ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অপরাধীরা যেন রেহাই না পায়

ডা. মো. মুহিবুল্লাহ : বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশ হিসেবে স্বদর্পে সমুন্নত শিরে এগিয়ে চলার দেশ। সমগ্র বিশ্বের অমুসলিম সংখাগরিষ্ঠদেশে যখন সংখ্যালঘু মুসলিমরা অবর্ণনীয় পৈশাচিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হচ্ছিলো। তখন ও এদেশের মুসলমানরা চরম ধর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় বহন করে সাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্বের যে নজির স্থাপন করে চলছিল তা তামাম জাহানের বিবেকবানদের কাছে ছিলো দৃষ্টিনন্দন ও প্রশংসিত। কিন্তু হঠাৎ এ সুখ্যাতিময় পথচলা ২০২০ এর দশকে এসে এক শ্রেণীর অপরাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মুখে অঙ্কুরে বিনষ্ট হতে আরম্ভ করলো। এ পৃথিবীর সকল জীবনাদর্শের শ্রেষ্ঠ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস ঐতিহ্যধারী ও বিধান সম্বলিত একমাত্র ধর্ম ইসলামের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও এক শ্রেণীর রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল (মুনাফিকরা) তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরে উপরে পরিকল্পিত নারকীয় নিপীড়ন চালিয়ে পৃথিবীর মোড়ল রাষ্ট্রের কাছ থেকে ফায়দা লুটার অপচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করেছে। অথচ ইসলাম এ সকল দলিতদের সর্ববৃহৎ সুহৃদ ও নিরাপদ আশ্রয়দাতা হয়ে এ ধরাধামে আগমন করে থাকলেও এহেন মুনাফিকরা  সঠিক ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদেরকে তাদের বুকের জমিনেই আশ্রয়কেন্দ্র গড়িয়ে দিয়ার নামে তাদের কলিজা চিবিয়ে মজা ও লুটছে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে সফল ও হচ্ছে। এ দলিত সম্প্রদায় এখোন ঐ কুরুচিপূর্ণ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লালায়িত বলিতে পরিণত হয়েছে। জনতাকে এর প্রমাণ আমি আর কি দেখাবো। মাঠে-ঘাটে, হাটে, বাজারে, সর্বস্তরে জনতাইতো আমাকে প্রমাণ দেখায়। সাম্প্রতিককালে নাসির নগরের আলোচিত ঘটনা না হয় কাউকে স্মরণ নাই করানো লাগলো। যার জন্য একাধিক সরকারদলীয়  নেতা বহিষ্কৃত পর্যন্ত হয়েছেন। এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত তোপের মুখে পড়েছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রেসারে গলার পানিটুকুও শুকিয়ে গেছে।
ইদানীং প্রতিবেশীদের কানে পানিও যেতে শুরু করেছে যে, তারা অবশ্য নিজেদেরই স্বার্থে বাংলাদেশে যাদেরকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মদত দিয়ে যাচ্ছিল। তারা এখন তাদের অব্যাহত মদত পেয়ে যেতে তাদেরই স্বজাতিকে বালর পাঁঠায় পরিণত করে সে দোষ প্রতিপক্ষের উপরে চাপিয়ে চলছে। এ নাসির নগরের আগে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এমন ঘটনা নিত্যই ঘটেছে। সে সকল ঘৃণ্য ঘটনাকে বাংলার মানুষ ভুলে বসতে পারিনি। এইতো কয়টা দিন আগের কথা; প্রতিবেশী দেশের এমপি’র নেতৃত্বে আগত বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা পরিদর্শন প্রতিনিধি দল যারা আসল ঘটনা উদঘাটনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতীতই সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে আগমন করলেন। যাদেরকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে নিঃস্ব করে দেয়া হয়েছিলো। সে সময় সেখানকার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ও জনতা একবাক্যে বলেছেন তারা সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার। পটুয়াখালীতে ট্রলারে তুলে হিন্দু মা-মেয়েকে রাতভর পালাক্রমে গণধর্ষণ- সেখানেও সরকার দলের নেতাকর্মী। বিশ্বজিৎ হত্যাসহ দেশের যেখানেই অসংখ্য সংখ্যালঘু হত্যা এবং হিন্দুদের উপাসনালয় মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করেছে সেখানেই হাতেনাতে ধরা পড়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীরা। তারপরেও সরকার গণমাধ্যমকে করো তালুতে জিম্মি করে ঢালাওভাবে বিরোধীদল ও ইসলামি আন্দোলনকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে তাদের কাঁধেই দোষ চাপিয়ে চলেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এ চেতনা ফিরে আসার ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া আজ অনেক সহজ হয়েছে। তাছাড়া সরকার দলের এমপি-মন্ত্রীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের মুখ থেকে অনিচ্ছায় হলেও এমন কথা বের হয়ে আসছে যে ‘ফুলের মালা আমাকে না দিয়ে তাদের দেয়া উচিত, আমরা যাদেরকে পেশীশক্তি প্রয়োগ করে জঙ্গি সাজাচ্ছি। কারণ জঙ্গি ও সন্ত্রাস ধরতে আমরা যে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করছি। তাতে অস্ত্রধারী হিসেবে আমাদের ছেলেদেরকেই পাচ্ছি।”
এমতাবস্থায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা আল্লাহ্ ও তার রাসূলের (সাঃ) এর পক্ষ থেকে মুসলমান দের কাছে গচ্ছিত রাখা আমানত হওয়ায় এ দেশের আপামর মুসলিম জনসাধারণের প্রাণের দাবী এদেশে যারা খমতার রাজনীতি করতে সংখ্যালঘুদেরকে খায়েসের বলির পাঁঠায় পরিণত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে আবারও আমাদের এ প্রিয় দেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।
এমন কঠিন শাস্তির প্রত্যাশী এ জনগণ যে শাস্তি দেখে আর কারো বুকের পাটায় যেন এমন অপরাধ করার দুঃসাহস অঙ্কুরিত হতে না পারে। তবে কোনো স্বার্থান্বেষী যেন আসল অপরাধীদেরকে রেহাই দিয়ে নির্দোষদের শাস্তি দিয়ে এ অন্যায় কে দমনের পবিবর্তে আরো উৎসাহিত করা না হয়। এটাও জাতির চীর প্রত্যাশিত দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ