুধে ধোয়া! তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। মিডিয়ার গালি নির্যাতিত-নিপীড়িত ওই বিরোধী আদর্শের লোকজনের ওপরই। সেখানে একজন মন্ত্রী অভিযুক্ত থাকলেও তিনি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এমনও বিশ্রি ঘটনা শোনা গেছে কোন হিন্দু যুবক গরুর গোস্ত মন্দিরে ছিটিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টিও করেছে। এই হিন্দুদের মধ্যেও কোন কোন উগ্রবাদী আমাদের দেশকে বার বার বিভিন্ন সমস্যায় ফেলতে চায়। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ টিভি টকশোতে এসে অত্যন্ত নোংরা কথা বলেন। একজন হিন্দু ধর্মানুসারী ব্যক্তি যিনি আ’লীগের রাজনৈতিক বিশেষ কেউ, তিনি টিভিতে এসে বিএনপি, জামায়াতকে প্রচুর গালাগাল করেন। আবার দেশকে ভালবাসারও প্রচুর কথা বলেন। তার সাথে গত এপ্রিল মাসে আমার দেখা হলো হযরত শাহ্জালাল (রহঃ) বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে। সৌজন্য কথাও হলো সামান্য। তিনি অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। তিনি সেদিন বরিশাল গেলেন বেসরকারি বিমানে। অথচ সেদিন বরিশালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটও ছিল। যদি তিনি দেশকে প্রকৃতই ভালোবাসতেন তাহলে তো বাংলাদেশ বিমানেই তিনি বরিশাল যেতেন। এতে সরকারি কোষাগার লাভবান হতো। অবশ্যই এর উত্তরে হয়তো তারা বলবেন, বেসরকারি বিমানের মালিকও তো বাংলাদেশী। আমি সেদিন বাংলাদেশ বিমানে যশোর গিয়েছিলাম।
সেটা যাইহোক। কোন হিন্দু বা অমুসলিম যে কোন ব্যক্তি কোন অফিসে চাকরি করে বা ব্যবসা-বাণিজ্য করে তিনি মুসলমানদের তুলনায় কম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন এমন বাস্তবতা বাংলাদেশে নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মুসলমানদের কাছে শান্তির ধর্ম। মুসলমানরা অশান্তি তৈরি করতে পারে না। যারা মুসলমান নামের কেউ এমন করছেন, তারা প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না।
 কোন মুসলিম শাসনামলে অমুসলিমরা অধিকার বঞ্চিত ছিলেন না। আমাদের মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) অমুসলিমদের সাথে সদাচারণ করতেন। তাদেরকে ভালবাসতেন। শ্রদ্ধা করতেন। স্নেহ করতেন। যদিও মালয়েশিয়া পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসনে চলছে না। তবুও সেখানে বলা যায়, কিছুটা ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম আছে এবং সেখানের শাসকও মুসলিম। ওই মালয়েশিয়াতে বহু অমুসলিমও বসবাস করেন। সেখানে ধর্ম-জাত নিয়ে কোন দাঙ্গা, ঝামেলা নেই। আমাদের দেশে তো থাকার কথাই না। কিন্তু বিশেষ দুষ্টচক্র এমন ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করছে। আর এতে কিছু ইন্ধনও জোগাচ্ছে প্রতিবেশী বৃহৎ একটি দেশের কিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তি এবং মিডিয়া। অথচ প্রতিবেশী বৃহৎ ওই দেশে প্রায় ৩০-৪০ কোটি মুসলমান চরম অধিকার বঞ্চিত। নির্যাতিত-নিপীড়িত। আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা বলাই যায় যে, এখানে প্রকৃতপক্ষে মুসলমানরাই নির্যাতিত-নিপীড়িত। কমসংখ্যক অমুসলিমই বিশাল দাপট নিয়ে এদেশে চাকরি করছেন, ব্যবসা করছেন। এই ভূখণ্ডে ধর্মীয় দাঙ্গা নেই, বিদ্বেষ নেই। যেগুলো হচ্ছে তা ক্ষমতাসীন দলে তাদের বিশেষ খায়েশ পূরণের জন্যই করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ